এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রামমন্দিরের রায় নিয়ে করিমপুরের সমাধান সব পক্ষই, জল মেপে চলছে প্রচার

রামমন্দিরের রায় নিয়ে করিমপুরের সমাধান সব পক্ষই, জল মেপে চলছে প্রচার

 

বরাবর নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে রামমন্দিরকে কাজে লাগিয়েছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মাঝেমধ্যেই এমনটা দাবি করে থাকেন। কিন্তু বহু নির্বাচনে হিন্দুত্বের তাস খেলে বিজেপি নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছে ঠিকই। কিন্তু আইনি জটিলতায় সেই রামমন্দির সংক্রান্ত অযোধ্যার বিতর্কিত মামলার সমাধান হয়নি। তবে 2019 এ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় ফেরার পর অবশেষে সম্প্রতি এই অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলায় রায়দান করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

যেখানে “রামলালা বিরাজমানকে” এই জমির মালিকানা দেওয়ায় হিন্দুদেরই জয় হয়েছে বলে দাবি করেন একাংশ। পাশাপাশি বিজেপি এই গোটা ঘটনায় সাফল্য পেয়েছে বলেও দাবি অনেকের। আর এই পরিস্থিতিতে বাংলায় 3 বিধানসভা উপনির্বাচন করিমপুর, খড়গপুর এবং কালিয়াগঞ্জে বিজেপি তাদের প্রচারে রামমন্দিরের সাফল্য তুলে ধরতে পারে বলে একাংশ মনে করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত বাংলার নির্বাচনে এই ইস্যুকে তুলে ধরা হবে না বলে মত প্রকাশ করতে শুরু করল শাসক-বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলই। বস্তুত, আগামী 25 নভেম্বর করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

ইতিমধ্যেই সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা জোর প্রচারে ময়দানে নেমে পড়েছেন। তবে সম্প্রতি রাম মন্দির নিয়ে মামলার রায় বেরোলেও তাকে ব্যবহার করতে নারাজ কোনো রাজনৈতিক দলই। অনেকে ভেবেছিলেন, বিজেপি এই ইস্যুকে ব্যবহার করে লড়াইয়ের ময়দানে নামবে। কিন্তু এদিন করিমপুরের বিজেপি নেতাদের মুখে শোনা গেল অন্য সুর।

এদিন এই প্রসঙ্গে নদিয়া উত্তর বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মহাদেব সরকার বলেন, “রামচন্দ্র আমাদের জাতীয় পুরুষ। আগেও কোনদিন আমরা তাঁকে ভোটের লড়াইয়ের সঙ্গে জড়ায়নি। এবার উপনির্বাচনেও জড়াবো না। এতে আমাদের কোনো লাভ হবে কিনা, সেই হিসাব আমরা করছি না।” তবে শুধু বিজেপি নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী থেকে নেতাকর্মীরা একই কথা বলতে শুরু করেছেন। তবে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই রায়কে ইস্যু করে বিজেপি তলায় তলায় ফায়দা তুলতে পারে বলে মত প্রকাশ করছেন‌।

এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা সিপিএমের সম্পাদক সুমিত দে বলেন, “আমরা দেশের ঐক্য এবং সংহতির পক্ষে লড়াই করে আসছি। সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিনের বিরোধের মীমাংসা করেছে। সেক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু প্রশ্ন আছে। কিন্তু তারপরেও আমরা এটাকে ভোটের লড়াইয়ে টেনে আনব না। তবে বিজেপি বা আরএসএস এটাকে ইস্যু করার চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ করতে পারবে না। আমরা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের সমস্যাকে সামনে রেখেই এবারের নির্বাচনে লড়ব।” একইভাবে তারা কোনোভাবেই রাম মন্দিরের বিষয়টি ভোটের প্রচারে আনবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন করিমপুরের বাম- কংগ্রেস জোট প্রার্থী গোলাম রাব্বি। তবে এই ব্যাপারে ঠিক কি বলছে তৃনমূল কংগ্রেস!

এদিন এই প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায় বলেন, “আমাদের নেত্রী সর্বধর্ম সমন্বয় ও সম্প্রীতির জন্য জীবনভর লড়াই করেছেন। আমরা নিজেরা এই রামমন্দিরকে ইস্যু করব না। বিজেপিকেও এসব করে সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে দেব না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃণমূল হোক বা বিজেপি, কেউই এই রামমন্দিরকে ভোটের প্রচারে আনতে চাইছেন না। কেননা এর স্বপক্ষে যদি বিজেপি প্রচার করে, তাহলে বিজেপি হিন্দুত্বের রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ উঠতে পারে।

আবার অন্যদিকে এর পক্ষে বা বিপক্ষে যেদিকেই যে রাজনৈতিক দল প্রচার করুক না কেন, তাদের দিকে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ উঠতে পারে। তাই সেই সমস্ত অভিযোগ থেকে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে রেখে করিমপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে সমস্ত রাজনৈতিক দল রামমন্দির ইস্যুকে কাজে লাগাতে চাইছে না বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!