এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > প্রশাসনিক উদাসীনতায় শস্যবীমা না থাকায় বাঁকুড়ার সোয়া দুলক্ষ চাষী পাচ্ছেন না ক্ষতিপূরণ! দায় কার?

প্রশাসনিক উদাসীনতায় শস্যবীমা না থাকায় বাঁকুড়ার সোয়া দুলক্ষ চাষী পাচ্ছেন না ক্ষতিপূরণ! দায় কার?

আমন ধানের মরশুমে বাঁকুড়ার ২ লক্ষ ২৬ হাজার ১০০ জন চাষী বিমার আওতার বাইরে রয়েছেন। ফলত এবছর খরাজনিত পরিস্থিতির শিকার ওইসব চাষীরা শস্যবিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন। আগে ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি চাষীদের পকেটে আসলেও বর্তমানে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার শস্যবিমার প্রিমিয়ামে ওই টাকা দেয়।

কিন্তু এ বছর সরকারের উদাসীনতার কারণে চাষীদের খেসারত দিতে হবে। এই ইস্যুর সমাধাণসূত্র খুঁজত এদিন জরুরি বৈঠকে বসেন বাঁকুড়ার উপকৃষি অধিকর্তা সুশান্ত মহাপাত্র দপ্তরের আধিকারিক ও বিমা কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন উপকৃষি অধিকর্তা। এবং আগামী মরশুম থেকে যাতে সবথেকে বেশি সংখ্যক চাষীদেরকে বিমার আওতায় আনা যায় সেদিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেন। অন্যদিকে,কীভাবে চাষীদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা যায় সে ব্যাপারে জেলাশাসক ও কৃষিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা ওন্দার বিধায়ক অরূপ খাঁ।

কৃষিদপ্তর সূত্র থেকে জানা গিয়েছে,এবছর মোট ৩ লক্ষ ৮০ হাজার চাষী ৩ লক্ষ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান উৎপাদন করে। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান কম চাষ হয়। তাছাড়া এবার জেলায় ১ লক্ষ হেক্টরেরও বেশি জমিতে তীব্র জলের অভাব থাকায় ফলন ব্যাপক হারে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেই আশঙ্কা কৃষিদপ্তরের আধিকারিকদের।

এই প্রেক্ষিতে চাষীদের যদি কৃষিবিমার আওতায় আনা যায়,তবেই এই সমস্যাকে রোখা সম্ভব। তবে এদিনের জরুরি বৈঠকে ফলনের ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত যে তথ্য উঠে এসেছে তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা।

দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার মোট আমন চাষীদের মধ্যে মাত্র ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৯০০ জন শসবিমার আওতায় রয়েছেন। এদের মধ্যে আবার সমবায় সহ অন্যান্য ব্যাঙ্ক থেকে কৃষি ঋণ নেওয়ার জন্য ৬২ হাজার চাষী বিমার আওতায় আসেন।

অন্যদিকে,ঋণ না নিলেও ৯১ হাজার ৯০০ জন চাষী নিজেদের উদ্যোগেই কৃষিদপ্তরের সাহায্যে বিমার সুবিধা নিয়ে থাকেন। তবে এবছর যদি ওইসব কমবৃষ্টি হওয়া এলাকা প্রশাসন খরাপ্রবন এলাকা বলে ঘোষণা না করে তবে বিমার আওতার বাইরে থাকা সিংহভাগ চাষীরা ক্ষতিপূরণের টাকা থেকে বঞ্চিত হবে। এদিকে বিমার টাকা আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে চাষীদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে যাবো।

আর ততোদিনে লোকসভা ভোট চলে আসবে। তখন, শুধু কিছু সংখ্যাক চাষী এই ক্ষতিপূরণের টাকার সুবিধাটা পেলে স্বাভাবিকভাবেই বাকিদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাধতে শুরু করবে। অথচ কৃষিদপ্তরের আধিকারিক এবং প্রশাসনের তরফ থেকে সঠিক সময়ে প্রচার করলেই বিনা মূল্যে চাষীরা বিমার সুবিধা পেতে পারতেন।

এখন কার গাফিলতিতে চাষীরা বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অবিলম্বে গ্রহন করা উচিৎ বলেই মনে করছেন শাসকদলের একাংশ।কারণ, সামনেই লোকসভা ভোট৷ এই অবস্থায় ভুক্তভোগী চাষীদের এলাকা খরা ঘোষণা না করলে পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা রাজ্যসরকারের।আর নেতিবাচক প্রভাব গিয়ে পড়বে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তাছাড়া বিরোধীরা এটাকেই ইস্যু করে রাজ্যসরকারকে আক্রমণ করার সম্পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমস্যা থেকে নিস্তার পেতেই ভোট আসার আগে চাষীদের সন্তুষ্ট করার কথা ভাবছে প্রশাসন। আগামী ২৮ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর বাঁকুড়া জেলা সফরে আসার কথা। খরা ঘোষণাটি পুরোপুরি নেত্রীর নির্দেশে হবে বলেই জানান কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার। তাই মুখ্যমন্ত্রীর সফরের দিকেই পাখির চোখ করে অপেক্ষায় রয়েছেন বাঁকুড়ার চাষীরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!