এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > প্রণবের লিখিত বক্তৃতা পড়লেন সোমেন – বসে শুনলেন বাম-বিজেপি-তৃণমূল নেতা ও পন্থীরা

প্রণবের লিখিত বক্তৃতা পড়লেন সোমেন – বসে শুনলেন বাম-বিজেপি-তৃণমূল নেতা ও পন্থীরা

গতকাল বামপন্থী দল পিডিএস নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা “নতুন পথ এই সময়” এর উদ্যোগে আয়োজিত “আমাদের অনুভবে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়” এক শীর্ষক আলোচনা সভার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা গেল রাজ্যের প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের। কংগ্রেসের তরফে সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্য্য, শাসকদল তৃণমূলের তরফে সাংসদ সৌগত রায় এবং তৃণমূল ঘনিষ্ঠ চিত্রকর শুভাপ্রসন্ন, বিজেপির শিশির বাজোরিয়া, সিপিএমের পক্ষে সুজন চক্রবর্তী, তন্ময় ভট্টাচার্য, পিডিএসের তরফে সমীর পুততুন্ড, আরএসপির মনোজ ভট্টাচার্য, ফরওয়ার্ড ব্লকের হাফিজ আলম সইরানীর মতো নেতারা। তবে শুধু রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাই নয়, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের এই স্মরণ সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সমাজের বিশিষ্টজনেদেরও।

যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়, প্রণব চট্টোপাধ্যায়, চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়, সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ, নাট্যকার চন্দন সেন, শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া, আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যর মতো প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরা। তবে এদিনের এই সভায় ব্যক্তিগত কাজ থাকার সুবাদে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিতই হতে পারেননি দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায়। তবে এই সশরীরে উপস্থিত না হলেও লিখিতভাবে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে দিয়েছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। আর তারই লেখা চিঠি এদিনের সভায় পাঠ করে শোনান প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি সোমেন মিত্র।

সূত্রের খবর, প্রণববাবু লিখেছেন, ” 1 বছর বাদ দিলে টানা 37 বছর সাংসদ ছিলেন সোমনাথবাবু। এমপি হিসেবে সংসদীয় রাজনীতিতে সিপিএমকে সংসদের ভেতরে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি যেমন দারুন দক্ষতা দেখিয়েছেন ঠিক তেমনি স্পিকার পদে ওনার নিরপেক্ষতার অবস্থান আজও আমায় অবাক করে।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লোকসভার স্পিকার থাকার সময় সরাসরি নগদ টাকা ঘুষ নেওয়া কাণ্ডে একবার 12 জন সাংসদকে বহিষ্কার করেছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। এদিন কংগ্রেস নেতা তথা দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের গলায় শোনা গেল সেই প্রসঙ্গেই প্রয়াত সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের স্তুতি। অন্যদিকে প্রয়াত সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের স্মরণ সভাতেও এদিন বাদ গেলনা রাজনীতি। একে অপরের বিরুদ্ধে কৌশলে শ্লেষাত্মক মন্তব্য করে ফের স্মরণ সভার মঞ্চকে করে তুললেন রাজনীতিময়।

এদিন সিপিএমকে কিছুটা খোঁচা দিয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় তার বক্তব্যে বলেন, “সাম্প্রদায়িক শক্তির মোকাবিলায় বামেরা একা লড়বে নাকি অন্য ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সাথে চলবে এই প্রশ্নে প্রথমে সইফুদ্দিন চৌধুরী এবং পরে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিস্কৃত হতে হয়। এজন্য সোমনাথবাবু খুব ব্যথিতও হয়েছিলেন।” অন্যদিকে এই স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকেও খোঁচা দিতে ছাড়েননি বামেদের তরফে উপস্থিত সুজন চক্রবর্তী।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তিনি বলেন, “সর্বসমক্ষে ঘুষ নিতে দেখা যাওয়া সাংসদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য গঠিত সংসদের ইথিকস কমিটি তিন বছরে একটি বৈঠক না করলেও সোমনাথদা এই ধরনের একটি ব্যাপারে 11 দিনের মধ্যে 12 জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজ করে দিয়েছিলেন।” অন্যদিকে প্রয়াত সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় দলে না থাকার বিষয়টি মনোবেদনার হলেও আমৃত্যু তিনি বামপন্থী ছিলেন বলেও এদিন অভিহিত করেন সুজন চক্রবর্তী। সব মিলিয়ে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের স্বরণসভাতেও ব্রাত্য থাকলো না রাজনীতি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!