এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > প্রয়োজনে চেয়ারে বসিয়ে চা – গরিব চাষীদের কাছে রাজ্য সরকার কিভাবে দায়বদ্ধ জানিয়ে দিলেন খাদ্যমন্ত্রী

প্রয়োজনে চেয়ারে বসিয়ে চা – গরিব চাষীদের কাছে রাজ্য সরকার কিভাবে দায়বদ্ধ জানিয়ে দিলেন খাদ্যমন্ত্রী

লোকসভা ভোটের আগে রাজ্যের গরীব চাষীদের অবস্থা খতিয়ে দেখার কড়া নির্দেশ রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। প্রশাসনের নির্দেশ মতোই এদিন বিকেলে পুরশুড়ায় কিষাণ মান্ডিতে ধান ক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করতে আসেন রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ফড়েদের ধান বিক্রি করার ঘটনায় এলাকায় বিক্ষোভ এবং উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ কানে আসায় পুরশুড়ার অবস্থা খতিয়ে দেখতে আসেন মন্ত্রী।

ফড়েদের অনিয়ন্ত্রিত আচরণে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে মন্ত্রী বলেন, ফড়েদের বাড়বাড়ন্ত রাজ্যে চাষীদের সমস্যা সৃষ্টি করছে। তাই এদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশকে সাদা পোশাকে নজরদারি চালানোর কড়া নিদান দিলেন খাদ্যমন্ত্রী। এলাকা পরিদর্শক করার পর সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রীর জানালেন,ধান কেনার জন্যে প্রশাসন গরীর চাষীদের কাছে দায়বদ্ধ। তাই শুধুমাত্র চাষীদের থেকেই ধান কেনা হবে। প্রয়োজনে চাষীরা ধান বিক্রি করতে এলে তাঁদের চেয়ার বসিয়ে চা খেতেও দেওয়া হবে।

এছাড়া চাষীদের উদ্দেশ্য মন্ত্রী অনুরোধে ক্রয়কেন্দ্রে শুকনো ধান নিয়ে আসার দাবী করেন। কারণ নোংরা ধান আনলে তার জন্যে রাইস মিলাররা অসুবিধায় পড়েন। উল্লেখ্য,এদিন মন্ত্রী পুরশুড়া থেকে গৌরহাটির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে ফিরে মন্ত্রী ফের পুরশুড়া বিডিও অফিসে গিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গো বৈঠক করে কোলকাতায় ফিরে যান।

জেলা সূত্রের খবর, গোঘাট,পুরশুড়ার পর আরামবাগেও ধান ক্রয়কেন্দ্রে দাীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায় গৌরহাটি কিষাণমান্ডিতে। এখানো আগড়া বাবদ ধান থেকে অতিরিক্ত পরিমান বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে চাষীরা বিক্ষোভ দেখান৷ এর জেরে এদিন সকালে আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গুনধর খাঁড়া ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদস্বরূপ ধানক্রয়কেন্দ্রের সামনে গামছা পেতে শুয়ে পড়েন।

শুধু তাই নয়,এই সমস্যা না মিটলে অনশনে বসারও হুমকি দেন। এরপর পুলিশবাহিনী সহ আরামবাগের বিডিও বিশাখ ভট্টাচার্য গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটবার পরিপ্রেক্ষিতে সভাপতি ধানের আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র বসিয়ে ধান কেনার প্রক্রিয়া চালানোর দাবী জানিয়েছেন।

ধান ক্রয় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা খাদ্য দপ্তরের পারচেজ অফিসারকে সেখান থেকে পুলিস বিক্ষোভের মুখ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে অন্য কর্মী নিয়োগ করে পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়। এই ঘটনার খবর কানে আসায়
মহকুমার পুরশুড়া ও গৌরহাটি কিষাণ মান্ডি পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তবে ধান থেকে অতিরিক্ত বাদ দেওয়ার অভিযোগ অবশ্য মেনে নেননি আরামবাগের খাদ্য এবং সরবরাহ দপ্তর।

এদিন মন্ত্রী পুরশুড়ায় ক্রয় কেন্দ্রে এসে চাষী এবং রাইস মিলারদের সঙ্গে কথা বলেন,তাদের অভিযোগের কথা শোনেন। তার প্রেক্ষিতেই পুরশুড়ার এক চাষী নরোত্তম সামন্ত ধানকেন্দ্র ময়েশ্চার মাপার যন্ত্র থাকলেও ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগ জানান। তারপরই মন্ত্রী মেশিন দিয়ে ধান মাপার নির্দেশ দেন। অপর এক চাষী প্রতাপ দন্ডপাট জানান,সোমবার ধান বিক্রি করার জন্যে কিষান মান্ডিতে এসে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। ধান বিক্রি করতে পারলও কুইন্ট্যাল প্রতি ১০ টাকা কেজি করে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদেও মন্ত্রীকে অভিযোগ জানান তিনি।

চাষীদের একটাই দাবী,সঠিক গুনগত এবং পরিমানগত মান বিচার করে ধান থেকে আর্দ্রতা বাদ দেওয়া হোক৷ বেশি ধান বাদ দিলেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে চাষীদের। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সক্রিয়তাই কাম্য তাদের মতে। অন্যদিকে মন্ত্রী গৌরহাটিনক কিষাণমান্ডিতো গিয়েও ধান ক্রয় কেন্দ্রের চাষী ও আধিকারিকদের সঙ্গো কথা বলেন। সেখানে ধান থেকে কতোটা এবং কীভাবে ময়েশ্চার বাদ দেওয়া হচ্ছে সেটাও খতিয়ে দেখেন।

এদিন মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েই জানান,কেন্দ্র সরকার ধান কেনার প্রক্রিয়ায় রাজ্যসরকারকে কোনোরকম সাহায্যই করে না। রাজ্যসরকারকে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই কাজ করতে হয়। তাই এই প্রক্রিয়ায় কোনোরকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। তাই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে হুগলির জন্য আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিক নিয়োগ করা হবে বলেই জানান তিনি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এছাড়া হুগলিী খাদ্য নিয়ামকের সাসপেন্ড হওয়ার ঘটবায় মন্ত্রী বলেন, ‘সিঙ্গুরের চাষিদের কুপন দেওয়ার পিছনে আমরা এক কর্মীর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তদন্ত করে জানতে পেরেছি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্য নিয়ামককে অবিলম্বে মুক্ত করা হবে।’

Top
Close
error: Content is protected !!