এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > সোমেন-অধীররা বোধহয় আর আটকাতে পারলেন না, সোনিয়ার বিশ্বস্ত ‘অনুচরের’ ফোন মমতাকে

সোমেন-অধীররা বোধহয় আর আটকাতে পারলেন না, সোনিয়ার বিশ্বস্ত ‘অনুচরের’ ফোন মমতাকে

তৃণমূলের সঙ্গে জোট করবেন না বলে একদিকে যখন বদ্ধপরিকর সোমেন মিত্র অধীর চৌধুরীর মতো প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। অন্যদিকে ঠিক তখনই মঙ্গলবার তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন রাজনৈতিক সচিব আহমেদ প্যাটেল।

সূত্রের খবর, ২২ নভেম্বর দিল্লির অন্ধ্রভবনে অবিজেপি দলগুলির বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কংগ্রেসের চাণক্য। প্যাটেল-মমতা এই কথপোকথনের পর কংগ্রেস তৃণমূল জোটের জল্পনা বাড়িয়ে তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে বসেছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের দুর্বল সংগঠনকে চাঙ্গা করতে চায় কংগ্রেস। আর তাই এরাজ্যের এআইসিসির ইনচার্জ গৌরব গগৈ-এর উপস্থিতিতে ব্লক ও জেলাস্তরের নেতাদের নিয়ে দুদিনব্যাপী বৈঠকে বসেছে প্রদেশ কংগ্রেস। এই বৈঠকে মঙ্গল ও বুধবার আলাদা আলাদাভাবে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে।

গতকাল অর্থাত্‍ মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের ব্লক ও জেলাস্তরের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছে কংগ্রেসের নেতৃত্ব। সেখানে মৌসম বেনজির নূর, আবু হাসেম খান চৌধুরী, শঙ্কর মালাকারের মতো উত্তরবঙ্গের কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, আব্দুল মান্নান, প্রদীপ ভট্টাচার্য, দীপা দাশমুন্সিরা ।

গৌরব গগৈ-এর কাছে সকলেই প্রায় একবাক্যে জানিয়েছেন তাঁরা কেউই তৃণমূলের সঙ্গে জোট চান না। এমনকি কয়েকদিন আগেও তৃণমূলের সঙ্গে জোটে সওয়াল করা মৌসমের গলাতেও এদিন তৃণমূল বিরোধীতার সুরই শোনা গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের নেতারা যখন তৃণমূলের সঙ্গ চাইছেন না তখষ কংগ্রেসের দিল্লির নেতারা কেন এত মমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন?

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিজেপি বিরোধী মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে একটা বড় মুখ সেটা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তেলেগু দেশম পার্টির প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডুও সেটা বুঝেছেন বলেই নিজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২২ নভেম্বরের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাতে আসছেন।আর তাই কংগ্রেসও চাইছে মমতাকে মহাজোটের মঞ্চে স্বাগত জানিয়ে রাখতে।

যদি লোকসভায় তাদের ফল ভাল হয় সেক্ষেত্রে এই আঞ্চলিক দলগুলির সমর্থনে ইউপিএ-থ্রি গড়া সম্ভব হবে। মমতার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক থাকলে জোট সরকারে তিনি সরাসরি অংশ না নিলেও বাইরে থেকে যাতে সমর্থন করতেই পারেন।যদি ভোট পরবর্তী সমঝোতাও হয় তাহলে কী ভোটের আগে শত্রু হয়েই একে ওপরের বিরুদ্ধে লড়াই করবে প্রদেশ কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস? প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

এ প্রসঙ্গে রহস্য করেই এক প্রদেশ কংগ্রেস নেতা বলেন,” দিল্লি অনেক ভেবেচিন্তে পা ফেলে। তাদের খেলা বোঝা এত সহজ নয়। রাজনীতিতে সবসময় দুয়ে দুয়ে চার হবে কে বলল? তিনের সঙ্গে এক যোগ করেও তো চার হয়।” তাহলে কী এই লোকসভা নির্বাচনে সরাসরি ভোটে আসন সমঝোতা না করে সোনিয়া গান্ধী-রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্য কোনো ‘সেটিং’ হবে?

এই প্রশ্নের উত্তরে প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা বলছেন, ১২ ডিসেম্বরের আগে কোনও কিছুই বলা সম্ভব নয়। কারণ ওইদিন পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলাফল। তার পরই কংগ্রেসের ‘গেমপ্ল্যান’ তৈরি হবে।কিন্তু এদিকে আবার কয়েকদিন আগে সিপিএমের জোটবার্তাকে সরাসরি স্বাগত জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র।তাহলে সিপিএম-কংগ্রেসের জোটের কী হবে? মমতার সঙ্গে গোপন আন্ডারস্ট্যান্ডিং হলে কী সিপিএম কংগ্রেসের হাত পাবে?

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

রাজনৈতিক মহলের অন্দরে এখন এইসব প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে , আর সেকারণেই কী সোমেন মিত্র একলা চলার পথটাও খোলা রাখলেন? এ প্রশ্ন উঠছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এখন দেখার কংগ্রেস ভোট বৈতরণী পার করতে সিপিএমের হাত ধরে নাকি তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতায় আসে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!