এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রাজ্য বিজেপির সভাপতির মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্য বিজেপির সভাপতির মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী


বঙ্গ বিজেপি সভাপতির এদিনের বক্তব্য ঘিরে রীতিমত বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অতীতেও বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এমন কিছু বক্তব্য করেছেন প্রকাশ্যে, যা নিয়ে তোলপাড় হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এবারেও এন আর সি ও সিএএ এর বিরোধিতায় যাঁরা রত হয়েছেন, তাঁদেরকে গুলি করে মারার নিদান দিলেন এদিন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এমনিতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে ঘিরে গোটা দেশে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সে বিক্ষোভের আগুনকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি যথারীতি আর একটু উস্কে দিলেন। তবে এবার তিনি নিজের দলকেই বিপাকে ফেলেছেন বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে। এর ফলে দলের অন্দরেই সমালোচনার শিকার হচ্ছেন তিনি।

বিরোধীদলের মধ্যে তৃণমূলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রীতিমতো কড়া সমালোচনা করেছেন এদিন রাজ্য বিজেপি সভাপতির। এদিন ধর্মতলা তৃণমূলের ধর্না মঞ্চ থেকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনি এটা কীভাবে বলতে পারেন? নাম নিতে লজ্জা করে আপনি গুলি চালানোর প্রচার করছেন। এটা উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) নয়। এখানে গুলি চালানো হবে না। বুঝন, আগামীকাল যদি অপ্রীতিকর কিছু ঘটে তবে আপনিও সমান দায়ী থাকবেন। প্রতিবাদের জন্য মানুষ হত্যা করতে চান আপনি?” এখানেই থেমে না থেকে তৃণমূল নেত্রী এদিন বাম কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বিজেপির সঙ্গে তাদের আঁতাতের প্রসঙ্গ তুলেছেন।

অন্যদিকে, এদিন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল হচ্ছে সবথেকে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। তাই এ রাজ্যে তৃণমূল একাই এনআরসি বিরোধিতা করে যাবে। প্রসঙ্গত, এর আগে এনআরসির বিরোধিতায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দেশের বিরোধী অবিজেপি দলগুলিকে একত্রিত হয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বাম ও কংগ্রেস শিবিরের ডাকা বনধে যে তুমুল গন্ডগোল হয়েছে রাজ্যজুড়ে, সে কথা মাথায় রেখে তৃণমূল নেত্রী বিরোধী দলের বৈঠকে যোগ দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। বৈঠকে যোগ না দিয়েও তিনি সাধারণ জনগণকে আহবান করেন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার জন্য।

এদিন পরিষ্কার করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি বাম বা কংগ্রেস কাউকেই পাশে চাননা। এদিন ধরনা মঞ্চ থেকে সিপিএম এবং কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করেন, “পাবলিসিটি পাওয়ার জন্য কেউ কেউ কিছু করে। সেটা আন্দোলন নয়। দু’ঘণ্টার জন্য ঝান্ডা নিয়ে আসছে বলেই এমন নয় তারা রাত কাটাচ্ছে।” এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর অনশনের কথা মনে করিয়ে বলেন, “জমি দখল হয়েছিল। রাস্তায় পড়েছিলাম টানা ২১ দিন। লেবু জল খেয়ে অনশন করিনি।” তবে এদিন ধর্না মঞ্চে দাঁড়িয়ে বেশিরভাগ সময়টাই তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধী বৈঠকে যোগ না দেওয়ায় সিদ্ধান্ত জানানোর পর কংগ্রেস ও বাম সংগঠন থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এদিন বিরোধী দল থেকেও তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির তীব্র আঁতাতের কথা বলা হয়। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে কিছুদিন আগেই সারা দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলে প্রত্যেকটি অবিজেপি রাজ্যের মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন, সে জায়গায় নিজে এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে তার ইমেজ কিছুটা হলেও ধাক্কা খাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত পরিস্থিতির ওপর সম্পূর্ণ নজর রেখেছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!