এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রাজ্য সরকারের ঘুম উড়িয়ে দলে দলে সরকারি চাকরি ছাড়ছেন ডাক্তাররা

রাজ্য সরকারের ঘুম উড়িয়ে দলে দলে সরকারি চাকরি ছাড়ছেন ডাক্তাররা

চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়া ও অবসর নেওয়া সরকারি ডাক্তারদের তালিকা স্বাস্থ্যভবনে আসতেই মাথায় হাত পড়ল স্বাস্থ্যদপ্তর কর্তাদের। এরা সকলেই ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন। পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে হেল্থ সার্ভিসের আওতাধীন সরকারি ডাক্তারদের সংখ্যা ছিল ৬২৫০ জন। সেখান থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে এখনো অব্দি ২৪২ জন চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছেন এবং ২২৪ জন কোনো রকম কোনোনো নোটিশ না দিয়েই সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে হঠাৎই। সরকারি খাতায় মাসের পর মাস তাঁদের নামের পাশে লেখা জমা হয়েছে ‘আনঅথরাইজড্ অ্যাবসেন্ট’।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আবার এসব অবসর নেওয়া এবং হঠাৎ করে চাকরি ছেড়ে দেওয়া সরকরি ডাক্তারদের অজুহাতও আছে অগুন্তি। কম বয়সী ডাক্তারেরা টিআর রুলস বা ট্রেনি রিজার্ভ নিয়ম নিয়ে বিতর্কের কথা বলেন সবসময়ই। তাঁরা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেনই সার্ভিস কোটায় উচ্চশিক্ষার সু্যোগ পাওয়ার জন্যে। আর এবার তো টিআর নিয়ে এমন কড়াকড়ি চললো যে আদালতের দোরগোড়ায় গিয়ে দাঁড়াতে হল ১০৫ জন তরুন সরকারি ডাক্তারকে। সে মামলা আজও ঝুলে আছে। এছাড়াও রয়েছে নিরাপত্তার অভাব,হামলা, বিভিন্ন রাজনীতি প্রধান এলাকায় নেতাদের উপদ্রপের অভিযোগ, সঠিক প্রক্রিয়ার বদলি ব্যবস্থা না করা। যদি উপরিমহলের সঙ্গে হাত থাকে তবে হয়তো ভালো জায়গায় বদলির সম্ভাবনা আছে, নয়তো বছরের পর বছর ধরে বাড়ি থেকে একই জায়গায় অস্বস্তি ভোগ করা। এছাড়া ডিউটি রোস্টারের নামে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা এবং প্রাকটিসএ ডাক্তারদের সবসময় চাপে রাখা। এর পাশাপাশি অবসরের বয়স বাড়ায় অসুস্থ্যতা, অতিরিক্ত চাপে কাজ করা, অল্প সময়ে অতিরিক্ত রোগী দেখার প্রেসার। এছাড়া সরকারি ডাক্তারের একাংশ আবার তাঁদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগও তুলেছেন উপরিমহলের কর্তাদর বিরুদ্ধে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপস্বাস্থ্য অধিকর্তা (প্রশাসন) ডাঃ হরেকৃষ্ণ চন্দ জানান যে বসে যাওয়া ডাক্তারদের ফিরিয়ে আনার জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানাবেন তিনি। আর যদি অনুরোধে কাজ না হয়,নিতে হবে বিভাগীয় শাস্তি ব্যবস্থা। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী বলেন, বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েই তবে তিনি বলতে পারবেন। এসইউসিপন্থী ডাক্তার সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরাম-এর সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সজল বিশ্বাস আবার এসবের বিরুদ্ধে সরব হয়ে জানান যে বলেন, ভয় দেখিয়ে জোরজবরদস্তি করে ডাক্তারি করানো সম্ভব নয়। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের সভাপতি ডাঃ রেজাউল করিম বলেন, আসলে চিকিৎসকের মতো সম্মানীয়য় পেশার গরিমাটাকে স্বাস্থ্যভবনের আমলাদের একাংশ ধুলিসাৎ চেষ্টা করছেন। তাই আজ এরকম অবস্থা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল প্রভাবিত ডাক্তার সংগঠন পিডিএ’র অন্যতম রাজ্য সম্পাদক ডাঃ সাক্ষীগোপাল সাহা আবার বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন যে, রোগীদের স্বার্থে সরকার কিছু নিয়ম চালু করতে চাইছে। সেটাই ফাঁকিবাজ ডাক্তারদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর সঙ্গে গোটা সরকারি ডাক্তারসমাজকে মেলালে চলবে না।

উল্লেখ্য, যারা স্বেচ্ছায় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছেড়ে চলে গেছে তাঁদের ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই বলেই ধরে নেওয়া ভালো। তালিকার বাকি ১৮ জনের ভিতর তো ১২ জন পদত্যাগ করেছেন, তা গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে। ৬ জন আবার অবসরও নিয়ে নিয়ে নিয়েছেন। তবে মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসের তালিকা তৈরি হলে বসে যাওয়া ও পদত্যাগ করা ডাক্তারদের সংখ্যা আরো বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যদপ্তর কর্তারা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!