এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > শিলিগুড়িতে সেতু ভাঙার দায় কার? জানালেন গৌতম

শিলিগুড়িতে সেতু ভাঙার দায় কার? জানালেন গৌতম

মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয় সামলে ওঠার আগেই রাজ্যবাসীর কাছে শিলিগুড়ির মানগছের সেতু ভাঙার খবর প্রকাশ্যে এল। প্রতিবারের মতো এবারও চলল সেতু ভাঙনের দায় কার- এ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের দোষ ছোঁড়াছুড়ি প্রক্রিয়া।

বাম পরিচালিত মহাকুমা পরিষদের দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলে পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব জানান, বহুবার এই ইস্যু নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মহাকুমা পরিষদ এলাকায় থাকা প্রতিটি সেতুর টেকনিক্যাল অডিট করানোর বিষয়টি নজরে আনা হয়েছিল বামেদের। পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল,ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন হলে পঞ্চায়েত অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্টের তরফে সাহায্য চাওয়ার। সেক্ষেত্রে টেকনিক্যাল অডিটের পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে কোনো সেতুর সংস্কার বা নতুন করে করার কথা জানানো হয়েছিল। তার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ফান্ড তুলে ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু বামেরা বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোনো পরামর্শেই কান দেয়নি। নিজেদের মর্জি খাটিয়েছে। এরসঙ্গে জুড়ে তিনি জানালেন, পূর্ত দপ্তরকে দিয়ে নতুন করে প্ল্যান এস্টিমেট করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর মহাকুমা পরিষদ যদি কাজে আগ্রহ দেখায় তবে তাঁদের প্রশাসনের তরফ থেকে অনুরোধ করা হবে সেতু পুননির্মানের জন্য।

জানা যাচ্ছে, ফাঁসি দেওয়ার মানগছে সেতু ভেঙে পড়ার খবর কানে আসার পর ঘটনাস্থলে ছোটেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। সঙ্গে ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, মহকুমাশাসক সিরাজ দানেশ্বর। ঘটনার কারণ তদারকির জন্য হাজির ছিল ফরেনসিক দলের প্রতিনিধিরাও। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মন্ত্রী জানান,বাংলাদেশের সীমান্তে তৈরি এই সেতুটির গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। বড় গাড়ি সেভাবে যাতায়াত না করলেও ছোট গাড়িগুলির অবাধ যাতায়াতের মাধ্যম ছিল এই সেতুটি। সেতু ভেঙে পড়ায় সবথেকে সমস্যা পড়ল নিত্য যাত্রীরা।

তবে আশার কথা, আপাতত যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রাথমিকভাবে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে এস্টিমেট করে আধুনিকভাবে সেতু তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের, এমনটাই জানালেন তিনি। এর সঙ্গে জুড়ে তিনি আরো জানান, সেতুটির দুর্বলতা কথা জানিয়ে ২০১৬ সালে প্ল্যান এস্টিমেট করে বিডিও মারফত মহাকুমা পরিষদে পাঠানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি তাঁরা,এমনটাই অভিযোগ মন্ত্রীর।

এদিন তিনি মানগছ থেকে অদূরে অবস্থিত নিকরগছ এলাকার আরো একটি সেতুর অস্বাস্থ্যকর অবস্থার কথা তুলে ধরলেন। জানালেন, এই দুই সেতু সংলগ্ন রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা এবং রাজ্যসরকারের বরাদ্দ অর্থ কাজ করা হবে। ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বলেই জানালেন তিনি।

উওরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষও এই বিপর্যয়ের জন্য গৌতম বাবুর মতো বাম রাজনীতিকেই এর জন্য দায়ী করলেন। জানালেন,বারংবার সেতুটির দূর্বলতার কথা মহাকুমা পরিষদের নজরে আনলেও সেতুটি সংস্কার করা হয়নি। ফলস্বরূপ এভাবে আজ ভেঙে পড়েছে সেতুটি।

তৃণমূল নেতৃত্বদের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরব হন শিলিগুড়ি পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার। তাঁর বক্তব্য রাজনীতি করার লক্ষ্যেই এসব দোষের বোঝা চাপানো হচ্ছে। তিনি দাবীতে জানালেন,”২০১৬ সালে BDO মারফত প্ল্যান এস্টিমেট পাঠানোর পর তার সদুত্তর BDO-কে চিঠি মারফত জানানো হয়েছিল। এরপর BDO-র তরফে আর কিছুই জানানো হয়নি। ওই সেতুটি মহকুমা পরিষদ তৈরি করেনি। বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্টের অর্থে পঞ্চায়েত সমিতির তরফে সেতুটি গড়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে কার কী দায়িত্ব ছিল তা নথি দেখলে বোঝা যাবে।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

ওদিকে শিলিগুড়ির মহাকুমাশাসক সিরাজ দানেশ্বর জানান,মহাকুমা পরিষদ এবং পূর্তদপ্তরের তরফ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। রিপোর্ট রাজ্যসরকারকে অবিলম্বেই পাঠানো হবে। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাদের এসব রাজনৈতিক তরজার পাশাপাশিই চলছে উদ্ধারকাজ। এমনটাই জেলা সূত্র থেকে জানা গেল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!