এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > এবার রাজ্য সরকারের ঘুম ওড়াতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি

এবার রাজ্য সরকারের ঘুম ওড়াতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীর্তির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই সরব এসটিইএ। তবে এবার এই ইস্যুতে রাজ্যসরকারের চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রতিবাদ জানতে ফের আন্দোলনের পথে হাঁটল মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী ( STEA)। সঙ্গে ফোর্স ট্রান্সফার বাতিল করে অবিলম্বে ”ট্রান্সফার অন অ্যাপ্লিকেশন” (GT) র ব্যবস্থা, কথা অনুযায়ী বিএডজনিত কারণে বন্ধ ইনক্রিমেন্টের এরিয়ার চালু করা, প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেনি অব্দি পাশ-ফেল চালু, টেস্টের প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্দেশনামা বাতিল, ডি আই  অফিসে কাজের স্বচ্ছতায় পরিদর্শককে ডেপুটেশন দিল STEA। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষকরা আলিপুরের নিউ অ্যামিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিং চত্ত্বরে একটি ছোটখাটো প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। এরপরই সমিতির প্রতিনিধিরা দল বেঁধে ডি আই এর সঙ্গে দেখা করতে যান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন জেলা সভাপতি পঞ্চানন ময়রা, জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার , কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধক্ষ্য  উৎপল কুমার  মন্ডল , জেলা সহ সম্পাদক বামদেব হালদার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অতীন্দ্র নাথ হালদার , কাকদ্বীপ মহকুমা সম্পাদক ঝন্টু মাইতি ও ডায়মন্ডহারবার মহকুমা সম্পাদক পুলক বসু প্রমুখরা।

ডেপুটেশান শেষ হলে জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার জানান,রাজ্যের ৫৭০ জন  হবুশিক্ষকেরা চাকরি পেয়েও সমস্যা মেটেনি তাঁদের। কাউন্সিলিং এ পাওয়া স্কুলগুলিতে গিয়ে দেখে সেই স্কুলে উল্লিখিত পোস্টের কোনো অস্তিত্ত্বই নেই। শিক্ষাদপ্তরের এই চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য ডি আই মারফৎ প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অবলম্বে এই সমস্যা সমাধানে দাবী জানানো হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাদপ্তরের নির্দেশ মেনেই পঞ্চায়েত ভোটের আগে তড়িঘড়ি করে এবছরের ২১ ফেব্রুয়ারি, জেলা ডি আই অফিস বিজ্ঞপ্তি জারি করে বি এড জনিত কারণে ইনক্রিমেন্ট বন্ধ হওয়া শিক্ষকদের তা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য এরিয়ার হিসেব করে জমা দিতে বলা হয়। এই দাবিতে  বহুদিন ধরেই সরব রয়েছে  STEA।  কিন্তু পঞ্চায়েত ভোট মিটে যাওয়ার পর রাজ্যসরকারকে এরিয়ার নিয়ে আরো মাথা ঘামাতে দেখা যায় না। এরিয়ার সংক্রান্ত একগুচ্ছ কাগজ পত্র স্তূপ হয়ে পড়ে রয়েছে ডি আই অফিসে। এসব মিটিয়ে দেওয়ার দাবীর পাশাপাশি আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাশ-ফেল চালু করা সহ ২২ দফা দাবীতে ডেপুটেশান দেওয়া হয়েছে। এবং এই দাবী পূরণ না হওয়া অব্দি তীব্র  আন্দোলন চলবে বলেই রাজ্যসরকারকে হুঁসিয়ারী দিলেন জেলা সম্পাদক।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

ডি আই নজরুল হক সিপাহী  STEA এর দাবীদাওয়া গুলো গুরুত্ব সহকারেরই শুনলেন এদিন। তিনি বিএড জনিত কারণে স্টপ ইনক্রিমেন্টের বন্ধ হওয়া এরিয়ার  যাতে অবিলম্বে শিক্ষকরা পান তার জন্য যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দেন। প্রথম শ্রেণি থেকে পাশ-ফেল ফিরিয়ে আনার দাবির সাথে তিনি  STEA-কে সমর্থন করলেন।  ই-পেনশন ও ডি আই অফিসের অন্যান্য কাজে গতিশীলতা এবং স্বচ্ছতা আনার ক্ষেত্রে বেশকিছু কর্মচারীর ভোটের কাজে নিযুক্ত থাকাকেই কারণ হিসাবে তুলে ধরলেন। তবে ঘুষের মাধ্যমে অফিসে ফাইল এগোনো কে তিনি কোনভাবে মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তবে লোকসভা ভোটের আগে STEA-এর এই দাবীদাওয়া গুলোতে রাজ্যসরকার এবার গুরুত্ব দেবে বলেই আশা করছে শিক্ষকমহল। এই মুহূর্তে রাজ্যে শিক্ষকদের কোপে মুখে পড়তে একদমই রাজি নয় রাজ্যসরকার। ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে এ ব্যাপারে অতি দ্রুতই কোনো সদর্থক পদক্ষেপ নবান্ন কর্তাদের তরফ থেকে নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর যদি তা না হয় তবে আন্দোলনে নামবে এই সংগঠন বলেই জানা গেছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!