এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > মন্ত্রীর সিদ্ধান্তে রূপনারায়ণের চরে এলাকাবাসীদের বাড়ছে ক্ষোভ, চাপানউতোর রাজ্যে

মন্ত্রীর সিদ্ধান্তে রূপনারায়ণের চরে এলাকাবাসীদের বাড়ছে ক্ষোভ, চাপানউতোর রাজ্যে

এবার এক অন্য রকম বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ‍্যে। রাজ্যের শাসকদলের মন্ত্রীর বক্তব্যে এক অন্য রকম বিতর্ক তৈরি হয়েছে মায়াচরে। রাজনীতির টানাপোড়েন হামেশাই দেখতে পাই আমরা। কিন্তু মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা নিয়েও যে বিতর্ক তৈরি হতে পারে, সে সম্পর্কে কোন ধারণাই ছিলনা রাজ্যবাসীর। আর এই ঘটনাই ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরে। এই সূত্রে আবার রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরেও আর এক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। পরিবহণ মন্ত্রীর বক্তব্যে এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভ জমা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল রূপনারায়ণ নদীর ধারে গত 30 সেপ্টেম্বর।

গত 30 সেপ্টেম্বর নৌকাডুবিতে রূপনারায়ন নদে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং উদ্ধার হয়েছিল 38 জন যাত্রী। উদ্ধার পর্ব নিয়েই পূর্ব মেদিনীপুর ও হাওড়া জেলা প্রশাসনের মধ্যে টানাপোড়েন চলে। নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন মায়াচর ও মহিষাদলের অমৃতবেরিয়ার মধ্যে খেয়া-পারাপার বন্ধ করে দেয়। ঘটনার পর 15 দিন কেটে গেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত ফেরি চলাচল শুরু হয়নি। এই ঘটনায় চরম দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হচ্ছে মায়াচরের বাসিন্দারা। উপরন্তু এবার মায়াচরকে হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত করা নিয়ে পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ঘিরে মায়া চরের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গত 5 ই অক্টোবর নন্দকুমার এর এক অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মায়াচরকে হাওড়া জেলার অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে তাঁর। রাজ্য সরকারের যুক্তি হলো, মায়াচর যদি হাওড়া জেলার সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে নদীপথে যাতায়াতের ঝুঁকি অনেকটাই কম হবে। কিন্তু পরিবহন মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরেই মায়াচরে বিপদের লক্ষণ দেখছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

রূপনারায়ণের বুকে দীর্ঘ এলাকাজুড়ে চর পড়েছে আর এই চরেই গড়ে উঠেছে মায়াচর। একসময় এখানে কেউ বসবাস করতেননা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পূর্ব মেদিনীপুর, মহিষাদল, শহীদ মাতঙ্গিনী, কোলাঘাট এবং তমলুক থেকে প্রচুর মানুষ এখানে বসবাসের উদ্দেশ্যে আসেন। 2000 সালে মায়াচর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। মায়াচরের বাসিন্দাদের বেশিরভাগেরই জমির রেকর্ড পূর্ব মেদিনীপুরের অন্তর্ভুক্ত। অনেকে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা হিসেবে সচিত্র পরিচয়পত্র বহন করছেন।

এই অবস্থায় মায়াচর হাওড়া জেলার সাথে যুক্ত হয় তাহলে সেখানকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হতে পারে। আবার নতুন করে কাগজপত্র তৈরি করতে মায়াচর এর এখনকার বাসিন্দারা মহিষাদলের অমৃত বেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন। মায়াচরে যেমন প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, সেরকম পঞ্চাশটির বেশি ইটভাঁটা আছে। মায়াচর যদি হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে মহিষাদলের অমৃতবেরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আশঙ্কা, ইটভাটার রাজস্ব বন্ধ হয়ে যাওয়ার। এদিকে, বুধবার মায়াচরের বাসিন্দারা মহিষাদলের বিডিওর কাছে মার থেকেও আমৃতবেরিয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচলের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

দীর্ঘদিন ধরে এই মায়াচরে বসবাস করছেন মনোরঞ্জন মাইতি। তিনি জানান, “হাওড়া সঙ্গে যুক্ত করলেই মায়াচর এর সমস্যা মিটবে না। এখানকার মানুষের রুটি-রুজি, চিকিৎসা ও আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে যোগাযোগ অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মায়াচর থেকে আড়াই কিলোমিটার রূপনারায়ন নদ পেরিয়ে মহিষাদলের অমৃতবেড়িয়ায় পৌঁছতে আধঘন্টা সময় লাগে। তারপর দনিপুর হয়ে তমলুকের দূরত্ব চার কিলোমিটার।

অন্যদিকে, মায়াচর থেকে হাওড়া যেতে গেলে কমলপুরের কাছে তিনটি সেতু আছে। তিন কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করলে হাওড়ায় পৌঁছানো যায়। দূরত্বের তুলনায় হাওড়া অনেক কাছে বলেই কি পরিবহনমন্ত্রী মায়াচরকে হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছেন। এই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও মায়াচরের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব মেদিনীপুরের সঙ্গে সমস্ত ভাবে যুক্ত তাই তাদের হঠাৎ হাওড়া জেলার সঙ্গে যুক্ত করলে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। অন্যদিকে, মায়াচরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এরকম কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেখানকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলা অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে অমৃতবেরিয়া পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান স্থানীয় বাসিন্দা যুগলকিশোর মান্না জানিয়েছেন, “মায়াচর কোন জেলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চায়, তা নিয়ে এখানকার মানুষের মতামত নেওয়া হয়নি। এটা দুর্ভাগ্যজনক। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে মায়াচরকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবো।”

অন্যদিকে শ্রীনিবাস গুড়িয়া নামের এক বাসিন্দা “মায়াচর থেকে অমৃতবেড়িয়া পর্যন্ত নদীপথে যেটি এবং ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে যাতায়াতের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। অন্য জেলার সঙ্গে মায়াচরকে যুক্ত করার বদলে সেই ব্যবস্থা করা হলে এখানকার মানুষ বেশি উপকৃত হবেন।” এ সম্পর্কে মহিষাদল বিডিও জয়ন্ত কুমার দে বলেছেন, “স্থানীয়দের কাছে থেকে এই বিষয়ে স্মারকলিপি পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।”

মায়াচর কে ঘিরে রাজনৈতিক জটিলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত হল, কোন অঞ্চলকে সেখানকার বাসিন্দাসমেত হঠাৎ করে অন্য জেলায় যুক্ত করতে গেলে, নানাবিধ সমস্যায় পড়তে পারেন বাসিন্দারা। এবং এলাকার বাসিন্দারা যদি সমস্যায় পড়েন, তাহলে রাজনৈতিক দলের পক্ষে সেটা মোটেই সুখকর হবেনা। কারণ রাজনৈতিক দলগুলির ভোটব্যাংক জনগণের উপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে আছে। তবে মায়াচর নিয়ে এখনো পর্যন্ত রাজ্য নেতৃত্ব তাঁর মতামত জানাননি। আপাতত মায়াচর নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকে তাকিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মায়াচরের বাসিন্দারা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!