এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > ভাঙচুর আটকাতে “রথ” থাকবে গোপনেই, দলীয় কর্মীদের ভাবাবেগ সামাল দিতে দিলীপ ঘোষের “ধন্যবাদ” দাওয়াই

ভাঙচুর আটকাতে “রথ” থাকবে গোপনেই, দলীয় কর্মীদের ভাবাবেগ সামাল দিতে দিলীপ ঘোষের “ধন্যবাদ” দাওয়াই

স্বপ্ন ছিল অনেক। কিন্তু অবশেষে সেই স্বপ্নকে ভঙ্গুর করে না রথ দেখা না কলা বেচা – কিছুই হল না বাংলায় গেরুয়া নেতাদের। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ের পর থেকেই বিজেপির কেন্দ্রও রাজ্য নেতাদের মনে প্রবলভাবে এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছিল যে, আদৌ কি বাংলায় তাদের প্রস্তাবিত রথের চাকা ঘুরবে?

আর এই রথযাত্রা উপলক্ষে কোচবিহারের প্রথম সভায় আদৌ কি উপস্থিত থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ? কিন্তু অবশেষে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বাস্তবে এই রথ তো ঘুরলোই না, উল্টে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহও তার বঙ্গ সফর বাতিল করলেন।

গতকাল দুপুর একটায় দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর সাংবাদিক বৈঠকের দিকে নজর ছিল কোচবিহারে উপস্থিত একাধিক বিজেপি নেতার। শনিবার নিজের কলকাতা সফর করবেন বলে জানালেও ফের রাতে নিজের সেই প্রস্তাব বাতিল করে দেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি। আর এতেই প্রবল চাপে পড়ে বিজেপি।

সূত্রের খবর, এদিন রাতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, কোচবিহারের এই রথ আর আনা হবে না। যার কারণ হিসেবে শাসকদলের দুষ্কৃতীদের তান্ডবকেই এখন উল্লেখ করছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে অনেকটাই অস্বস্তিতে পড়তে হয় কেন্দ্র এবং রাজ্যের অন্যান্য বিজেপি নেতাদের।

কেননা আদালতের রায়ে এই রথযাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও গত বৃহস্পতিবারই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, “আদালতের রায় যাই হোক, অমিত শাহ এই খানে সভা করবেনই।” কিন্তু শেষমেষ সেই অমিত শাহ না আসায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রবল কোপে পড়তে হয় বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আদালতের রায় রথযাত্রার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও সেই কর্মসূচি হবে বলে আদালতকে অবমাননা করেছেন দিলীপ ঘোষ- তা বুঝে রাজ্য সভাপতিকে সতর্ক করে দেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু ততক্ষনে অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে। দিলীপ ঘোষের কথা শুনে এদিন পূর্বঘোষিত কর্মসূচি মত ঝিনাইডাঙ্গার জমিতে রীতিমতো উপচে পড়ে ভিড়।

ফলে অমিত শাহর অনুপস্থিতিতে এই সভামঞ্চে আদৌ কারা কারা থাকবেন? বা কিভাবেই বা হবে এই সভা? তার সম্পূর্ণ চাপ দেওয়া হয় সেই দিলীপ ঘোষের উপরই। আর এরপরই সেই সভামঞ্চ উপস্থিত হয়ে বৃহস্পতিবারের নিজের অবস্থান থেকে ঘুরে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “যেহেতু আমি সভা ডেকেছি, আর মূল বক্তা আসেননি। তাই এটা কোনো সভা নয়।
দূর থেকে যেসব মানুষ এসেছিলেন, তাদের ধন্যবাদ জানাতেই এসেছি।”

অন্যদিকে আদালতের রায় প্রসঙ্গে এদিন কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “আশা করব রাজ্য প্রশাসন এবার সব রকম সহায়তা করবে। আগে থেকে এটা করলে হয়ত সরকার এইভাবে আদালতের কাছে থাপ্পড় খেত না।”

এদিকে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায় দেখেই পরবর্তীতে নতুন করে এই রথযাত্রার সূচি তৈরি করেই নিজের বঙ্গ সফর করার চিন্তাভাবনা করছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ।

তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যাই করুক না কেন, দলীয় কর্মীদের ভাবাবেগকে সামাল দিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চাপে শেষ মুহূর্তে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যেভাবে মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভা শেষ করলেন, তাতে বোঝাই যাচ্ছে যে, এই রথযাত্রা নিয়ে নিজের বৃহস্পতিবারের মন্তব্যে দীলিপবাবু ঠিক কতটা চাপে ছিলেন!

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!