এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > শাসকদলের স্বজনপোষণের জেরেই মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের কর্মতীর্থ মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ

শাসকদলের স্বজনপোষণের জেরেই মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের কর্মতীর্থ মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ

এবার স্বজনপোষণের জেরে শাসকদলের শক্তিঘাঁটিতেই বেহাল দশা মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের কর্মতীর্থ প্রকল্পের। মূলত বেকারদের ব্যবসায় উৎসাহিত করতে এবং কর্মসংস্থান করে দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ রাজ্যে কর্মতীর্থ প্রকল্প চালু করেছিলেন। বিশেষত স্বনির্ভর গোষ্ঠী,বিভিন্ন সমবায় উদ্যোগ সহ এলাকার দরিদ্র যুবকদের রোজগারের উপায় করে দিতেই কর্মতীর্থগুলো করা হয়। সেই প্রকল্পের সূত্র ধরেই ৬৮ টি স্টল তৈরি করা হয় লাভপুর ব্লকে। এখানের ষষ্ঠীনগরে জল ও বিদ্যুতের সুব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া বাজারের অনতিদূরে সিউড়ি- কাটোয়া রাস্তায় এই কর্মতীর্থই অনুকূল অবস্থান ভবিষ্যতে ব্যবসায়ীদের লাভদায়ী হবে বলেই তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু স্টল বন্টনের ছ’মাস অতিক্রম হতে না হতেই মুখ থুবড়ে পড়ল মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্প। অধিকাংশ স্টল গুলোতেই তালাবন্ধ। হাতে গোনা মাত্র ৭-৮ টি স্টল খোলা রয়েছে এখন। তবে কি লাভপুরে কর্মসংস্থানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যর্থ হলেন? এই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

অন্যদিকে লাভপুরের খবর রাজ্যসরকারের কাছে যেতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বন্ধ থাকা স্টল মালিকদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। স্টলের চাবি ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫ টি চাবি ফেরত পাওয়া গিয়েছে বলে জানালেন লাভপুরের বিডিও শুভ্র দাস। স্টল গুলো উদ্ধার করে প্রকৃত বেকারদের কর্মসংস্থানের জ্য পুনরায় বন্টন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্লক প্রশাসন। এর জন্য আগে থেকেই জমা থাকা আবেদনগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুভ্রবাবুর দাবী,তিনি থাকাকালীন স্টল বন্টনে এতো অনিয়ম হয়নি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

স্টলগুলো বন্টন নিয়ে প্রথম থেকে স্বজনপোষণ করেছে শাসকদল,এমনটাই অভিযোগে জানালেন বিরোধী ও সাধারণ মানুষের একাংশ। যাদের স্টলের কোনো প্রয়োজন নেই সেইসব তৃণমূলের যুব নেতারা তাঁদেট আত্মীয় স্বজনের নামে স্টলগুলো হাতিয়েছেন। এমনকি প্রভাবশালী নেতার মেয়েই কর্মতীর্থের একটি স্টল পেয়েছেন বলেও অভিযোগে জানা গিয়েছে। লাভপুরে শাসকদলের দাপট বেশি বলে ভয়ে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেনি সাধারণ মানুষ।

তবে বিষয়টি নিয়ে প্রথম সরব হয়েছেন বামফ্রন্টের লাভপুর-২ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সৈয়দ মাহফুজুল করিম। তিনিই স্টল বন্টন নিয়ে শাসকদলের স্বজনপোষণের অভিযোগ তোলেন। গরীব বেকারদের ফাঁকি দিয়ে শাসকদলের আত্মীয় স্বজনেরা পেয়েছে স্টলগুলো। এমনটাই জানান তিনি। শাসকদল যে কতোটা দুর্নীতিগ্রস্থ এটাই তার অন্যতম প্রমাণ। অন্যদিকে,বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বলেন,শাসকদলের প্রতিটি প্রকল্পেই ভুরি ভুরি দুর্নীতি রয়েছে। সব দিক দিয়ে বঞ্চিত করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তবে এসব অভিযোগে তেমন পাত্তা দেননি তৃণমূল যুব কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি প্রসেনজিৎ ভান্ডারি। তাঁর দাবী,তৃণমূলই প্রাপকদের স্টল খুলতে উৎসাহিত করেছিল। একইভাবে শাসকদলের স্বজনপোষণের অভিযোগ অস্বীকার করলেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য,বিডিও অফিস নিয়ম মেনেই কাজ করেছে। এ ব্যাপারে তৃণমূল কোনোরকম হস্তক্ষেপ করেনি। তবে তৃণমূল সরকারের প্রকল্প তৃণমূলের শক্তিঘাঁটিতে ব্যর্থ মুখ থুবড়ে পড়েছে,তাও তার জন্য দায়ী খোদ তৃণমূলই। এ অভিযোগ সামনে আসায় শাসকদল বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে। আগেও একাধিক ক্ষেত্রে তৃণমূলের স্বজনপোষণের নজির সামনে এসেছে। এদিন কর্মতীর্থ প্রকল্পের সূত্র ধরে ফের শাসকদলের স্বজনপোষণের নমুনা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের দাবীকে আরো সক্রিয় করল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!