এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > এবার দেবশ্রী-কাণ্ডে মহুয়ার নাম জড়িয়ে ও ‘ষড়যন্ত্রের’ তত্ত্ব খাড়া করে আরও ‘জমিয়ে’ দিলেন শোভন!

এবার দেবশ্রী-কাণ্ডে মহুয়ার নাম জড়িয়ে ও ‘ষড়যন্ত্রের’ তত্ত্ব খাড়া করে আরও ‘জমিয়ে’ দিলেন শোভন!

গত কয়েকবছর ধরেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে বারবার ভেসে উঠেছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম। কখনো নারদ কাণ্ডে নাম জড়িয়ে তো কখনো বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে! বারবার করেই সেইসময় তাঁর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা ছড়াচ্ছিল – কিন্তু তিনি নিজে জানিয়েছিলেন, তৃণমূল ছাড়তে হলে নাকি রাজনীতিই ছেড়ে দেবেন! কিন্তু বর্তমানে তিনি ‘বান্ধবী’ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ‘রাজনীতি না ছেড়ে’ গেরা শিবিরেই যোগ দিয়েছেন।

আর সেই যোগদানের পর থেকেই, আবারো রাজ্য-রাজনীতিতে চর্চিত হয়ে চলেছেন তিনি। সেই চর্চার বিষয় যত না রাজনৈতিক, তার থেকেও বেশি ব্যক্তিগত মান-অভিমান! দিল্লির বিজেপির সদর দপ্তরে যেদিন তিনি ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দেন, সেদিনই দিল্লির সদর দপ্তরে হাজির ছিলেন রায়দিঘির তৃণমূল বিধায়ক ও ‘একদা’ শোভনবাবুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দেবশ্রী রায়। শোনা যায়, দেবশ্রীদেবী শোভনবাবুর এতটাই ঘনিষ্ঠ ছিলেন যে, ২০১৬ সালে যখন তৃণমূল নেত্রী দেবশ্রী রায়কে আর টিকিট দিতে চান নি, তখন শোভনবাবুই দায়িত্ব নিয়ে সেই টিকিট জোগাড় করে দেন এবং তাঁকে জিতিয়েও আনেন।

কিন্তু, সেদিন দেবশ্রী রায় বিজেপিতে যোগ দিতে গেলে, শোভনবাবু স্পষ্ট জানান, সেক্ষেত্রে তিনি বা বৈশাখীদেবী বিজেপিতে যোগদান করবেন না। এরপর বারেবারেই ডাবশ্রী রায়ের বিজেপিতে যোগদা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে এবং বারেবারেই শোনা গেছে শোভনবাবু বা বৈশাখীদেবীর বাধাতে তা আর হয়ে ওঠে নি। এমনকি এই প্রসঙ্গে প্রকাশ্যেই বিজেপি ছাড়ার কথাও বলেছেন তাঁরা। এই নিয়ে দিল্লিতে মুকুল রায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসে, রাতে জানিয়ে দেন সমস্যা মিটে গেছে, আবার পরের দিন কলকাতায় ফিরে উল্টো সুর ধরেন।

এইসবের মাঝেই, গতকাল ‘কাহানি মে ট্যুইস্ট’ আনেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ‘অনুরোধে’। কিন্তু, যে মহুয়া মৈত্র মামলা করতে সিদ্ধহস্ত, তিনি এত বড় অভিযোগের পরেও আইনি পথে না গিয়ে, দিলীপবাবুর মন্তব্য ‘রসিকতা’ বলে আখ্যায়িত করেন! আর এবার মহুয়া মৈত্রের নাম নিয়ে ‘ষড়যন্ত্রের’ কথা শোনা গেল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের গলায়। একইসঙ্গে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারকেও, যিনি নাকি শোভনবাবুর বিজেপি যোগে ‘সেতুবন্ধের’ কাজ করেছিলেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

শোভনবাবু গতকাল জানিয়েছেন, মহুয়া মৈত্র দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে কথা বলতে দিলীপবাবুকে অনুরোধ করেছিলেন – এই কথা দিলীপবাবু প্রকাশ্যে বলার পরে ‘ষড়যন্ত্রটা’ স্পষ্ট হয়ে গেল! তিনি আরও অভিযোগ আনেন যে বিজেপিতে তাঁর যোগদানের কথাবার্তা যখন থেকে চলছিল, তখন থেকেই নাকি এই ‘ষড়যন্ত্র’ হচ্ছিল! এমনকি এই আশঙ্কার কথা তিনি তখন বিজেপি নেতা অরবিন্দ মেননকেও জানিয়েছিলেন। তাঁর আরও দাবি, কে বা কারা যোগসূত্র করে সেদিন দেবশ্রীদেবীকে বিজেপি সদর দপ্তরে নিয়ে গিয়ে, পুরো বিষয়টিই জটিল করে দিয়েছে তাও নাকি তাঁর কাছে স্পষ্ট!

একই সঙ্গে শোভনবাবুর দাবি, মহুয়া মৈত্রের বিষয়েও তিনি নাকি বিজেপি নেতৃত্বকেজানিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি জানান, নানা সূত্র থেকে তিনি নাকি জেনেছেন যে সেদিন দেবশ্রী রায়কে বিজেপির দিল্লির দফতরে নিয়ে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। দেবশ্রীদেবী যে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গেই দিল্লি গিয়েছিলেন, তা তাঁর কাছে স্পষ্ট। স্বাভাবিকভাবেই এইসব অভিযোগ শুনে রীতিমত ক্ষিপ্ত জয়প্রকাশবাবু। তিনি জানিয়েছেন, শোভনবাবু কেন এ কথা বলেছেন, তিনিই বলতে পারবেন!

জয়প্রকাশবাবু এক সংবাদমাধ্যমকে আরও জানিয়েছেন, আমি শুধু বুঝতে পারছি না, এক জন রাজনৈতিক নেতা একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে কোনও রাজনৈতিক কথা না বলে এ সব ব্যক্তিগত কথা চর্চা করছেন কেন? আমি দেবশ্রী রায়ের সিনেমা দেখেছি। তৃণমূল বিধায়ক হিসাবেও কখনও কখনও তাঁকে টিভিতে দেখেছি। এর বাইরে তাঁর সঙ্গে কোনও পরিচয় আমার নেই। কোনও দিন তাঁর সঙ্গে দেখাও হয়নি। আর এরপরেই পাল্টা অভিযোগ জানিয়ে জয়প্রকাশবাবু জানিয়েছেন, আমি দিল্লিতে দেবশ্রী রায়কে শোভনবাবু এবং বৈশাখীদেবীর পিছন পিছনই দলীয় দফতরে ঢুকতে দেখেছিলাম।

তাঁর আরও বক্তব্য, তাঁর সামনেই নাকি বৈশাখীদেবী শোভনবাবুকে দোষারোপ করে বলেছিলেন, তিনিই সেখানে দেবশ্রী রায়কে ডেকেছেন। এমনকি, শোভনবাবু সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদও করেছিলেন বলে দাবি জয়প্রকাশ মজুমদারের। যদিও শোভনবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মহুয়া মৈত্রের তরফে পাওয়া যায় নি। এই নিয়ে মুখ খোলেননি দেবশ্রী রায়ও। তবে শোভন-বৈশাখী-দেবশ্রী কাণ্ডে গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি যে আরও বাড়ল এবং রাজ্য-রাজনীতি নতুন করে সরগরম হল – তা এক কথায় মেনে নিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!