এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > ‘হাতে খুনের রং’ আর ‘ডিগবাজি’ দিয়ে শেষবেলায় সবংয়ে তীব্রতর প্রচারে বিজেপি

‘হাতে খুনের রং’ আর ‘ডিগবাজি’ দিয়ে শেষবেলায় সবংয়ে তীব্রতর প্রচারে বিজেপি

সবং উপনির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তত শাসকবিরোধী প্রচার তুঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে বিজেপি এবং এর জন্য প্রচারের কোনো মাধ্যমই ছাড়তে রাজি নয় তারা। প্রকাশ্য সভা, ছোট ছোট পথসভা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারের পাশাপাশি এবার সোশ্যাল মিডিয়াকেও তুমুল ভাবে ব্যবহার করছে বিজেপি নেতৃত্ত্ব বলে সতাহনীয় সূত্রে খবর। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে বিজেপি একটি ভিডিও তৈরি করেছে এবং তাতে উচ্চগ্রামে আক্রমন করা হচ্ছে প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক তথা বর্তমান শাসকদলের রাজ্যসভার সাংসদ মানস ভূঁইয়াকে। ওই ভিডিওতে মানস ভূঁইয়ার বিভিন্ন সময়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমন করার পাশাপাশি কিভাবে তিনি ‘ডিগবাজি’ খেয়েছেন তও তুলে ধরা হয়েছে। ওই ভিডিওতে প্রচার করা হচ্ছে,

১. কংগ্রেসে থাকার সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতায় অন্যতম বিরোধী মুখ ছিলেন মানস ভুঁইয়া
২. ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দিল্লির চাপে জোট হলেও আসন বন্টন নিয়ে দর কষাকষিতেও মানস ভূঁইয়া ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়
৩. যদিও তাঁর কোনও দাবিই মানেনি মানস ভূঁইয়ার পুরনো দল কংগ্রেস বা বর্তমান দল তৃণমূল কংগ্রেস
৪. প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রীসভার সদস্যও হন তিনি
৫. এরপর কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস গাঁটছড়া ভাঙ্গলে মন্ত্রীত্ত্ব ছাড়তে বাধ্য হন মানস ভূঁইয়া
৬. ফলে চূড়ান্ত তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী রূপে দেখা যায় তাঁকে
৭. ওই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিভিন্ন সাংবাদিক সম্মেলনে
৮. এই তীব্র আক্রমন চলে ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত
৯. এরপর সিপিএমের সমর্থন নিয়ে সবং থেকে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি
১০. সিপিএমের সূর্য্যকান্ত মিশ্রকে বুকে জড়িয়ে ধরে ‘আমার মুখ্যমন্ত্রী’ বলে সভা মাতান
১১. এরপরে মানস ভুঁইয়াকে খুনের আসামী বলে তীব্র আক্রমনে যায় শাসকদল
১২. সবংয়ের এক তৃণমূল কর্মী খুনের মামলায় জড়িয়ে যান
১৩. সেই সময়ে তিনি বলেছিলেন, খুন হওয়া ব্যক্তি আসলে সমাজবিরোধী
১৪. খুনের মামলা থেকে বাঁচতেই শাসকদলের এক ‘বিশেষ নেতার’ হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন
১৫. শুরু হয় তৃণমূল ও মুখ্যমন্ত্রী বন্দনা, পুরস্কার স্বরূপ রাজ্যসভার সাংসদ পদ ও স্ত্রী গীতারানি ভূঁইয়াকে সবংয়ের টিকিট

বিজেপির প্রচারে ওই ভিডিওতে দেখানো হচ্ছে মানস ভূঁইয়ার এইসব ‘ডিগবাজি’ ও তার সঙ্গে সময়কাল ধরে মত বদলের পর্যায়। এমনকি তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে মুকুল রায়ের বক্তব্য, যেখানে মুকুলবাবু বলেছেন, মানস ভুঁইয়ার হাতে খুনের রং লেগে আছে। এমনকি জুড়ে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেন্টিমেন্টও, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ‘দেশের যে কোনও প্রান্তে যে কোনও নির্বাচনে পদ্ম প্রতীকে ভোট দিলেই তা আমাকে সমর্থন। আর এই ভিডিওবার্তাই সবং জুড়ে ভাইরাল করে তুলে নির্বাচনে বাজিমাত করতে আসরে নেমেছেন বিজেপি স্থানীয় নেতারা, যদিও তা কতটা সাফল্য পেল তা বোঝা যাবে ইভিএম বাক্স খুললে।

Top
error: Content is protected !!