এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলে ‘হাসি’ ফেরাতে বড় পদক্ষেপ খাদ্য-দপ্তরের

লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলে ‘হাসি’ ফেরাতে বড় পদক্ষেপ খাদ্য-দপ্তরের

পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের প্রাণকেন্দ্র জঙ্গলমহলেই পদ্ম ফুটেছে এবার – এতোদিন জঙ্গলমহলের মাটিতে নামগন্ধ ছিল না যাদের, তাদের দাপটে শক্তিশিবিরেই মুখ থুবড়ে পড়েছে শাসকদল। বিজেপির ভোটব্যাঙ্কের জোয়ার দেখে চক্ষু চড়ক গাছ হয়েছিল তাবড় তাবড় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। বিজেপির এই উত্থানকে যে কোনোভাবেই মেনে নেয়নি শাসকদল তা তাঁরা ভোটের ফলাফলের পরেই জানান দিয়ে দিয়েছিল। পাশাপাশি আগামী লোকসভা ভোটে জঙ্গলমহলে ফের জোড়াফুলের ঝান্ডা ওড়ানোর পরিকল্পনাও শুরু হয়ে গিয়েছে দলের অন্দরে।

শাসকদলের অন্দরমহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, স্পষ্ট নির্দেশ আছে দলনেত্রীর – প্রাণ দিয়ে লড়াই করে হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে হবে। এই লক্ষ্য পূরণ করতেই খাদ্যদপ্তর থেকে নেওয়া হল অভিনব পদক্ষেপ। চলতি মাস থেকেই জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ডিজিট্যাল রেশন কার্ড দেওয়া শুরু করেছে প্রশাসন বলে সূত্রের খবর। পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে, এখনো পর্যন্ত অন্ত্যদয় অন্নপূর্না যোজনায় বাঁকুড়ার ৮০ হাজার পরিবার ডিজিট্যাল রেশন কার্ড পেয়েছে। ওই পরিবারগুলির প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৭৫ জন এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।

অন্যদিকে, পায়োরিটি হাউস হোল্ড অর্থাৎ পিএইচএইচয়ের ক্ষেত্রে রেশন কার্ড পেয়েছেন ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪৩ জন এবং এসপিএইচএইচের ক্ষেত্রে রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে ১১ লাখ ৮২ হাজার ১৭৩ জনকে। এখনো পর্যন্ত বাঁকুড়ার রায়পুর, রানিবাঁধ, সারেঙ্গা ও সিমলাপালের বাসিন্দারা ডিজিট্যাল রেশন কার্ড পাননি। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর সে জন্য এ সংক্রান্ত বিষয় আলোচনার জন্য একটি বৈঠক বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেই বৈঠকেই স্থির করা হবে বাঁকুড়ার চারটি ব্লকের বাসিন্দাদের কত তারিখ থেকে কীভাবে ডিজিট্যাল রেশন কার্ড বিতরণ করা হবে।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তিনটি জেলার খাদ্য নিয়ামকরা জঙ্গলমহলের ব্লকগুলিতে ডিজিট্যাল রেশন কার্ড তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলেও জঙ্গলমহলের সিংহভাগ বাসিন্দাদের হাতে এখনও এই সুবিধা আসেনি। এমনটাই অভিযোগ জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা ডিজিট্যাল রেশন কার্ডের দাবী তুলে আসছিলেন। তাঁরা এতোটাই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন যে প্রশাসন পরিস্থিতি সামলাতে রেশন কার্ডের টোকেন দেন। এরপরেই রাজ্যের খাদ্য দপ্তরের কাছে এই সমস্যার কথা জানান তিনটি জেলার আঞ্চলিক খাদ্য দপ্তরগুলি। সমস্যা সমাধানে এ নিয়ে একাধিকবার বৈঠকেও বসেন তিনটি জেলার খাদ্য নিয়ামক এবং সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত জেলাশাসকরা।

প্রসঙ্গত, এদিনও এই সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয় খাদ্য ভবনে। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় চলতি সেপ্টেম্বর মাস থেকে জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ডিজিট্যাল রেশন কার্ড। এমনিতেই, পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলে প্রমাণিত – মুখ্যমন্ত্রী যতই দাবি করুন, আদতে ‘হাসি’ মুছে ক্ষোভ বেড়েছে জঙ্গলমহলের। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের জীবনযাপনের ধরনে যে পরিবর্তন এসেছে তা মোটেই ভালো চোখে নিচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। আর তাই, রেশনের মত সাধারণ পরিষেবাও সাধারণ মানুষ না পেলে – সেই ক্ষোভের আঁচ লোকসভা ভোটে বিপুলভাবে পড়তে পারে – আর তাই, আসন্ন লোকসভা ভোটকে পাখির চোখ করেই জঙ্গলমহলের শক্তিতে ফিরতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল, বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!