এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > ডিও/বিএলও ডিউটি থেকে অব্যাহতি চাওয়ায় এবার ‘পুরোনো আইন’ তুলে ধরে শোকজ শুরু প্রাথমিক শিক্ষকদের

ডিও/বিএলও ডিউটি থেকে অব্যাহতি চাওয়ায় এবার ‘পুরোনো আইন’ তুলে ধরে শোকজ শুরু প্রাথমিক শিক্ষকদের

শাশ্বত ঘোষ – রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক মহলে এই নাম এখন প্রায় সবার মুখে মুখে। একদিকে যখন তিনি রাজ্যের হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক, যাঁরা ডিও বা বিএলও ডিউটি করতে বাধ্য হচ্ছেন, তাঁদের মনের প্রশ্ন তুলে তাঁদের কাছে ‘হিরো’ – অন্যদিকে, তেমন প্রশাসনের কাছে ‘অস্বস্তিকর’ সত্যিটা জানতে চেয়ে ‘ভিলেন’। নাকাশিপাড়ার বিডিও অফিসে দুটি আপাত নিরীহ প্রশ্ন করে যিনি ঝড় তুলে দিয়েছেন রাজ্য রাজনীতিতে। এমনই সে ঝড় – যে তাঁর বিরুদ্ধে উঠে পরে লেগে তাঁকে শোকজ করিয়ে, চেয়ারম্যানের সামনে শুনানিতে ডাকানোর ‘আপৎকালীন ব্যবস্থা’ করতে হচ্ছে খোদ বিডিও সাহেবকে।

এমন সে ঝড় – যাতে আস্থা রেখে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগ্নেয়গিরিতে অগ্নুৎপাত হয়েছে রাজ্যের হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের। ডিও বা বিএলও ডিউটির নামে রাজ্যের বেশ কিছু প্রশাসনিক কর্তাদের ‘দাদাগিরির’ হাত থেকে রক্ষা পেতে বা শিক্ষকদের প্রাথমিক যে কর্তব্য – সেই শিক্ষাদানের অঙ্গীকারকে স্বীকৃতি দিতে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকরা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার সাহস পেয়েছেন। আসলে প্রাথমিক শিক্ষকদের সঙ্গে এই ডিও বা বিএলও ডিউটির নামে যে ‘নির্মম রসিকতা’ দীর্ঘদিন ধরে কায়েম হয়েছে – তার থেকে মুক্তি পেতে শাশ্বতবাবুর প্রতিবাদী দুই প্রশ্ন যেন বারুদের ‘সলতের’ কাজ করেছে।

নাকাশিপাড়ার বিডিও অফিসে শাশ্বতবাবুর ঘটনার পর প্রতিবাদী শিক্ষক মইদুল ইসলামের নেতৃত্ত্বে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ প্রখ্যাত আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে আলোচনায় বসে। আর সেই আলোচনার ভিত্তিতে উঠে আসে – ‘রাইট তো এডুকেশনাল অ্যাক্ট ২০০৯ এর ২৭ এর সি’ ধারা অনুযায়ী, শিক্ষকরা শিক্ষা বহির্ভূত অন্য কোন কাজ করতে পারেন না। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের ‘সেন্ট মেরি’ জাজমেন্ট অনুযায়ী, নির্বাচনের কাজে প্রথমে ব্যাঙ্ক ও সরকারি কর্মীদের নিযুক্ত করা হয়। তারপরেও যদি প্রয়োজনীয় কর্মী অপ্রতুল থাকে তাহলে ‘বিশেষ অবস্থায়’ শিক্ষকদের এই কাজে নিযুক্ত করা যেতে পারে। কিন্তু, সেক্ষত্রে কিন্তু যে দিনে বা দিনগুলিতে ওই নির্বাচনী কাজ শিক্ষকদের করতে হবে তা ‘ঘোষিত ছুটি’ হতে হবে।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কিন্তু, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে – ১ লা সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ শে অক্টোবর পর্যন্ত – বর্তমানে যে ডিও বা বিএলও ডিউটি প্রাথমিক শিক্ষকদের করতে হচ্ছে – তা উপরোক্ত কোনো নিয়ম মেনেই হচ্ছে না। আর তাই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার আগে – শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ রাজ্যের যে সমস্ত প্রাথমিক শিক্ষক এই ডিও বা বিএলও ডিউটি থেকে অব্যাহতি চান তাঁদের নিজের নিজের সংশ্লিষ্ট এসডিও বা বিডিওকে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আবেদন করতে বলেন। সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও – শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের তরফে মনে করা হচ্ছে – অব্যাহতি চেয়ে ইতিমধ্যেই শয়ে শয়ে প্রাথমিক শিক্ষক এই আবেদন করেছেন। আর এই আবেদনকারীদের মধ্যে শাশ্বতবাবুও ছিলেন।

আর সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে – প্রশাসন এতদিন নিশ্চুপ থাকলেও, ‘কাকতালীয়ভাবে’ শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের মামলা দিনের আলো দেখতেই আবেদনকারীদের পাল্টা শোকজ করতে শুরু করা হল। রাজ্যের বেশ কিছু শিক্ষক ইতিমধ্যেই এই শোকজের চিঠি পেয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন শাশ্বতবাবুও। তবে মজার কথা হল, শাশ্বতবাবুরা অব্যাহতি চেয়ে যে আবেদন করেছিলেন, তাতে যে আইনের ধারার কথা লেখা ছিল, শোকজে সেই আইনেরই ‘পুরোনো সংস্করন’ তুলে ধরে জানানো হয়েছে – এই কাজ করতে শিক্ষকরা বাধ্য এবং জানতে চাওয়া হয়েছে ভারতীয় পিনাল কোডের ৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী কেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?

আমরা এই প্রসঙ্গে শাশ্বতবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তিনি শোকজের সত্যতা স্বীকার করে নেন। কিন্তু, তাঁকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে বা তার বয়ান জানাতে অস্বীকার করেন (যদিও আমরা অন্য সূত্র থেকে এই শোকজের চিঠি জোগাড় করতে সমর্থ হয়েছি)। এর সাথেই, তিনি জানান শোকজের জবাব তিনি দেবেন। কিন্তু এই নিয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা – সেই নিয়ে কোনো আলোচনা বা কথা বলতে চান নি। আমরা এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তাঁরা যা জানান, তার নির্যাস হল – কোনো আইন যদি সংশোধিত হয়, তাহলে সেই সংশোধিত আইনই সর্বদা বিচার্য ও গ্রহণযোগ্য হয়। প্রশাসন যে শোকজ পাঠিয়েছেন, সেখানে সংশ্লিষ্ট আইনের শেষোক্ত বিষয়টি গ্রাহ্য করা হয় নি। যে সমস্ত শিক্ষক এই শোকজ পেয়েছেন, তাঁরা এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটতেই পারেন। সব মিলিয়ে, ডিও/বিএলও ডিউটি নিয়ে রাজ্য প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষকদের এই লড়াই এক নতুন মাত্রা পেল সেকথা বলায় বাহুল্য।

মাচপোতা প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শিক্ষক শাশ্বত ঘোষ।
আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!