এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সন্ময় কান্ড নিয়ে বিরোধীরা একজোট হতেই বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন মুখমন্ত্রী

সন্ময় কান্ড নিয়ে বিরোধীরা একজোট হতেই বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন মুখমন্ত্রী

Priyo Bandhu Media

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত ঘটনায় গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে ওঠে। শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ করায় পুলিশ এসে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরকম একটি ঘটনা ঘটার ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলি শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

সম্পূর্ণ ঘটনাটি ঘটে কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন সাংবাদিক সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে। এই গ্রেপ্তারি ইস্যুতে কংগ্রেসের সাথে একই সুরে সুর মিলিয়ে প্রতিবাদ করেছেন বাম দল ও রাজ্য বিজেপি। কংগ্রেস নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন। ফলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার নিয়ে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোই নয়, রাজ্যজুড়েও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও একইভাবে প্রতিবাদ করা হয়। আর তারপরই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। সন্ময় বন্দোপাধ্যায়ের ওপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগে ইতিমধ্যে খড়দা থানার ওসিকে বদলি করা হয়েছে। আর এবার পুরুলিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে সরানো হল। নবান্ন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের বাড়াবাড়িতে চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সূত্রের খবর, গ্রেপ্তারের পর কংগ্রেস নেতা সন্ময় বন্দোপাধ্যায়কে নিয়ে পুরুলিয়া যাওয়া হয় এবং সন্ময় বন্দোপাধ্যায়ের কথা অনুযায়ী সেখানেই তাঁর ওপর মানসিক অত্যাচার চালানো হয়। এমনকি থার্ড ডিগ্রিও বাদ যায়নি। এ ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে সব মহলেই। মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও এই খবর এসে পৌঁছায় আর এর ফলেই মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রীতিমতো রেগে যান তিনি পুলিশের আচরণে। আর তারপরেই খড়দা থানার আইসি ও পুরুলিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। উল্লেখ্য, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের থার্ড ডিগ্রি প্রয়োগ এদেশে আইন বিরুদ্ধ আচরণ।

পুরুলিয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে ছিলেন আইপিএস অফিসার চন্দ্রশেখর বর্ধন। তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ এর 12 তম ব্যাটেলিয়নের ডেপুটি কমান্ডার করা হলো। অন্যদিকে, পুরুলিয়ার যে পদ খালি হলো সেই পদে এসেছেন কার্শিয়াং এর এসডিপিও পিনাকী দত্ত।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

প্রসঙ্গত সন্ময় বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর মন্তব্য করেন। শুধু তাই নয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তিনি একটি খোলা চিঠি লেখেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে খড়দা থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। আর এই গ্রেপ্তারের পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্যজুড়ে তুমুল হৈচৈ শুরু হয়। বিরোধী দলগুলি রাজ্যের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

পরে অবশ্য জামিন পেয়ে যান সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। জামিন পাওয়ার পর সম্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, গ্রেফতারের পর পুলিশ তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহ করেছে তীব্রভাবে। আর এই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।

সূত্রের খবর, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ পরিচিত হলেন সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর একটি ইউটিউব চ্যানেলও আছে বলে জানা যায়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে তিনি যথেষ্ট অ্যাক্টিভ থাকতেন নানান সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে। নিয়মিত পোস্ট করতেন তিনি। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে তিনি চাঁচাছোলা ভাষায় সরকারের সমালোচনা চালিয়ে যেতেন। তা নিয়ে কখনও দ্বিধাবোধ করেননি।

সমগ্র ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সোশ্যাল মিডিয়া করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় যে ঝড় উঠেছিল রাজ্যজুড়ে, সেই ঝড় থামাতে রাজ্য সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা মানানসই। আপাতত সন্ময় বন্দোপাধ্যায়কে ঘিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস সব মহলেই। তবে আগামী দিনে নতুন কিছু ঘটবে কিনা সেদিকে নজর রাখছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!