এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > লাল থেকে সবুজ, উধাও সব বিরোধী – তবুও বোমার আওয়াজে ঘুমাতে পারে না কেশপুর

লাল থেকে সবুজ, উধাও সব বিরোধী – তবুও বোমার আওয়াজে ঘুমাতে পারে না কেশপুর

একসময়ে বাম জামানার ‘প্রাণকেন্দ্র’ তৃণমূলের নিরঙ্কুশ আধিপত্যে এলেও ঘুম উড়ে গেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের। জানা গেছে,সম্প্রতি খুন হয়েছেন তৃণমূলকর্মী চিত্ত ভুঁইয়া। এলাকার দল পরিচালনার একদিকে রয়েছেন ব্লক সভাপতি সঞ্জয় পান,অন্যদিকে রয়েছেন প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মহিউদ্দিন, চিত্ত গড়াইরা। তৃনমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে বিরক্ত গোটা এলাকাই। কোন তৃণমূল নেতা কত বড়, কার প্রভাব কোন এলাকায় কত বেশি তা নিয়ে বোমাবাজি শুরু হচ্ছে যখন তখন। আর এই নিয়েই ত্রস্ত এলাকসবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে একবার নাকি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌছেছিলো যে বিধায়ক শিউলি সাহা নিজের বাড়িতেই ঢুকতে পারেননি। দুই গোষ্ঠীর ভিতর মিটমাট হওয়া পরে এলাকায় গেলেও দলের একাংশের, কাছে হেনস্তার শিকার হতে হয় তাঁকে এমনটাই অভিযোগে জানিয়েছেন তিনি।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

অন্যদিকে জানা যাচ্ছে, সিপিএমের পার্টি কেশপুর জোনাল কমিটির অফিস জামশেদ আলি ভবন দীর্ঘদিন তালাবন্ধ অবস্থায় ছিলো। সম্প্রতি ধুলো বালি সরিয়ে এলাকার বামকর্মীরা ফের বসতে শুরু করেছে। তাও মাঝেমধ্যে তালা ঝোলে অফিসে। এ ছবি স্পষ্ট কেশপুরে বিরোধীদের অবস্থান কোথায় আছে! তবুও কেন এতো দাঙ্গা-হাঙ্গামা এতো সন্ত্রাস এলাকায়? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সঞ্জয় বাবু বলেন,” কী থেকে কী হয় সব পুলিশ জানে! কেউ গোলমাল করলেই গোলমাল হবে!” অন্যদিকে মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, “সঞ্জয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে নিজের মতো দল চালান।পুলিশ শুধু ওঁর কথাই শোনে।” যদিও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ মানেননি পুলিশ। অন্যদিকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ একরকম নাকচই করে দিয়েছেন কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ঘাসশিবিরের শুভ্রা দে সেনগুপ্ত। তিনি দাবী করেন যে কেশপুরে শান্তি আছে এখনো।এ কথা শুনে খানিক হেসেই ফেরিওয়ালা শেখ শাহজাহান মন্তব্য করেন, ” আগের আমলে(বাম) এলাকায় গোষ্ঠী ছিল না, বিরোধী ছিল। তাই অল্প ঝামেলা হত। এখন সবাই একই দলের। তবু বোমাবাজি থামছে না!”
পরিসংখ্যান বলছে,কেশপুরে পঞ্চায়েত সমিতির ৪৫ টি আসনের ২৪ টিতেই তৃণমূলের প্রার্থী। বাকি ২১ টি আসনেও ৫৩ জন তৃনমূল কর্মী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিজেপির হাওয়া সেখানে বইছে নস বললেই চলে। পঞ্চায়েতের ২৩০ টি আসনের মধ্যে ১৮৮ টিই অধিকার করে রয়েছে তৃণমূল। বাকি ৪২ টিতে তৃণমূলের তরফে মনোনয়ন জমা পড়েছে ৯৩ জনের। কেবল জেলা পরিষদের ৩ টি আসনেই বিরোধী প্রার্থী রয়েছে আর নির্দল একজন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!