এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > আদালতে বড় ধাক্কা রাজ্য সরকারের, খুশির হাওয়া সরকারি কর্মচারীদের

আদালতে বড় ধাক্কা রাজ্য সরকারের, খুশির হাওয়া সরকারি কর্মচারীদের

আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে সরকারি কর্মচারী তথা ভোটকর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিজেপি প্রভাবিত সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীলের করা কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন। এই মামলার আগের দিনের শুনানিতে রাজ্য সরকার বা নির্বাচন কমিশনের তরফে কেউ উপস্থিত না থাকলেও আজ রাজ্য সরকারের তরফে ডিআইজি অনুজ শর্মা ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে সচিব নীলাঞ্জন শান্ডিল্য উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে চলা এই মামলায়। শুনানির শুরুতেই দেবাশিসবাবু বলেন, আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্য সরকার যে বাহিনীর কথা বলেছে তাতে দেখা যাচ্ছে এমনিতেই ১০-১২ হাজার বুথে সিভিক ভলান্টিয়ার বা লাঠিধারী পুলিশ থাকবে। তাছাড়াও,ভিআইপিদের প্রহরা ও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও অনেক পুলিশ কর্মীকে ব্যবহার করতে হবে, পঞ্চায়েত নির্বাচন তো থানা খালি করে করা সম্ভব নয়। সবমিলিয়ে নিরপেক্ষভাবে ভোট পরিচালনা করার মত জায়গায় নেই সরকারি কর্মীরা।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

দেবাশিসবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতে বলতে উঠে ডিআইজি অনুজ শর্মা জানান, দেবাশিসবাবু যে তথ্য আদালতের কাছে দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ ভুল, পঞ্চায়েত নির্বাচন সঠিক ও সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বাহিনী দেওয়ার ক্ষমতা রাজ্য সরকারের আছে। সেক্টর অফিসে বাহিনী থাকবে, সেখান থেকে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঘটলে তা সামাল দিতে প্রয়য়োজনীয় বাহিনী পৌঁছে যাবে। জবাবে, দেবাশিসবাবু তীব্র প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, অনুজবাবুর কথায় আমরা আদৌ আশ্বস্ত হতে পারছি না, ওনার বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের কোনো যোগই নেই। বুথে লাঠিধারী পুলিশ রাখাও যা, না রাখাও তা। আর সেক্টর অফিস থেকে বাহিনী এসে অবস্থা সামাল দেওয়ার আগেই অনেক বড় অঘটন ঘটে যেতে পারে। ঐভাবে নির্বাচন করা যায় না। বুথে বুথে সশস্ত্র বাহিনী না থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অসম্ভব। রাজ্যের ৫৮ হাজার বুথে নির্বাচন পরিচালনা করতে ২ লক্ষ ৩২ হাজার ভোট কর্মী লাগবে, এই আড়াই লক্ষের কাছাকাছি পরিবার আজ ভীত ও সন্ত্রস্ত। দেবাশিসবাবুর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ডিআইজি অনুজ শর্মাকে বলেন, আপনারা ব্যাপারটা নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবুন। সরকারি কর্মচারীদের উপর মানসিক বা শারীরিক – সবরকমের হেনস্থা হয়। কোনো লাঠিধারী পুলিশ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সশস্ত্র বাহিনী ছাড়া কিভাবে সুরক্ষিত ভাবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যাবে? রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা যাঁরা ভোটকর্মী হিসাবে কাজ করবেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের নন, তাঁদের যথাযথ সুরক্ষার ব্যবস্থা করতেই হবে। কোনোভাবেই তাঁদের সুরক্ষার প্রশ্নে সমঝোতা করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্যের হাতে যদি পর্যাপ্ত বাহিনী থাকে যথাযথ সুরক্ষা দেওয়ার জন্য, তা যেন এফিডেফিট করে আদালতকে জানানো হয়। প্রতি বুথে কতজন সশস্ত্র বাহিনী দেওয়া হবে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ আদালতকে জমা দিতে হবে, সেই তথ্য পাওয়ার পর তবেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৪ ঠা মে, সে সময়ে এইসব তথ্য আদালতকে জানাতে হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দেবাশিসবাবু বলেন, নির্বাচন ১৪ তারিখ, অর্থাৎ ১৩ তারিখের মধ্যে ভোটকর্মীদের নির্বাচনী দায়িত্ত্ব বুঝে নিতে হবে, ৪ তারিখে যদি এই মামলার কোনো ফলাফল না হয় তাহলে কিভাবে ভোটকর্মীরা সুরক্ষার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হবেন। জবাবে বিচারপতি জানান, সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত নাহলে প্রয়োজনে ৪ তারিখের পর প্রত্যেকদিন শুনানি হবে। নির্বাচনের কাজে অংশগ্রহণকারী সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো রকম সমঝোতা করা হবে না, রাজ্যকে তা সুনিশ্চিত করতেই হবে। এরপর দেবাশিসবাবু আদালতকে জানান, আমরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে ছিলাম, নির্বাচনের কাজে অংশগ্রহণ করে কোনো সরকারি কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর জন্য ১০ লক্ষ টাকার বীমা ও কেউ গুরুতর আহত হলে তাঁর জন্য ৫ লক্ষ টাকার বীমার ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচন কমিশন কথা দিলেও, এখনও এই নিয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি দেয় নি। বিচারপতি তখন নির্বাচন সচিব নীলাঞ্জন শান্ডিল্যর কাছে এই বিষয়ে জানতে চান, কেন তা এখনো জারি করা হয় নি? জবাবে নীলাঞ্জনবাবু জানান, কমিশন শীঘ্রই এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!