এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ঝাড়ুদারদের স্ট্রাইকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের শিকার হচ্ছে বহরমপুর পৌরসভা

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ঝাড়ুদারদের স্ট্রাইকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের শিকার হচ্ছে বহরমপুর পৌরসভা

সরকারি শংসাপত্রে মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর শহর নাকি ‘গ্রীন সিটি’ হওয়ার ‘গ্রীন সিগন্যালের’ পথে। কিন্তু বাস্তবে বহরমপুর শহরে বিরাজ করছে নোংড়া ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এখনও পাড়ায় পাড়ায় ডাস্টবিনগুলো ঠিক ভাবে বসানো হয়নি। এলাকাবাসীর ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে নাকি রাস্তায় ঝাড়ুদারদের দেখা মিলছে না। তাই অনেকে রসিকতা করে বলেন বহরমপুর শহর পরিষ্কার করার দায়িত্ব এখন কাকপক্ষীতে নিয়েছে। মাঝে মধ্যে অবশ্য দেখা মেলে ময়লা পরিষ্কার করার গাড়ির কিন্তু কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল, আর তাই ময়লার বহর দিনকেদিন বাড়তেই থাকছে।

শহরবাসীর অভিযোগ, আশেপাশের বসবাসকারী মানুষজন যে কি যন্ত্রনা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবন কাটায় তার দিকে পৌর কর্তৃপক্ষের কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। অথচ নতুন করে ‘সাফাই-কর’ ধার্য করছে পৌরসভা। আর এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা, যদি ন্যূনতম পৌর পরিষেবাই না পাওয়া যাবে তাহলে পৌর কর নেওয়া হয় কেন? তার উপরে এই পৌর কর যথেষ্ট পরিমানেই বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রায় ৮০% কর যথা সময়ে জমাও পরে। এছাড়া সরকারের কাছ থেকে বিপুল অর্থ শহর উন্নয়ন প্রকল্পে পাচ্ছে। রাস্তায় যথেচ্ছ পরিমানে টোটো গাড়ি চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে জঞ্জালের স্তুপ, টোটো গাড়ি অপরদিকে রাস্তার দুধারে পৌরসভার প্রশ্রয়ে বেআইনি দখলদারিতে এ শহরের নাভিশ্বাস উঠছে। অবশ্য নতুন কিছু ফুটপাতও তৈরি হচ্ছে, অথচ সে সব রাস্তায় জল নিকাশির কোন সুব্যবস্থা নেই। ফুটপাতগুলো সব হকার ও দোকানদারদের দখলে।

প্রসঙ্গত, বহরমপুর পৌরসভার দায়িত্ব কয়েক মাস আগেই রাজ্যের শাসক দলের হাতে এসেছে। এলাকা বাসীর কথায় শাসক দল পৌরসভার দায়িত্বে আসার পর বেশ কিছু রাস্তায় কাজ হয়েছে ঠিকই কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পৌরসভার পুরপ্রধানের দায়িত্বে আছেন নীলরতন আঢ্য। যদিও তিনি কংগ্রেসের টিকিটে যেতেন, কিন্তু ‘উন্নয়নের স্বার্থে’ পরে রাজ্যের শাসকদলে নাম লেখান, আর পুরস্কার স্বরূপ বহাল রাখেন পৌরসভার পুরপ্রধানের দায়িত্ব। রঙ পরিবর্তন হলেও অবশ্য সামান্যতমও বদলায়নি পৌরসভার বেহাল দশা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অন্যদিকে সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই পৌরসভার মধ্যে চলছে ঝাড়ুদারদের অনিয়মিত স্ট্রাইক, আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আদি ও নব্য তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। মুর্শিদাবাদ শহর যে এখনো ‘নির্মল বাংলার’ আওতায় আসেনি সেটা বহরমপুর শহরের অলিগলি ঘুরলেই প্রমান মেলে। তাই স্থানীয় বাসিন্দা তথা বহরমপুর পৌরসভার বাসিন্দা নগর কলেজের অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক সৌমেন চক্রবর্তী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, এমন নির্মল বাংলার নির্মল শহরে নির্মল আনন্দে বাস করা কি কম ভাগ্যের কথা!

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!