এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > স্কুল চলাকালীন এই কাজটি আর করতে পারবেন না! শিক্ষকদের জন্য কড়া নির্দেশিকা সামনে এল!

স্কুল চলাকালীন এই কাজটি আর করতে পারবেন না! শিক্ষকদের জন্য কড়া নির্দেশিকা সামনে এল!

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুলের পঠনপাঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা মহলের তরফ থেকে নানান রকম প্রশ্ন করা হচ্ছিল। এবার স্কুলের পঠন পাঠনের মানোন্নয়নের জন্য এবং শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু নতুন এবং কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শিক্ষা দফতরকে। শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে আসা নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একদিকে যেমন স্কুলপড়ুয়াদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, তেমনই ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মোবাইল ফোনে উঁকিঝুঁকি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়েই নয়, স্কুলের নিত্যনৈমিত্তিক পঠন-পাঠনের ক্ষেত্রেও বাঁধাধরা নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে স্কুলকে চালানোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে। নতুন সেই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রত্যেকটি সরকারি স্কুলে পঠন-পাঠনের জন্য দশটা 50 মিনিট থেকে চারটে 50 মিনিট পর্যন্ত সময়সীমা বরাদ্দ করা হয়েছে।

এছাড়াও স্কুলের বিরতির জন্য 1:30 সময়কে ধার্য করা হয়েছে। বিরতির আগে পর্যন্ত চারটে পিরিয়ড হবে। যার সময়সীমা 40 মিনিট করে হবে। আবার বিরতির পরে চারটে পিরিয়ড হবে। যার সময় সীমা 35 মিনিট পর্যন্ত হবে। পড়ুয়ারা স্কুলে কোনো রকম ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্লাস চলাকালীন ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। যদি কোনো আবশ্যক প্রয়োজন বশত শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেই হয়, সেক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধানের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি পত্র নিতে হবে।

এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রত্যেককেই সকাল 10:40 এর মধ্যে স্কুলে আসতে হবে। সকলকে প্রার্থনাতে অংশগ্রহণ করতে হবে। যদি কোনো কারণে কেউ ক্লাস শুরু হওয়ার দশ মিনিটের মধ্যে স্কুলে না ঢুকতে পারে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দিনের জন্য সেই ব্যক্তিকে অনুপস্থিত বলে গণ্য করা হবে। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদেরকে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও বেশ কিছু নিয়ম বিধি মেনে চলতে হবে বলে শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

পঠন-পাঠনের পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উৎসাহিত করার দায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরকে। এক্ষেত্রে তাদের মনোবল বাড়িয়ে বিভিন্ন রকম গঠনমূলক কাজে তাদের উৎসাহ বৃদ্ধি করতে হবে। বস্তুত, স্কুলের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা অনুরাগে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম উল্লেখ্য, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহার। যার সরাসরি প্রভাব ফেলেছিল ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি।

এতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে উদাসীন এবং মোবাইল ফোনের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে পড়ার মত ঘটনা সামনে আসছিল। এছাড়াও অনেক সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে পিরিয়ডের সময় শেষ হওয়ার আগেই শ্রেণীকক্ষ ত্যাগ করে চলে যাওয়ার মত ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জানা যাচ্ছে, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই ধরনের অভিযোগগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেন।

তারপরে এই সংক্রান্ত বিষয়ে বাইশ পাতার নির্দেশিকা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পাঠানো হয়। গত 9 ডিসেম্বর নির্দেশিকার উপরে স্বাক্ষর করে সরকারি সীলমোহর দিয়ে পঠন পাঠনের ক্ষেত্রে নতুন বিধি চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, শিক্ষাঙ্গন যদি নির্দিষ্ট অনুশাসনের মধ্যে না থাকে, তাহলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ফাঁকিবাজির ঘটনা কখনই কমবে না।

যার কারণে দেশের ভাবি প্রজন্ম শিক্ষার গুরুত্ব থেকে দূরে সরে যেতে পারে। সেই কারণে বিদ্যালয়গুলিতে যেন প্রকৃত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে ওঠে, সেই কারণেই শিক্ষা দপ্তরের এই বিশেষ নীতি শিক্ষাপ্রদান। এখন সবকিছু মিলিয়ে 22 পাতার নতুন ওই বিজ্ঞপ্তি কতটা পরিবর্তন আনতে পারে স্কুলগুলির মধ্যে! সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!