এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > দলের সঙ্গে কি ক্রমশ দূরত্ব বাড়াচ্ছেন এই হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা? জল্পনা তীব্র রাজনৈতিক মহলে?

দলের সঙ্গে কি ক্রমশ দূরত্ব বাড়াচ্ছেন এই হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা? জল্পনা তীব্র রাজনৈতিক মহলে?

দুর্দিনে মালদা জেলায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের একমাত্র সঙ্গী ছিলেন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। 2011 সালে তিনি মালদার থেকে জয়লাভ করার পর তাকে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু নীহার ঘোষের উত্থানের পরেই সেই কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী গুরুত্ব যেন কমতে শুরু করে মালদহ জেলায়। 2016 সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৎকালীন বিরোধীনেতা নীহারবাবুর কাছে পরাজিত হতে হয় কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীকে।

তবে এরপর নীহাররঞ্জন ঘোষ তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় এবং ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান হওয়ায় তা মানতে পারেননি কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। যার পরেই বিভিন্ন সময়ে কৃষ্ণেন্দু বনাম নীহারের দ্বন্দ্ব দৃষ্টি আকর্ষণ করে মালদহ জেলাবাসীর। আর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মালদহে আসলেও, তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীকে সেইভাবে দেখতে না পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হল প্রবল জল্পনা। বস্তুত, গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটের সময় হেলিকপ্টারে করে মালদহ বিমানবন্দরে নামেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

যেখানে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন, জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মৌসম নূর, জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মন্ডল, ইংরেজবাজারের তৃণমূল বিধায়ক নীহার ঘোষ এবং কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সফরকালে কৃষ্ণেন্দুবাবু এদিন তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানালেও তারপর থেকে প্রশাসনিক বৈঠক বা দলীয় বৈঠক, কোনো বৈঠকেই আর নেত্রীর সাথে তাকে দেখা যায়নি।

এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মালদা ছাড়ার সময় জেলার সমস্ত নেতা-নেত্রীরা তার সাথে থাকলেও সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। যা নিয়ে এখন শুরু হয়েছে প্রবল গুঞ্জন। দুর্দিনে নেত্রীর আস্থাভাজন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পাশে না থাকা কি এখন অন্য কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে! তা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাগত জানিয়েই ফিরে এলেন?

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সকল তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা দলীয় বৈঠকে উপস্থিত হলেন, তখন কেন তাকে দেখা গেল না? এদিন এই প্রসঙ্গে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, “বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে আমি গিয়েছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো কর্তব্য মনে করি বলেই গিয়েছিলাম। প্রশাসনিক বৈঠকে আমাকে আমন্ত্রণ করা হয়নি। বিনা আমন্ত্রণে আমি যেতে রাজি নই। আমি দীর্ঘদিন মন্ত্রী থাকার সুবাদে প্রটোকল কি, তা জানি। মেনেও চলি। তাই প্রশাসনিক বৈঠকে যাইনি।”

যদিও বা কৃষ্ণেন্দুবাবুর এহেন বক্তব্য মানতে নারাজ জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মৌসম নূর। এদিন তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বিমানবন্দরে সকলের সামনেই দলকে নিয়ে বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার আগে বিষয়টা চূড়ান্ত ছিল না। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে কৃষ্ণেন্দুবাবু সহ সমস্ত নেতা-নেত্রীকে তার সম্ভাব্য কর্মসূচি ফোন করে জানিয়েছিলাম। মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে কৃষ্ণেন্দুবাবুর থাকার কথা দলের এক নেতার মাধ্যমে জানানো হয়েছিল বলে জেনেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সকলেই চাই, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো সামগ্রীক ঐক্যের বাতাবরণ এই জেলায় বজায় থাকুক।” এখন কার বক্তব্য ঠিক, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। তবে প্রশাসনিক বৈঠকে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী না থাকার পাশাপাশি – মুখ্যমন্ত্রীর বিদায়বেলায় জেলার সমস্ত তৃণমূল নেতারা সেখানে উপস্থিত থাকলেও কেন সেখানে ব্রাত্য থাকলেন রাজ্যের এই প্রাক্তন মন্ত্রী! তাহলে কি দলের সঙ্গে তিনি ক্রমশ দূরত্ব বেড়াচ্ছেন! আর তাই শেষ বেলাতে নেত্রী চলে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন অনুভব করলেন না!

এদিন এই প্রসঙ্গে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী বলেন, “আমি পেশায় আইনজীবী। আদালতে কিছু মামলা সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তাছাড়া আমি 1985 সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছি। নতুন করে লোক দেখানোর জন্য কিছু করার প্রয়োজন পড়ে না।” আর কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর এই কথাতেই ছড়িয়ে পড়েছে জল্পনা। অনেকে বলছেন, তৃণমূল দলের প্রধান ব্যক্তি তথা মুখ্যমন্ত্রী বিদায়বেলায় আইনজীবী পেশাকেই কি বেশি গুরুত্ব দিয়ে অন্যরকম বার্তা দিলেন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী?

তাহলে কি দীর্ঘদিনের নেত্রী অপেক্ষা তার কাছে তার পেশাটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ! অনেকে বলছেন, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী লোক দেখানো মানুষ নন। তিনি কাজটা বোঝেন। আর তাইতো বর্তমানে কিছুদিন আগেই কংগ্রেস ত্যাগী অনেক নেতা দল পরিচালনা করায় তিনি যে অনেকটাই ক্ষুব্ধ, তা তার কথার মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছে। আর তাই “লোকদেখানো কাজে তিনি বিশ্বাসী নন” বলে এদিন জেলা নেতৃত্বের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে দিলেন “মালদহের কিষানদা” বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!