এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > প্রশাসনিক সভায় পুলিশের বিরুদ্ধে বড়োসড়ো অভিযোগ মমতার, চরম অসন্তুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী

প্রশাসনিক সভায় পুলিশের বিরুদ্ধে বড়োসড়ো অভিযোগ মমতার, চরম অসন্তুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী

এ যাবতকালে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী যারপরনাই অসন্তুষ্ট হয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকদের ওপর। কাজে গাফিলতি নিয়ে তাঁদের অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ধমক খেয়েছেন। রীতিমতন মুখ্যমন্ত্রীর মেজাজের কাছে তাঁরা চুপ থেকেছেন। কিন্তু ইদানিং মুখ্যমন্ত্রীর অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে রাজ্য পুলিশ। এদিন এমনই ঘটনার সাক্ষী রইল মেদিনীপুরের ডেবরায় প্রশাসনিক সভায়।

মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এদিন পরিষ্কার করে তিনি জানিয়েছেন, যে কোনো অশান্তির ঘটনায় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে যে তৎপরতার সাথে স্টেপ নেওয়া হচ্ছে, সেখানে অন্য দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তা নেওয়াই হচ্ছে না। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর চরম অসন্তোষ দেখল আজকে মেদিনীপুর প্রশাসন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধেই এত হেনস্তার অভিযোগ কেন উঠছে? তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে তা নেওয়া হচ্ছে, অন্য দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নেওয়াই হচ্ছে না?’ সরাসরি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল এখন সোজা হয়ে গিয়েছে। অটো থেকে টোটো – কারা সিম্বল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়? জানেন না!’ মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে তার কাজ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে বলেছেন। প্রশাসনিক বৈঠকে পাঁশকুড়া, পিংলা, কেশপুর এবং ঘটক থানার পুলিশের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী তার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

তবে এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কি তাহলে তাঁর আমলারাই প্রথম পদক্ষেপ নিচ্ছে ? এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে অবশ্য সে কথাই প্রকাশ পাচ্ছে ঠারেঠোরে।

এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে ঝাড়গ্রামের আই সি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঝাড়গ্রাম কেন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে? আপনি তো অকাজ করছেন! আপনাকে তো কাজ করতে পাঠানো হয়েছিল।’ প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে, হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বলতে মুখ্যমন্ত্রী কি বলতে চাইছেন? তাহলে কি অন্য কোন রাজনৈতিক দলের উত্থান সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী ইশারা দিলেন ? সে বিষয়েই কি সাবধান করলেন পুলিশ কর্তাকে ?

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিন তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন ‘রেড করতে যাওয়ার সময় যেন কেউ জানতে না পারে।’ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় পাচার চক্র কাজ করছে। কিন্তু পুলিশের রেড হওয়ার আগেই কোনোভাবে তাদের কাছে খবর পৌঁছে যাচ্ছে এবং তারা পালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনাকে আটকানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এছাড়াও পূর্ত দপ্তরের বিরুদ্ধেও মুখ্যমন্ত্রী এদিন মুখ খোলেন। দফতরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘706 টি অভিযোগ পেয়েছি। রক্ষণাবেক্ষণের কাজে গাফিলতি রয়েছে কেন ? অন্য দপ্তরের কাজ তোমরা করতে চাও না।’মুখ্যমন্ত্রী চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে এবার বললেন, ‘দলীয় কর্মীরা দোষ করলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নিই। এবার সরকারি কর্মীরা দোষ করলেও তাই করব।’

আজকের প্রশাসনিক বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। তাঁদের মতে, এতদিন পর্যন্ত প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঠিকই, কিন্তু আজকে মুখ্যমন্ত্রী রীতিমতো জায়গার নাম করে সেখানকার পুলিশকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। কেন কোনো বিশেষ জায়গায় প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ? শুধুমাত্র কি আইন-শৃঙ্খলা? নাকি এর পেছনে আছে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের উত্থানের কারণ? যদিও এই প্রশ্নের একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!