এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তৃণমূলে কি ভাঙন ধরছেই? একগুচ্ছ অস্বস্তিকর প্রশ্নের সঙ্গে জল্পনা বাড়িয়ে দিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূলে কি ভাঙন ধরছেই? একগুচ্ছ অস্বস্তিকর প্রশ্নের সঙ্গে জল্পনা বাড়িয়ে দিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রিয় বন্ধু মিডিয়া এক্সক্লুসিভ – আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের শেষ বর্ধিত কোর কমিটির বৈঠক ছিল – প্রত্যাশা মতোই দলীয় নেতা কর্মীদের আবার ‘৪২ এ ৪২ করতে হবে’ ভোকাল টনিক দিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরও প্রত্যাশিত পথেই – তীব্র বিজেপি বিরোধিতা এবং সর্বোপরি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা করে দলীয় নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করলেন আগামীদিনে বাংলার গন্ডি ছাড়িয়ে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়বে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ‘ভ্যানিশ’ হয়ে যাবে বিজেপি। তবে, কবে ও কোন পথে তৃণমূল কংগ্রেস সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়বে সেই দিশা অবশ্য আজকের বক্তব্যে ছিল না।

শুধু, মাঝে বুড়ি ছোঁয়ার মত ‘সিপিএম-কংগ্রেস ভাই-ভাই’ বলে জোটের তাৎপর্যও যে আছে, সে বার্তাও দিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু, তাঁর বক্তব্যের শেষে, সব ছেড়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র গুঞ্জন ‘দল ভাঙানোর’ কথা নিয়ে। এতদিন, যে কথাটাকে নিছক জল্পনা বলে উড়িয়ে দিচ্ছিলেন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্লা দিয়ে তর্ক করছিলেন ঘাসফুল শিবিরের সমর্থকরা – আজকের দলনেত্রীর বক্তব্যের পর, সেই আশঙ্কাই আরও জেঁকে বসল তাঁদের উপর। দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চলছে? কে কে রয়েছেন ‘টার্গেট’ লিস্টে? সত্যিই কি দলীয় নেতারা গেরুয়া শিবিরের দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন? – এইসব প্রশ্নই ঘুরছে ঘাসফুল শিবিরের সমর্থকদের মধ্যে। আর তার উপর ফেসবুকের বিভিন্ন কমন গ্রূপে ঘুরলে – আরও স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে গেরুয়া সমর্থকদের খুঁচিয়ে দেওয়া কিছু প্রশ্ন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

বক্তব্যের একটা মোক্ষম সময়ে তৃণমূল নেত্রী জানান, ফোন করে বিভিন্ন নেতাকে বলছে চলে আয় (নাম না নিলেও জল্পনা ছড়িয়েছে তৃণমূল নেত্রী বোধহয় দলত্যাগী নেতা মুকুল রায়ের দিকেই ইঙ্গিত করছেন), কত টাকা লাগবে? এত টাকা কোথা থেকে আসছে? টাকা দিয়ে দল ভাঙাচ্ছে বিজেপি, টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনা বেআইনি। ঝামেলা করার জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে, ট্রেনে করে টাকা নিয়ে আসা হচ্ছে। এর পাশাপাশিই, তিনি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট পাওয়া প্রসঙ্গে যা বলেন তার সারমর্ম – টিকিট নিয়ে ভাবতে হবে না, প্রার্থী ঠিক করবে দল। তবে যাঁরা বাদ যাবেন তাঁদের যথাযোগ্য গুরুত্ব ও মর্যাদা দেওয়া হবে। অর্থাৎ, একটি ব্যাপার স্পষ্ট গতবারের বিজয়ীরা সকলেই টিকিট পাচ্ছেন না – ফলে, জল্পনা আরও তীব্র, কোপ পড়তে চলেছে কোন কোন নেতা-নেত্রীর উপর? তৃণমূলের টিকিট না পেলে কি এঁরা পা বাড়াবেন গেরুয়া শিবিরে?

আর তৃণমূল নেত্রীর এই কথা অনুযায়ী স্পষ্ট, তৃণমূলের অনেকের কাছেই তাহলে ‘অফার’ আছে এবং সেই অনুযায়ী বেশ কয়েকজন দলও ছাড়তে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে, যাতে তাঁরা দল না ছাড়েন, তাই কি ‘যথাযোগ্য গুরুত্ব ও মর্যাদার’ প্রসঙ্গ উত্থান করলেন তিনি? উঠছে সেই প্রশ্নও। তাছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে গেরুয়া সমর্থকদের স্পষ্ট প্রশ্ন – রাজ্যের পুলিশ ও গোয়েন্দা মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রীর হাতে। যদি ট্রেনে করে টাকার আসার খবরই থাকে তাঁর কাছে তাহলে তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? নাকি, এই টাকা চলে আসার পর তাঁর পুলিশ ও গোয়েন্দা দপ্তর খবর পাচ্ছে! সবমিলিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমন করতে গিয়ে – বেশ কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নকেই সামনে নিয়ে চলে এলেন তৃণমূল নেত্রী বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা। এখন দেখার তাঁর আশঙ্কাকে সত্যি করে সত্যিই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ধরে কিনা!

Top
error: Content is protected !!