এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ভোট মিটতেই মুকুল-কৈলাশের নির্দেশে শঙ্কুর নেতৃত্বে ছাত্র-যুব রাজনীতিতে শুরু ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’

ভোট মিটতেই মুকুল-কৈলাশের নির্দেশে শঙ্কুর নেতৃত্বে ছাত্র-যুব রাজনীতিতে শুরু ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’

কৈলাশ বিজয়বর্গীয়-মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েই একদা টিএমসিপি রাজ্য সভাপতি শঙ্কুদেব পণ্ডা জল্পনা বাড়িয়েছিলেন, এবার তৃণমূলের ‘গর্বের’ ছাত্র-যুব সংগঠনে তিনি ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালাবেন। বস্তুত বাংলায় প্রায় ১৫ লক্ষ ছাত্র-যুব ভোট আছে, যাদের মধ্যে অন্তত ৯ লক্ষ ভোট গেরুয়া শিবিরের হিসাবে ‘ভোলাটাইল’ – অর্থাৎ যে কোন মুহূর্তে যে কোন দিকে ঘুরে যেতে পারে। অমিত শাহের নিজস্ব পর্যবেক্ষক দলের হিসাবে, এবারের লোকসভা ভোটে বাংলায় বহু আসন ক্লোজ-মার্জিনের হতে চলেছে। যেখানে ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’ হয়ে যেতে পারে এই ছাত্র-যুব ভোট।

ফলে, কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ও মুকুল রায়কে ডেকে অমিত শাহ নির্দেশ দেন, এই ভোটব্যাঙ্ককে বিজেপির দিকে নিয়ে আসতে হবে। আর মুকুল রায় এই নির্দেশের কথা শুনেই প্রিয় শিষ্য শঙ্কুদেব পণ্ডাকে গেরুয়া শিবিরে নিয়ে আসার জন্য অমিত শাহদের প্রপোসাল দেন। অমিত শাহও মুকুল রায়ের কাছে, শঙ্কুদেব পণ্ডা কিভাবে প্রায় একক দক্ষতায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রবল বাম সংগঠনের হাত থেকে তৃণমূলের করেছিলেন বা রাজ্যজুড়ে কিভাবে তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের বৃদ্ধি ঘটিয়েছিলেন – তা জেনে আর দ্বিমত করেননি এই তরুণ তুর্কিকে দলে নিতে।

আর, বিজেপিতে যোগ দিয়েই শঙ্কুদেব পণ্ডা কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি সরাসরি পার্থবাবুকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, হিম্মত থাকলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাংলায় ছাত্র নির্বাচন করে দেখান। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই বাংলার সব কলেজে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপির প্রতিনিধিদের জয়ী করে দেখিয়ে দেব! কিন্তু, পার্থবাবু এই নিয়ে কোনো পদক্ষেপের কথা জানাননি – কার্যত বাংলায় ছাত্র নির্বাচনকে হিমঘরে পাঠিয়ে দিয়েছেন! গেরুয়া শিবিরের স্পষ্ট অভিমত, রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন কলেজে যে গন্ডগোলের চিত্র রোজই প্রায় খবরের শিরোনামে থাকে, তার অন্যতম কারণ এই ছাত্র-নির্বাচন তুলে দেওয়া।

গেরুয়া শিবিরের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র-নির্বাচন না হওয়ায়, কলেজ থেকে পাশ করে গিয়েও ‘বহিরাগত’ হয়েই এখনও ছাত্র ইউনিয়নে ‘দাদাগিরি’ চালাচ্ছেন বহু নেতা! আর তারফলেই নাকি, ছাত্র রাজনীতিতে প্রবলভাবে জেঁকে বসেছে ‘তোলাবাজি’। আর এসবের মাঝেই, রাজ্য সরকার তথা শিক্ষামন্ত্রী যখন ছাত্র নির্বাচন নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করছেন না, তখন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়-মুকুল রায়ের নির্দেশে এবার রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন কলেজে এবার ছাত্র-সংসদের রঙ সবুজ থেকে গেরুয়া করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন শঙ্কুদেব পণ্ডা, শুধু তাই নয় তিনি এবার হাত দিলেন শাসকদলের যুব নেতৃত্বেও ভাঙ্গন ধরাতে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

