এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > NRC অঙ্কেই তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক ছারখার করতে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ শঙ্কুর? মান্যতা দিলেন দিলীপ ঘোষ

NRC অঙ্কেই তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক ছারখার করতে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ শঙ্কুর? মান্যতা দিলেন দিলীপ ঘোষ

বৰ্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলায় বড় ভূমিকা নিতে চলেছে এনআরসি। লোকসভা নির্বাচনেই প্রমাণিত – বাংলার দুই যুযুধান রাজনৈতিক পক্ষের নাম – তৃণমূল ও বিজেপি। বিজেপি ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে অনেকটা মাটি কেড়ে নিলেও, নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবার পরিকল্পনায় কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল। আর সেই, ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে রাজ্যের শাসকদলের বড় অস্ত্র হতে চলেছে এনআরসি।

গেরুয়া শিবিরের নেতারা, বারেবারেই দাবি করে আসছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কের বড় শক্তি নাকি সংখ্যালঘু ও বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। আর তাই, বাংলা তথা গোটা দেশেই এবার আসামের মত এনআরসি প্রক্রিয়া হবে, আর সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতে ঘাঁটি গেড়ে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ হবে। আর বিজেপির এই দাবিকেই হাতিয়ার করে রাজ্যজুড়ে ঝড় তুলতে পথে নেমেছেন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল নেত্রী তথা সমগ্র তৃণমূল নেতৃত্বের কথা হচ্ছে, বিজেপি এনআরসির নামে কার্যত যে কোনো বিরোধী মনোভাবাপন্ন ভারতীয়কেই দেশ থেকে বের করে দিতে পারে! আর তৃণমূল কংগ্রেস তা কিছুতেই হতে দেবে না! স্বাভাবিকভাবেই, এই রাজনৈতিক চাপানউতোরে সব থেকে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ! কোনটা ঠিক, আর কোনটা ভুল – সেই ধন্দ্বেই, এখন তথ্য ও নথি সংগ্রহে ছোটাছুটি শুরু করেছেন তাঁরা। রাজনৈতিক মহলের অভিমত – আর সাধারণ মানুষের এই মনোভাবকে কাজে লাগিয়েই ক্রমশ রাজনৈতিক ভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তৃণমূল।

এই পরিস্থিতিতে, গতকাল তৃণমূল ভবনের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানে গিয়ে বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা বিস্ফোরকভাবে বলেন, টেকনিক্যাল ব্যাপার আমি বুঝি না। আমি শুধু বিজেপি কর্মীদের বলব, আপনারা মানুষের ঘরে ঘরে যান। মানুষকে বলুন, মানুষকে বোঝান যে, মন দিয়ে বিজেপিটা করুন। এনআরসি নিয়ে চিন্তা করার বিষয়টা আমাদের, আমরা বুঝে নেব। আপনাদের কেউ উচ্ছেদ করবে না, শুধু বিজেপিটাই করুন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র বিজেপিটাই করুন – কারণ, একমাত্র বিজেপিই আপনাকে সুরক্ষিত ভারতবর্ষ দিতে পারে। এক মাত্র বিজেপি আপনাকে সুরক্ষিত বাংলা দিতে পারে। এক মাত্র বিজেপি আপনাকে সুরক্ষিত ওয়ার্ড দিতে পারে। এক মাত্র বিজেপি আপনাকে সুরক্ষিত পরিবার এবং মাথার উপর ছাদ দিতে পারে। তাই বিজেপি করতে হবে। আর শঙ্কুদেবের এহেন বিস্ফোরক কথাবার্তাকে কার্যত ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলে অভিহিত করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

কেন এইসব ‘হুঙ্কার’ মাস্টারস্ট্রোক? দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গ-রাজনীতিকে খুব কাছ থেকে দেখা বেশ কিছু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, শঙ্কুদেব কালকে যেভাবে বা যে ভাষায় কথা বলেছেন, তাতে তিনি কোথাও আইন ভাঙেননি। কিন্তু তিনি ঘুরিয়ে বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা এনআরসি আশঙ্কায় ভুগছেন, তাঁরা যদি গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান – তাহলেই মোটামুটি এনআরসি থেকে বেঁচে যাবেন। কেননা কেন্দ্রে রয়েছে বিজেপি সরকার, হয়ত আগামীদিনে বাংলাতেও আসবে বিজেপি সরকার – আর তাই, কোনো বিজেপি কর্মী বা সমর্থককে এনআরসির আওতায় এনে বাদ দিয়ে নিজেদের ভোটব্যাঙ্ককে হারাতে চাইবে না তারা।

কিন্তু, শঙ্কুদেবের এইসব কথা তো আদতে ‘নেগেটিভ পলিটিক্স’! ঐসব বিশেষজ্ঞদের মতে, এনআরসি নিয়ে বিজেপি এতদিন ‘সদর্থক বার্তা’ দেওয়ার অনেক চেষ্টা করেছে। এমনকি খোদ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এসে স্পষ্ট জানিয়েছেন – আগে ‘সিএবি’ হবে, তারপর ‘এনআরসি’ করা হবে! কিন্তু, তারপরে তা চাপা দিতেই যেন এনআরসির বিরুদ্ধে ‘নেগেটিভ’ প্রচার বেড়ে গেছে বহু গুন! এনআরসি বিরোধী প্রচারের ঝাঁঝ তুঙ্গে নিয়ে গেছে রাজ্যের শাসকদল। সুতরাং, সেই ‘নেগেটিভকে’ কাটতে শঙ্কু যদি ‘নেগেটিভ পলিটিক্স’ করে – তাতো আদতে ‘পসিটিভ রেসাল্ট’ দেবে বিজেপিকে!

ওই সব বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি শঙ্কুর কথাবার্তার সমালোচনা করতে পারেন – কিন্তু, তা যদি দল হিসাবে বিজেপিকে ‘মাইলেজ’ দেয়, তাহলে তাকে তো স্বীকৃতি দিতেই হবে! আর শঙ্কুর এই ধরনের বিস্ফোরক কথাবার্তার কিছুক্ষনের মধ্যেই, এই ‘স্ট্র্যাটেজিকে’ কার্যত মান্যতা দিয়ে দিয়েছেন খোদ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপবাবু গতকালই জানিয়েছেন, শঙ্কুদেব পণ্ডা ঠিকই তো বলেছেন! আমরাই তো সামলে নেব! এনআরসি এখনও হয়েছে কোথায়? এত ভয় পাওয়ারই বা কী আছে? বিজেপির উপরে আস্থা রাখুন, কারও কোনও অসুবিধা হবে না।

অর্থাৎ, শঙ্কুদেব আইন বাঁচিয়ে যেভাবে হুঙ্কার ছেড়েছেন যে বিজেপি করলেই এনআরসি নিয়ে আতঙ্কিত হতে হবে না, বিজেপি ঠিক ‘বাঁচিয়ে’ দেবে – সে কথাকেই মান্যতা দিচ্ছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বও। আর তাই সবমিলিয়ে বলায় যায়, আগামীদিনে রাজ্যজুড়ে বিজেপির এনআরসি নিয়ে ঘোষিত প্রচারের লাইনই এদিন কার্যত বলে দিয়ে গেলেন শঙ্কুদেব পণ্ডা। আর, এরফলে এনআরসি আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর হিড়িক রাজ্যজুড়ে পড়তেই পারে! সেক্ষত্রে, শঙ্কুদেব পণ্ডার ‘হুঙ্কারকে’ মাস্টারস্ট্রোক না বলে উপায় আছে কি? প্রশ্ন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের!

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!