এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেমরিতে উলটপুরাণ মার্ খেলো শাসকদল, অভিযোগ এমনটাই

মেমরিতে উলটপুরাণ মার্ খেলো শাসকদল, অভিযোগ এমনটাই

এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে ভোট প্রচারকাল অব্দি বেশীরভাগ জায়গাতেই যে সন্ত্রাসের বেনজির ছবি দেখা গেছে তার অভিযোগের বোঝা প্রায় সবই গেছে শাসকদলের কাঁধে। তবে ভোট গ্রহণের দিন উল্টো ছবির দেখা মিলল বর্ধমানের মেমারি থানা এলাকায়। জানা গেছে ভোটের দিন রায়না ধারান গ্রাম এলাকায় সকাল হতে না হতেই বামেদের কর্মীরা ভেটবুথ দখল করে নেন। এরপর দুপুর নাগাধ পলাশন গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রার্থী জাকির হোসেন বুথে ঢুকলেই সিপিএম সমর্থকরা চড়াও হয় তাঁর উপর। বেধড়ক মারধোর করা হয়। তার জেরে নাক ফেটে যায় হোসেন সাহেবের। এই ধস্তাধস্তিতে তাকে বাঁচাতে গিয়ে কয়েকজন তৃণমূল কর্মী গুরুতরভাবে আহত হন। তাই নিয়ে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে গোটা এলাকা জুড়েই। শুধু এখানেই নয় খোদ ভাতারের নিত্যানন্দপুরের এক ভোটবুথেও চলেছে বামেদের দাপট। জানা গেছে জোর করেই তাঁরা ভোট আদায় করেছে ওই এলাকা থেকে।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এই ঘটনার জেরে অভিযোগে সরব হয়ে ঘাসফুলদল জানিয়েছে যে এদিন নাকি সকাল থেকেই সিপিএমের দলীয় কর্মীরা বুথের ভেতর ঢুকে অবাধে ছাপ্পা ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে, ভোটের দিন বিকেল থেকে বিডিও অফিসের সামনে ধর্ণায় বসেছিল ভাতারের ভুমশোর গ্রামের অফিসিয়াল তৃণমূল প্রার্থী সান্তনা বেগম,রিগিং এর অভিযোগে। তিনি আবার জানান তাঁর বুথে ছাপ্পা ভোট মারতে সক্রিয় ছিল নির্দল প্রার্থীরা। পুলিশ দেখেও কিছু করেনি। এর সুরাহা না হওয়া অব্দি বিডিও অফিসের সামনে থেকে নড়বেন না তিনি,এমনটাই সিদ্ধান্ত তাঁর। একই অভি্যোগ করেছেন বলগোনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০ নম্বর সংসদের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কুতুবুল হক্। তিনি বুথে গেলে পড়শি গ্রাম থেকে কিছু লোক এসে তাঁকে বুথ থেকে বের করে দেয়,এমনটাই অভিযোগে জানান তিনি। ভাতারেও এরকম ভোটচলাকালীন মাঝপথে সমস্যা দেখা দেয়। জানা গেছে,এখানে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয় তৃণমূল ও নির্দল প্রার্থীদের সমর্থকদের ভিতর। অভিযোগের আঙুল ওঠে নির্দলদের দিকে। তাঁরা নাকি এরপর তৃণমূল প্রার্থী জাহানারা খাতুনের উওর হামলা করে। মারধোর করে প্রার্থীমহিলাকে এবং পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করে। ঘায়েল জাহানারাদেবীকে প্রথমে ভাতার হাসপাতাল নিয়ে গেলেও পরে নিয়ে যাওয়া হয় বর্ধমান মেডিক্যাল হাসপাতালে। পুলিশি তৎপরতায় ক্ষুব্ধ জনতাকে হটানো হয়। এই পরিস্থিতির জেরে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া কিছুক্ষণ পন্ড হয়। পরে আবার চালু করা হয় স্বাভাবিক গতিতে। খবর পাওয়া যায় মেমারির ব্রাক্ষনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটবুথেও তৃণমূল বিজেপির কোন্দলের জেরে জখম হন তৃণমূল প্রার্থী সেখ সুরমান। এই ঘটনার অভিযোগ গেছে গেরুয়াশিবিরের দিকে।

তবে অন্যদিকে, বিরোধীঘাঁটি থেকেও সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ এসেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবী শাসকদলই নাকি পূর্ব বর্ধমান জেলার অনেক বুথেই ভয় দেখিয়ে ছাপ্পা ভোট দিয়েছে অবাধে। প্রতিবাদ করলেই চলেছে বেধড়ক মারধোর। গলসীর উচ্চগ্রাম এবং তারানগরের তৃণমূলের দলীর কর্মীরাও এদিন সন্ত্রাস ছড়াতে ব্যাপক সক্রিয় ছিল বলেই অভিযোগে জানিয়েছে বিরোধীমহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!