এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ‘হিংস্র ও পাশবিক’ আচরণের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে

সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ‘হিংস্র ও পাশবিক’ আচরণের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেত্রী থাকার সময় থেকেই দাবি করে এসেছেন তিনি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি বারেবারেই বিভিন্ন জনসভায় দাবি করেছেন, বাম আমলের বিপুল পরিমান ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েও তিনি রাজ্যের উন্নয়ন করে চলেছেন এবং একই সাথে যখন যেটুকু সম্ভব হয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য মেটানোর আন্তরিক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু, রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক সমাজ বা সরকারি অনুদান প্রাপ্ত কর্মচারীরা বোধহয় আর তা মানতে রাজি নন।

একের পর এক রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়েই তা প্রমাণিত। আর এবার তো এসব কিছুকে ছাড়িয়ে, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘হিংস্র ও পাশবিক’ আচরণের অভিযোগ নিয়ে এলেন শিক্ষাবন্ধু ঐক্য মঞ্চের মুখপাত্র নন্দদুলাল দাস। প্রসঙ্গত, রাজ্যের শিকক্ষবন্ধুরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছেন – যে গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্কেল হওয়া সত্বেও তাঁদের মাসিক বেতন মাত্র ৫,২৪০ টাকা! আর গত ৯ বছর ধরে তা অপরিবর্তিত। এমনকি, রাজ্যের শিক্ষাবন্ধুদের সন্তানরা রাস্তায় নেমেছিলেন – ‘মুখ্যমন্ত্রীর জন্য আমরা খেতে পাই না’ – এই বিস্ফোরক পোস্টার নিয়ে।

আর তার পরিপ্রেক্ষিতে, গতকাল রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘোষণা করেন রাজ্যের শিক্ষাবন্ধুদের বেতন একলপ্তে ৪০% বৃদ্ধি করা হল। স্বাভাবিকভাবেই এই খবরে শিক্ষাবন্ধুদের মধ্যে খুশির হাওয়া থাকার কথা। কিন্তু, এই নিয়ে তাঁদের প্রতিক্রিয়া নিতে গিয়ে দেখা গেল, রীতিমত ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই নন্দদুলালবাবু জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করেন, এটা সবার জানা। এবার সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে হিংস্র ও পাশবিক আচরণেও লিপ্ত হয়েছেন তিনি!

নন্দদুলালবাবুর বক্তব্য, সর্বশিক্ষা মিশনের সমস্ত কর্মচারীদের বেতন কাঠামো শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে নির্ধারণ হলেও শিক্ষাবন্ধুদের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। শুধু এখানেই শেষ নয়, সর্বশিক্ষা মিশনের একজন পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট কর্মী অন্য রাজ‍্যে বেতন পান পঞ্চাশ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে, এরাজ‍্যের ক্ষেত্রে সর্বশিক্ষা মিশনের অন‍্যান‍্য পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট কর্মীদের বেতন কুড়ি হাজার টাকা হলেও একজন পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষাবন্ধু হাতে পান মাত্র ৫,২৪০ টাকা। বঞ্চনার উপর বঞ্চনা! আবার পার্শ্বশিক্ষক প্রাথমিক, পার্শ্বশিক্ষক উচ্চ প্রাথমিক, শিক্ষাগত যোগ্যতা আলাদা, বেতনও আলাদা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

নন্দদুলালবাবু আরও বলেন, কিন্তু শিক্ষাবন্ধু প্রাথমিক ও শিক্ষাবন্ধু উচ্চ প্রাথমিক, শিক্ষাগত যোগ্যতা আলাদা হলেও বেতন একই। এবার বেতন বাড়লো শিক্ষাবন্ধুদের বলে মুখ্যমন্ত্রী যেটা করলেন, আসলে সেটা কি? এখন থেকে সর্বশিক্ষা মিশনের একজন গ্রূপ-ডি কর্মীর (অষ্টম শ্রেণী) বেতন হলো ১৫,০০০ টাকা, একজন গ্রূপ-সি কর্মীর (উচ্চ মাধ্যমিক পাশ) বেতন হলো ১৯,০০০ টাকা, একজন গ্র্যাজুয়েট কর্মীর বেতন হলো ২৫,০০০ টাকা, একজন পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট কর্মীর বেতন হলো ২৯,০০০ টাকা – আর একজন পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষাবন্ধুর বেতন হলো মাত্র ৮,০০০ টাকা।

নন্দদুলালবাবুর অভিযোগ, এখানেই শেষ নয় – বর্ধিত বেতন শিক্ষাবন্ধু বাদে সবার ক্ষেত্রে লাগু হবে ২০১৮ সাল থেকে, অথচ শিক্ষাবন্ধুদের ক্ষেত্রে লাগু হবে ২০১৯-এর জানুয়ারি থেকে। অর্থাৎ শিক্ষাবন্ধু বাদে সবাই এক বছরের এরিয়ার পাবেন। শিক্ষাবন্ধুদের ক্ষেত্রে কোনো এরিয়ার নেই! অথচ সবাই সর্বশিক্ষা মিশনের অফিস স্টাফ। যেহেতু ন‍্যায‍্য দাবিতে শিক্ষাবন্ধু ঐক‍্য মঞ্চ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের উপর পাশবিক অত‍্যাচার নামিয়ে আনলেন। পৃথিবীতে সরকারি কর্মচারীদের নানান সংগঠন থাকবে এটাই স্বাভাবিক – আর ন‍্যায‍্য দাবিতে আন্দোলন হবে এটা আরও স্বাভাবিক।

নন্দদুলালবাবুর আক্ষেপ, কিন্তু এরকম হিংস্র ও পাশবিক আচরণ আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোথাও শোনা যায়নি! তাই শিক্ষাবন্ধু ঐক‍্য মঞ্চ ঠিক করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁদের নিয়ে ব্রিগেডে মিটিং করেছেন তাঁদের প্রত‍্যেককে চিঠি পাঠাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিচারিতা, বিমাতৃসুলভ আচরণ, হিংস্রতা ও সরকারি কর্মচারীদের উপর পাশবিকতা নিয়ে গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে। তাই আগামী ১ লা ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার করুনাময়ী থেকে দুপুর ১ টায় শুরু হতে চলেছে ঐতিহাসিক মহামিছিল। সর্বশিক্ষা মিশনের সমস্ত কর্মচারীবৃন্দ, তাঁদের পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি সকলেই এই মিছিলে সামিল হতে চলেছে। যেখানে বাধা দেওয়া হবে, সেখানেই বসে পরে আন্দোলন তীব্রতর করা হবে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!