এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > তামাক মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে একযোগে সমর্থন স্কুল শিক্ষকদের

তামাক মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে একযোগে সমর্থন স্কুল শিক্ষকদের

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত হাবরার হাবরা-১, হাবরা-২ ব্লক এবং হাবরা ও অশোকনগর-কল্যাণগড় সহ দুটি পৌরসভার অন্তর্গত সকল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকস্তরীয় বিদ্যালয়ের প্রধান এবং সহশিক্ষক ও শিক্ষিকা সহ ২০০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারীদেরকে নিয়ে হাবরার প্রফুল্লনগর বিদ্যামন্দির বিদ্যালয়ে তামাক মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার (১১ই অক্টোবর) যৌথভাবে একটি কর্মশালার আয়োজন করে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক বিভাগ, নারায়ণা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল ও সম্বন্ধ হেলথ ফাউন্ডেশন।

সিগারেট ও অন্যান্য তামাক পণ্য আইন-২০০৩ (কোটপা-২০০৩) সম্বন্ধে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে তাঁদের ক্ষমতায়ন করে স্কুল স্তরে এর বাস্তবায়ন করা, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তামাক সেবন থেকে বিরত থাকার জন্য তামাক মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং স্কুল কর্মী, অভিভাবক বা বন্ধুদের তামাকের ব্যবহার বন্ধ করতে বলার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করাই ছিল এই কর্মশালার মুখ্য উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২.৩ কোটি প্রাপ্তবয়স্করা ধোঁয়াযুক্ত বা ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন। পশ্চিমবঙ্গে তামাক সংক্রান্ত রোগের কারণে প্রতি বছর ১.৫ লাখ মানুষ মারা যায় এবং ৪৩৮ টি শিশু প্রতিদিনই তামাক সেবন শুরু করে, যা অবশ্যই একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা।

অংশগ্রহণকারীদের সিগারেট এবং অন্যান্য তামাক পণ্য আইন (কোটপা) সম্পর্কে বলা হয়। এই আইনগুলি সাধারন জনস্থানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বিজ্ঞাপন ও প্রচার, ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে বা তাদের দ্বারা বিক্রি, স্কুলগুলির ১০০ গজের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় এবং বিধিবদ্ধ সতর্কতা ছাড়াই তামাকজাত পণ্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করে। সকল অংশগ্রহণকারীরা তামাক মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ধারনা এবং কৌশল তৈরির জন্য দলগত অনুশীলনে অংশ নিয়েছিলেন। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষক অত্যন্ত ইতিবাচক ভাবে এই প্রক্রিয়াটিতে অংশগ্রহন করেন এবং জানান যে তামাক সংক্রান্ত সমস্যাকে বোঝার জন্য এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তামাক বিরোধী প্রচারে এই ধরনের উদ্যোগ তাঁদেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। এই কর্মশালায় সকল অংশগ্রহণকারী তামাক-বিরোধী অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। এই ধরনের কর্মশালা সারা রাজ্য জুড়েই তামাক মুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গঠনের দিকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্কুল শিক্ষা বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সহায়তা করবে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার বিজয়ী শিক্ষক সত্যজিৎ বিশ্বাস এবং এই অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তথা উপ-পরিদর্শক সুজয় ঘোষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালা একটি সফল অনুষ্ঠানে পরিণত হয়।

অশোকনগরের মাননীয় বিধায়ক ধীমান রায় বলেন, “তামাক মুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে এই চমৎকার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সম্বন্ধ হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং সকল শিক্ষকদের এগিয়ে এসে এই সাধু উদ্যোগকে দিশা দিতে এবং শিক্ষার্থীদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেবার জন্য অঙ্গীকার গ্রহণ করতে আবেদন করছি। আরও চাইছি তামাক থেকে দূরে থেকে শিক্ষকেরা নিজেরাও যেন শিক্ষার্থীদের কাছে এই ব্যাপারে মডেল হয়ে উঠতে পারেন”।

নারায়ণা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের অঙ্কোলজিস্ট ডাঃ অপূর্ব গর্গ তামাকের ব্যবহারের ফলে ভুক্তভোগী পরিবারের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি ক্যান্সার ও তামাক ব্যবহারের সতর্কতা সংক্রান্ত সংকেতের উপর আলোচনায় জোর দেন। তিনি বলেন, “আমার রোগীরা, যাঁরা মুখের ক্যান্সারের ফলে অপারেশন করাতে বাধ্য হন, তাদের পরিবারের বিশাল আর্থিক ক্ষতির সাথে সাথেই তাঁরাও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং তাদের অধিকাংশই এক বছরের আগেই মারা যান। কেন তাঁরা তামাক ব্যবহার করেছেন, এটা ভেবে তাঁদের সকলকেই অনুতপ্ত হতে দেখা গেছে”।

বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা শিবপ্রসাদ মুখার্জী বলেন, “আমাদের, আমার এবং নন্দিতা রায়ের, দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে সবসময়ই মনে হয়েছে যে আমাদের যে কোনও কাজে সবসময় একটি বার্তা থাকা উচিত যা আসলে মানুষের জীবনকে ভালোর দিকে প্রভাবিত করবে। চলচ্চিত্র যেহেতু অনেক মানুষকে ছুঁয়ে যায়, তাই আমরা আমাদের আসন্ন চলচ্চিত্র ‘কন্ঠকে’ তামাক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। তামাক মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মী এবং পিতামাতাদেরকে তামাক ব্যবহার বন্ধ করার জন্য অনুপ্রেরণা দিতে ও সংবেদনশীল করে তুলতে তামাক-বিরোধী প্রচার শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমরা পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং অনুরোধ করছি”।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!