এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ডিও/বিএলও নিয়ে এবার ‘চূড়ান্ত মহা-অবস্থানের’ পথে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ, জানুন বিস্তারিত

ডিও/বিএলও নিয়ে এবার ‘চূড়ান্ত মহা-অবস্থানের’ পথে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ, জানুন বিস্তারিত

রাজ্যের হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষকদের ডিও, বিএলও বা সুপারভাইজার ডিউটি নিয়ে মুক্তি মিলেও যেন মিলছে না। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে যখন স্পষ্ট রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের দিয়ে এই কাজ করানো ‘অনৈতিক’ এবং এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা ‘অবৈধ’ – তখন হঠাৎ করেই রাজ্য প্রশাসনের এক শ্রেণীর আধিকারিক ও কিছু রাজনৈতিক নেতা এই নিয়ে অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্ট স্কুলের পঠন-পাঠন মাথায় তুলে এই কাজ করা মানে শিক্ষার অধিকারকে অবহেলা করা। আর তাই, শিক্ষকরা এখনও এই কাজ করে গেলে তা কার্যত আদালত অবমাননার শামিল হবে। অন্যদিকে, সামনেই লোকসভা নির্বাচন – এখন ভোটার তালিকার কাজ না করাতে পারলে ‘ভোট করাতে’ অনেক রাজনৈতিক নেতারই অসুবিধা হবে। আর তাই, স্থানীয়স্তরে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষকদের রীতিমত হুমকি দিয়ে চাপে রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ।

সবথেকে মজার কথা, এই মামলায় রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন উভয়েই পার্টি হিসাবে থাকলেও – ঐতিহাসিক এই মামলার রায় সামনে আসার পর এই নিয়ে কোন সরকারি বিবৃতি তাদের তরফে সামনে আসেনি। আর সেই সুযোগকে ‘কাজে’ লাগিয়ে একশ্রেণীর প্রশাসনিক কর্তা এই রায়ের ‘অপব্যাখ্যা’ করে শিক্ষকদের দিয়ে এই কাজ করাতে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে, আদালতের যুদ্ধে জিতেও অতি করুন অবস্থায় ও অসহায় হয়ে পড়েছেন রাজ্যের হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আর তাই, এবার ‘চূড়ান্ত মহা-অবস্থানের’ পথে যাচ্ছে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ। সংগঠনের প্রধান সেনাপতি মইদুল ইসলাম জানান, রাজ্য সরকারের ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এই নিয়ে কোনো বিবৃতি সামনে না আসায় চূড়ান্ত রকমের এক অব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যজুড়ে। একদিকে, প্রশাসনিক কর্তাদের ক্ষমতার চাপ, অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের স্থানীয়স্তরে চাপ সৃষ্টি – আর সর্বোপরি এই কাজ করলে আদালত অবমাননার ভয় – এই ত্রহস্পর্শে শিক্ষকদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছে।

মইদুলবাবু আরো জানান, এতদিন রায়ের কপি হাতে না আসায় শিক্ষকদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা ফাইল জমা নিচ্ছিলেন না। এখন সেই কপি হাতে পাওয়ার পরে ফাইল জমা দিতে গেলে – সেই রায়ের অপব্যাখ্যা করে ফাইল জমা নিতে অস্বীকার করা হচ্ছে। আর তাই আগামী ৯ ই অক্টোবর, মঙ্গলবার বিকেল ৩ টের সময় নির্বাচন কমিশনের সিইওর কাছে আমরা মাননীয় বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর রায় লাগু না হওয়ার জন্য একটি ডেপুটেশন দিতে যাচ্ছি। ঐদিন আমরা রাজ্যজুড়ে সমস্ত শিক্ষককে নির্বাচন কমিশনের সামনে নিজের নিজের ফাইল নিয়ে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছি।

সূত্রের খবর, মইদুল ইসলাম, শাশ্বত ঘোষ, জয়ন্ত মুখার্জিদের নেতৃত্ত্বে সেদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষকদের এক বিশাল জমায়েত হতে চলেছে। সঠিক সংখ্যাটা এখনই জানা না গেলেও – বিভিন্ন সূত্র প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী সংখ্যাটা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আইনি যুদ্ধ জিতেও এখনও ডিও, বিএলও বা সুপারভাইজার ডিউটির যন্ত্রনা বয়ে যেতে হওয়ায় – এবার চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চলেছে শিক্ষার অধিকার রক্ষা করতে রাজ্যের যে কোন প্রান্তে ছুটে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ। মইদুল ইসলামদের এই ‘মাস্টারস্ট্রোকের’ মোকাবিলা কি করে করেন এখন রাজ্য প্রশাসন ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন – সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের সমগ্র রাজনৈতিক মহল।

Top
error: Content is protected !!