এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > শাসক দল হয়ে ওঠার কিছুদিনের মধ্যেই ত্রিপুরার বিজেপি দলে অনিশ্চয়তার ছায়া

শাসক দল হয়ে ওঠার কিছুদিনের মধ্যেই ত্রিপুরার বিজেপি দলে অনিশ্চয়তার ছায়া

ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র 14 মাসের মধ্যেই ত্রিপুরায় বইছে উল্টা হওয়া। সবে মাত্র বছর ঘুরেছে। 2018 সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি সরকার ত্রিপুরায়। দীর্ঘদিনের বাম দুর্গে ধস নেমেছিল গেরুয়া ঝড়ে। ত্রিপুরার মসনদে বসে ছিলেন বিজেপির বিপ্লব দেব। কিন্তু বর্তমানে ক্রমশ জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে বিজেপি শিবির সেখানে। বর্তমান খবর, ক্রমশই এরাজ্যে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে গেরুয়া শিবির। গোটা ত্রিপুরা জুড়ে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, বিজেপির জনপ্রিয়তা যে হারে কমছে ততোধিক হারে উঠে আসছে কংগ্রেস ও বাম।

ত্রিপুরায় বিজেপির জনপ্রিয়তা এভাবে এত কম সময়ের মধ্যে কমে যাওয়ার কারণে অবধারিতভাবে উঠে আসছে একটিই নাম- বিপ্লব কুমার দেব। বিজেপি দলের অন্দর থেকেই তাঁকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিজেপির বহু নেতা-নেত্রীদের কথায় প্রকাশ পাচ্ছে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব এর কারণেই যত দিন যাচ্ছে কংগ্রেস এবং সিপিএম শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এবং ত্রিপুরার পুরনো বিজেপি সদস্য এবং নতুন বিজেপি সদস্যদের মধ্যে অনেকেরই বিশ্বাস, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও রাজ্য বিধানসভার উপ বিরোধী দলনেতা বাদল চৌধুরীকে যেভাবে হেনস্থা করছেন বিপ্লব দেব, সে কারণে বিজেপির জনপ্রিয়তা ক্রমশ নিম্নমুখী।

প্রসঙ্গত, 2018 সালে দীর্ঘদিনের বাম শাসনকে হারিয়ে দিয়ে ত্রিপুরার আসন দখল করে বিজেপি ও আইপিএফটির জোট সরকার। অবধারিতভাবে বাম শাসনের অবসানের জন্য বহু তৃণমূল ও কংগ্রেস সদস্য বিজেপিতে চলে যান। অন্যদিকে, বিপ্লব দেব মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বিভিন্নভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করেন রাজনৈতিক মহলে। এর সাথে চলে ত্রিপুরায় বিরোধীদের ওপর কড়া আক্রমণ। শুধু বিরোধী নয়, বিজেপির আক্রমণের শিকার হয় তাঁদের শরক দলও। বহুবার প্রকাশ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছে শরিক দল আইপিএফটি। অন্যদিকে কংগ্রেস ও সিপিএম পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিজেপি সরকারের শাসনকালে, যা যথেষ্ট ছাপ পড়েছে জনমানসে বলে দাবি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সব থেকে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বাম নেতা বাদল চৌধুরী গ্রেফতারিতে। অসুস্থ থাকা সত্বেও তাকে যেভাবে বিপ্লব দেবের নির্দেশানুসারে অমানবিক আচরণ করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাতে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ত্রিপুরার সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনো পর্যন্ত সঠিক কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা যায়নি। বাদল চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে গত 21 অক্টোবর প্রশাসন গ্রেপ্তার করে। কিন্তু এতগুলো দিন চলে গেলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো চার্জশিট জমা পড়েনি। যদিও বর্তমানে জামিনে মুক্ত হয়ে গেছেন বাদল চৌধুরী।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

আর এই ঘটনার পর থেকেই সিপিএম ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁদের বর্তমানে ঘুরে দাঁড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে বাদল চৌধুরীর গ্রেপ্তারি। আর এক্ষেত্রে তাঁরা বাদল চৌধুরীর স্বচ্ছ ইমেজকে কাজে লাগাচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, সিপিএমের পক্ষ থেকে তীব্র অভিযোগ জানানো হয়েছে এই মর্মে, বিজেপি তাঁদের সাথে প্রতিহিংসার রাজনীতি চালাচ্ছে। গত শনিবার সিপিএমের উদ্যোগে ত্রিপুরা উপজাতি সংগঠনের একটি কর্মসূচি ছিল, যেখানে ভিড় হয়েছিল নজরকাড়া। অন্যদিকে, ত্রিপুরায় ইদানিং কংগ্রেসের যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও ভিড় হচ্ছে যথেষ্ট।

এদিকে ত্রিপুরায় বিজেপির সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যেও তীব্র হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিজেপির পক্ষ থেকে ত্রিপুরার নতুন প্রদেশ সভাপতি করা হয়েছে ডক্টর মানিক সাহাকে। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধেও দলের থেকে উঠেছে এক ঝাঁক অভিযোগ। অন্যদিকে বিজেপি বিধায়করা অনেকেই বিপ্লব দেব এর বিরোধিতা শুরু করেছেন। তাঁদের অনেকেই বলছেন, ‘বিপ্লবই তো জাগিয়ে তুলেছেন সিপিএমকে। তাঁর উল্টোপাল্টা কথার জন্য বাংলাতেও ভুগতে হবে দলকে।’ এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব প্রকাশ্যে তাঁর নিজের দলের বিধায়কদেরও হুমকি দিয়েছেন।

কেন এই দুর্দশা বিজেপির এত অল্প সময়ের মধ্যে ত্রিপুরায় ? এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলের একাংশ জানাচ্ছেন, ত্রিপুরায় বিজেপির মধ্যে শরিকি কোন্দল তো রয়েইছে, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইদানিং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সহ একাধিক ইস্যু। যেগুলি বিজেপির বিপক্ষে যাচ্ছে। অন্যদিকে, সূত্রের খবর, ত্রিপুরায় বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে চাইছে কংগ্রেস। তাই বলা যাচ্ছে, ত্রিপুরার রাজনীতিতে ফের বদল এর হাওয়া প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতাদের মনে ইতিমধ্যে এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে,যেভাবে বিজেপির ত্রিপুরা সরকার পরিচালনায় ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সামনের দিনে বাংলাতে। যার সুবিধা পাবে তৃণমূল কংগ্রেস।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!