লোকসভা নির্বাচনের মাঝেই শঙ্কুদেব পণ্ডা উত্তরবঙ্গের বহু কলেজের রঙ গেরুয়া করে দিয়েছিলেন, আর নির্বাচনের ফল বেরোতেই স্পষ্ট তার সুফল মিলেছে গেরুয়া শিবিরের। উত্তরবঙ্গের ৮ টি আসনের মধ্যে ৭ টি আসনেই জয়লাভ করেছে বিজেপি, শুধুমাত্র মালদা-দক্ষিণ একটুর জন্য হাতছাড়া। আর এই বিশাল জয়ে যে ছাত্র-যুব ভোটের বড়সড় অবদান আছে এবং সেই ছাত্র-যুব ভোট গেরুয়া শিবিরের দিকে টেনে আনতে বড়সড় ভূমিকা নিয়েছেন শঙ্কুদেব পণ্ডা, তা মেনে নিচ্ছে খোদ অমিত শাহের অফিস। ফলে, রাজধানীতে ভোটের ফলাফল নিয়ে কাটাছেঁড়াতে প্রবলভাবে উঠে আসছে এই তরুণ তুর্কির নাম।

আর গতকাল লোকসভার ফলাফল চূড়ান্ত হয়ে যেতেই আজ রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০০ টি কলেজের রঙ গেরুয়া হয়ে গেল শঙ্কুদেব পণ্ডার নেতৃত্বে। বিজেপির সদস্যরা, কলেজে ঢুকে গেরুয়া আবির খেলার পাশাপাশি সেখানে টাঙিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি! বঙ্গ-রাজনীতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও কলেজে তৃণমূল নেত্রীর ‘অনুপ্রেরণার’ ছবি টাঙানো থাকতেই দেখতে এতদিন অভ্যস্ত ছিল। সেখানে, বিজেপি বা বিজেপির ছাত্র সংগঠনের নামোচ্চারন করলেও, টিএমসিপির সদস্যদের হাতে নিগৃহীত হওয়ার ভুরি ভুরি অভিযোগ সামনে এসেছে। কিন্তু শঙ্কু ময়দানে নেমে খেলতেই এবার বোধহয় ছাত্র রাজনীতিতে খেলা ঘুরতে শুরু করে দিল বাংলায়!

শঙ্কু-ঘনিষ্ঠরা বাংলার কলেজে-কলেজে এই ‘গেরুয়া বিপ্লবকে’ আদর করে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বলে অভিহিত করছেন। তাঁদের মতে, বিজেপির যে কতখানি সাংগঠনিক শক্তি তা দেখে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা যেরকম স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন, তেমনই এতদিন অন্য কোনো বিকল্প শক্তি না পেয়ে, যাঁরা শাসকদলের ছাত্র রাজনীতি করতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছেন, তাঁরাই এখন পিছন থেকে শঙ্কুদেব পণ্ডার মত দাপুটে নেতা নেতৃত্ব দিচ্ছেন শুনেই হাসিমুখে ওই শিবির ছেড়ে বিজেপি জয়েন করছেন। আর সেই স্বতঃস্ফূর্ত যোগদানের সংখ্যাটা যে কত, তা শাসকদল কিছু অনুমানই করতে পারছে না। ফলে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটার পর একটা কলেজ সবুজ থেকে ক্রমশ গেরুয়া হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে, শুধু ছাত্র রাজনীতিই নয় – শঙ্কুদেব সমান তালে পাল্লা দিয়ে তৃণমূলের যুব নেতৃত্বেও বড়সড় ভাঙ্গন ধরাতে চলেছেন। সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের অন্তত ১৫ জন দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেস যুবনেতা এবার বিজেপিতে নাম লেখাতে চলেছেন। সবকিছু ঠিকঠাক – শুধুমাত্র সরকারিভাবে বিজেপির পতাকা হাতে নেওয়াই বাকি। এমনকি, দক্ষিণবঙ্গের বহু হেভিওয়েট যুবনেতা ইতিমধ্যেই শঙ্কুদেব পণ্ডার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তাঁদের সঙ্গেও কথাবার্তা প্রায় পাকা। যে কোন দিন শঙ্কুদেব পণ্ডা বা মুকুল রায়ের হাত ধরে তাঁরা বিজেপিতে যোগদান করতে চলেছেন বলে জানা গেছে। সবমিলিয়ে, শঙ্কুদেব পণ্ডা ময়দানে নামতেই, নতুন করে জমে গেল বাংলার ছাত্র-যুব রাজনীতি বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!