এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > শোভন-বৈশাখীর সঙ্গে শঙ্কুর সৌজন্য বৈঠকের ‘রহস্য’ ফাঁস হল অবশেষে! খুশির হাওয়া গেরুয়া শিবিরে

শোভন-বৈশাখীর সঙ্গে শঙ্কুর সৌজন্য বৈঠকের ‘রহস্য’ ফাঁস হল অবশেষে! খুশির হাওয়া গেরুয়া শিবিরে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়া এক্সক্লুসিভ – গতকাল সন্ধ্যে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু। সেই ছবিতে ‘বিদ্রোহী’ বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়, তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক ফ্রেমে দেখা যাচ্ছিল দাপুটে আরেক বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডাকেও। আর সেই ছবির সঙ্গে একটি লেখা ঘুরছিল – যেখানে দাবি করা হচ্ছিল, কোনো এক তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে এই ত্রয়ীর গোপন বৈঠক হয়েছে। ফলে, শোভনবাবুর দেখানো পথেই নাকি এবার তৃণমূলে ফিরতে চেলছেন শঙ্কুদেব পাণ্ডাও।

শোভনবাবু অনেক ‘অভিমান’ নিয়ে, তৃণমূল ছেড়ে গত ১৪ ই আগস্ট দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেন। কিন্তু তার পর থেকেই একের পর এক বিতর্ক শুরু হয়। শোভন-বৈশাখী জুটির সঙ্গে ক্রমশ দূরত্ত্ব বাড়তে শুরু করে গেরুয়া শিবিরের। এরপর, সবাইকে অবাক করে দিয়ে, গত ভাতৃ দ্বিতীয়ার দিন, ছেড়ে আসা দল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফোঁটা নিতে যান শোভন-বৈশাখী জুটি।

আর তারপর থেকেই, রাজ্য-রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা – গেরুয়া শিবিরের ছোট্ট ইনিংস শেষ করে শোভনবাবু আবার নাকি তৃণমূলে ফিরছেন। তৃণমূল নেত্রীও, সব রাগ-অভিমান ভুলে ‘আদরের কাননকে’ দলে ফিরিয়ে নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ফিরিয়ে দিতে চলেছেন রাজ্যের মন্ত্রীত্বও! এদিকে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় সমস্ত সাংসদ-বিধায়ককে নিয়ে একটি বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন। জল্পনা ছিল – আজই তৃণমূলে ফিরে যাচ্ছেন শোভনবাবু।

আর তার ঠিক আগেই শঙ্কুদেবের সঙ্গে বৈঠকের, পরে জল্পনা ছড়ায় তিনিও এবার নাকি তৃণমূলে ফিরছেন। এইরকম একটি বিতর্কিত জল্পনা সামনে আসায়, এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডা নিজে কি বলছেন তা জানার চেষ্টা করা হয় প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার তরফে। কিন্তু, উপনির্বাচনের কাজে অসম্ভব ব্যস্ত থাকায় সকাল থেকে বারবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায় না। অবশেষে ঘন্টা তিনেকের চেষ্টার পর ধরা গিয়েছিল গেরুয়া শিবিরের দাপুটে এই যুব নেতাকে। তাঁর তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরার জল্পনা নিয়ে সরাসরি কথা হল এক্সক্লুসিভলি প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার সঙ্গে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এই ব্যাপারে শঙ্কুদেব পাণ্ডার সঙ্গে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার এক সাংবাদিক বন্ধুর নিমন্ত্রনে তাঁর বাড়িতে জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে গিয়েছিলাম। তাঁর সঙ্গে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমার জানা নেই। তবে, তাঁর কোনো জ্ঞাতি বা আত্মীয় হয়ত তৃণমূল করতে পারেন, যিনি হয়ত ওই পূজায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু, আমি কোনো তৃণমূল নেতা বা নেত্রীর বাড়ির পুজোতে যাই নি।

কিন্তু, সেখানে তো আপনার সঙ্গে একসঙ্গে শোভনবাবু বা বৈশাখীদেবীকে দেখা গেছে? শঙ্কুদেবের উত্তর, একটি পূজায় গিয়ে দেখি শোভনদা ও বৈশাখীদি রয়েছেন, আমি কি তাহলে মুখ ঘুরিয়ে চলে আসব? সৌজন্য সাক্ষাৎ করব না? তাছাড়া যতদূর জানি, শোভনদা বা বৈশাখীদি এখনও কোথাও সরকারিভাবে বলেননি আমরা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছি। তাহলে, আমি যে দলটা করি (বিজেপি), সেই দলেরই অন্য দুই নেতা-নেত্রীর সঙ্গে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা হওয়ার মধ্যে অন্যায় কোথায়?

কিন্তু, আপনাকে নিয়ে তো তীব্র জল্পনা, আপনি নাকি তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরত যাচ্ছেন? আর তাই শোভনবাবু ও বৈশাখীদেবীর সঙ্গে এক জায়গায় হাজির ছিলেন আপনি? শঙ্কুদেবের উত্তর, আমাকে নিয়ে ‘প্রি-জাজমেন্টাল’ হবেন না! সময় দিন, সিদ্ধান্ত বদলাবে! কিন্তু, কি সিদ্ধান্ত বদলাবে বা কার সিদ্ধান্ত বদলাবে – তা নিয়ে আর মুখ খুলতে চান নি, গেরুয়া শিবিরের এই হেভিওয়েট নেতা। ফলে, তিনি তৃণমূলে ফেরা প্রসঙ্গে মুখ খুলে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সকালেই।

সারাদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা চলতে থাকে তাঁর এই ‘সিদ্ধান্ত বদলাবার’ কথা নিয়ে! আর দিনের শেষে সেই রহস্য পুরোপুরিই পরিষ্কার হয়ে গেল মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। আজ, ঘাসফুল শিবিরের সব আশায় জল ঢেলে তৃণমূলের বৈঠকে গেলেন না শোভনবাবু। আর এখানেই অভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন, শঙ্কুদেব পাণ্ডা নিজে যতই মুখে ‘সৌজন্য সাক্ষাতের’ কথা বলুন, আসলে তা ছিল শোভনবাবু ও বৈশাখীদেবীকে বুঝিয়ে তৃণমূলে যাওয়া থেকে আটকাতে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, তিনি সকালে যে সিদ্ধান্ত বলবার কথা বলেছিলেন – তা আসলে ছিল শোভনবাবুর সিদ্ধান্ত বদলাবার কথা।

আর, শঙ্কুদেবের এই সৌজন্য সাক্ষাতের পরেই, যাবতীয় জল্পনা কল্পনাতে জল ঢেলে শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের বৈঠকে না যাওয়ায়, কার্যত হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব! কেননা মুখে যতই এতদিন তাঁরা বলুন, ‘শোভনবাবুর ব্যক্তিগত ব্যাপার’ – আদতে তিনি তৃণমূলে ফিরে গেলে মুখ পুড়তো অনেক হেভিওয়েট বিজেপি নেতারই। কেননা দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে সাদরে বরণ করার পর, এত অল্প সময়ে পুরোনো দলে ফিরে গেলে – উঠত অনেক কথা, বাড়ত অনেক অস্বস্তি। শঙ্কুদেবের এক বৈঠকেই সেসব আটকে যাওয়ায়, আপাতত খুশির হাওয়া গেরুয়া শিবিরে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!