এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > তরুণ শিক্ষককে বিডিওর হেনস্থা – কি হল চেয়ারম্যানের কাছে শুনানিতে? জানুন বিস্তারিত

তরুণ শিক্ষককে বিডিওর হেনস্থা – কি হল চেয়ারম্যানের কাছে শুনানিতে? জানুন বিস্তারিত

গত ২৮ শে আগস্ট নাকাশিপাড়া বিডিও অফিসে প্রাথমিক শিক্ষকদের ডিও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানেই ট্রেনিংয়ের শেষে তরুণ শিক্ষক শাশ্বত ঘোষ ট্রেনিং নিতে আসা দুই আধিকারিককে দুটি আপাত নিরীহ প্রশ্ন করেন। এক, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সাধারণত ১৫ দিন ধরে চলে, কিন্তু এবছর তা হতে চলেছে দুমাস ধরে। তারমধ্যে পুজোর ছুটিও পড়ছে – কি পরিস্থিতিতে এতদিন ধরে এই কাজ চলছে? আর দুই, এই দুমাস ধরে যে কাজ করতে হবে – তার জন্য এই ডিও ডিউটিরতদের প্রাপ্য কি হবে?

অতি নিরীহ এই দুটি প্রশ্ন ঘিরেই এরপর তুলকালাম কান্ড ঘটে নাকাশিপাড়া বিডিও অফিসে আর যা নিয়ে রীতিমত তোলপাড় গোটা রাজ্য। শাশ্বতবাবুর তোলা এই প্রশ্নদুটি আসলে এই ডিও ডিউটি করতে ‘বাধ্য হওয়া’ হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের! কিন্তু শাশ্বতবাবুর করা প্রশ্নের কোনো উত্তর ছিল না ট্রেনিং দিতে আসা দুই আধিকারিকের কাছে, এমনকি তার উত্তর ছিল না স্বয়ং বিডিওর কাছেও! আর তাই এই প্রশ্ন তোলার জন্য – মেজাজ হারিয়ে, ‘হুইপ’ জারি করে, ‘সাসপেনশনের’ ভয় দেখিয়ে – নিজের ক্ষমতার অহমিকা প্রকাশের নিদারুন নমুনা রাখলেন বিডিও – যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে ভাইরাল।

তবে এখানেই শেষ নয় – এই ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ ২৯ শে আগস্ট নাকাশিপাড়ার বিডিও কৃষ্ণনগরের ডিআই ও নদীয়ার সংসদের চেয়ারম্যানকে দুটি চিঠি পাঠিয়ে শাশ্বতবাবুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ‘অনুরোধ’ করেন। কিন্তু অভিযোগ, তিনি তাঁর চিঠির বয়ানে রীতিমত ‘মিথ্যা’ অভিযোগ নিয়ে এসেছেন! বিডিওর পাঠানোর মেমো অনুযায়ী, বিডিও সমগ্র ঘটনায় লজ্জিত – কারণ, শাশ্বতবাবু সেদিন তাঁর সঙ্গে নাকি অভদ্র ব্যবহার করেছেন, ট্রেনিংয়ে গিয়ে সই করেননি ও ডিও ডিউটি নেন নি! আর তাই, বিডিওর অভিযোগ পেয়ে ৩০ তারিখেই এসআই শাশ্বতবাবুকে একটি শো-কজ নোটিশ পাঠান এবং তিন দিনের মধ্যে তার উত্তর দিতে বলেন। তবে শাশ্বতবাবুর জবাবের জন্য তিন দিন অপেক্ষা না করেই – তার পরের দিন অর্থাৎ ৩১ তারিখ স্বয়ং চেয়ারম্যান শাশ্বতবাবুকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠান!

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

পাবলিক হলিডে ও শনি-রবিবারের ছুটির জন্য শাশ্বতবাবু শো-কজ লেটার পাওয়ার পর ২ রা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসআই অফিস বন্ধ ছিল। তাই, গতকাল সকালে এসআই অফিস খুলতেই, তিনি সেখানে সেই শো-কজের জবাব জমা দেন। অন্যদিকে, বিকেল ৩ টের সময় চেয়ারম্যান যে শুনানির জন্য ডেকেছিলেন – সেখানেও তিনি যথাসময়ে হাজিরা দেন। শুনানির সময়, চেয়ারম্যান ছাড়াও এআই ও ডিআইও উপস্থিত ছিলেন। শাশ্বতবাবুর কথা অনুযায়ী বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশেই শুনানি হয় – তাঁকে সেদিনের ঘটনার কথা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি ডিও ডিউটি শুরু করেছেন কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়। শাশ্বতবাবুর সঙ্গে কথা বলার পরে তিন আধিকারিকই জানান – তিনি যখন ডিউটি শুরু করেছেন তাহলে আর অসুবিধা কিছু নেই – তবে সেদিনের ঘটনা নিয়ে তিনি যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি না করতেন তাহলেই বোধ হয় ভালো হত।

তবে এই ঘটনা, এখানেই ছেড়ে দিতে রাজি নন প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশ। কেন শুধুমাত্র ডিও ডিউটি প্রতিবার প্রাথমিক শিক্ষকদেরই করতে হবে? আর কেন তার জন্য পারিশ্রমিক এত কম? প্রশ্ন উঠছে এসব নিয়েও! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক নেতার বক্তব্য, যে কাজ করিয়ে যে পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে – তা রীতিমত লজ্জাজনক! বাড়িতে কিষান-মজুর লাগলেও এর থেকে বেশি পারিশ্রমিক দিতে হয়! কিন্তু পারিশ্রমিকের থেকেও বড় কথা – এই কাজ যা করতে আমরা (প্রাথমিক শিক্ষকরা) ‘বাধ্য’ নই, তা কেন বছরের পর বছর আমাদেরই করতে বাধ্য করা হবে – আর সেখানেও কেন প্রশাসনের কর্তারা আমাদের সঙ্গে এইভাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করবেন – শিক্ষক বলে আমাদের ন্যূনতম সম্মানটুকুও দেওয়া হবে না?

আর এইসব প্রশ্ন তুলেই গতকাল সকালে নদীয়া জেলা সংসদের চেয়ারম্যানকে একটি স্মারকলিপি জমা দেন একটি বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শসম্পন্ন শিক্ষক সংগঠনের একাংশ। পরে শাশ্বতবাবুর শুনানি শেষ হয়ে গেলে আরেকটি স্মারকলিপি শিক্ষকদের দলমত নির্বিশেষে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের তরফে নদীয়া জেলা সংসদের চেয়ারম্যানকে জমা দেওয়া হয়। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, দুটি স্মারকলিপিই তিনি গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, শাশ্বতবাবুর ঘটনাটিকে সামনে রেখে আজ কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হতে চলেছে বলে জানা গেছে। আর সেই মামলায় মামলাকারীদের পক্ষে এক বিশিষ্ট বাম মনোভাবাপন্ন আইনজীবী দাঁড়াতে চলেছেন বলে জানা গেছে। জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারকেও এই নিয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলেও জানা গেছে। সবমিলিয়ে – শাশ্বতবাবুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই, রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বারুদে যেন অগ্নিসংযোগ হয়ে গেছে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!