এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > রাজকুমারবাবুর মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে – প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানানোর ঘটনাকে কটাক্ষ জেলা তৃণমূল সভাপতির – চড়ছে পারদ

রাজকুমারবাবুর মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে – প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানানোর ঘটনাকে কটাক্ষ জেলা তৃণমূল সভাপতির – চড়ছে পারদ

লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পরই ভোট কর্মীদের একাংশ বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের সন্ত্রাসের আতঙ্কের কথা তুলে ধরে যাতে সমস্ত বুথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকে তার জন্য কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছিল। আর ভোট কর্মীদের এই দাবিতে বারে বারে উঠে এসেছিল রাজকুমার রায়ের প্রসঙ্গ। কেননা পঞ্চায়েত নির্বাচনে গত 14 ই মে ভোট চলাকালীন উত্তর দিনাজপুর ইটাহার ব্লকের সোনারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথ থেকে নিখোঁজ হয়ে যান প্রিসাইডিং অফিসার রাজকুমার রায়।

আর তারপর দিন রাতেই রায়গঞ্জের সোনাডাঙ্গি এলাকায় রেললাইন থেকে এই করণদিঘি রহটপুর হাইমাদ্রাসার শিক্ষক রাজকুমার বাবুর ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আর সেই ঘটনারই প্রথম বর্ষপূর্তিতে বুধবার দু’দিনব্যাপী ভোটার এবং ভোটকর্মী অধিকার রক্ষা দিবসের সূচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হল।

জানা গেছে, এদিন সকালে “রাজকুমার রায় হত্যার বিচার চাই” মঞ্চের তরফে রায়গঞ্জের ঘড়িমোড় এলাকায় সেই নিহত রাজকুমার বাবুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী অর্পিতাদেবীও। পরে ঘড়িমোড় ও বিবেকানন্দ মোড়ে দুটি পথসভা করে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রায়গঞ্জের ছন্দম মঞ্চে রাজকুমার রায় স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হবে বলে সেই মঞ্চের তরফে জানানো হয়।

এদিন এই প্রসঙ্গে এই মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক তথা রায়গঞ্জ করোনেশন হাইস্কুলের শিক্ষক প্রিয়রঞ্জন পাল বলেন, “রাজকুমার বাবুকে খুন করা হয়েছে বলে তার পরিবারের তরফে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাই জেলার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ও গণতন্ত্রপ্রেমী বাসিন্দারা এই মঞ্চের তরফ তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজকুমার বাবুর অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন।”‌ অন্যদিকে এই গোটা ঘটনাটি সমর্থন করে উত্তর দিনাজপুর জেলা সিপিএমের সম্পাদক অপূর্ব পাল বলেন, “আমরা এই মঞ্চের আন্দোলনকে সমর্থন করেছি। কিন্তু এই আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের দলের কোনো সম্পর্ক নেই।”

এদিকে বিগত পঞ্চায়েত ভোটে রাজকুমার রায়ের মৃত্যুর বর্ষপূর্তি নিয়ে যখন মঞ্চের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান সংগঠিত করা হচ্ছে, ঠিক তখনই এই গোটা ব্যাপারটি নিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে তোপ দাগতে দেখা গেল উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্যকে। তিনি বলেন, “রাজকুমার বাবু আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে খুন করা হয়েছে সেই ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। সিআইডি তদন্ত করছে। আর তদন্ত চলাকালীন সিপিএমের মঞ্চের নাম করে এই ঘটনাটিকে খুন বলে প্রচার করে পরোক্ষে রাজনীতি করা হচ্ছে।”

আর জেলা তৃণমূল সভাপতির এহেন বক্তব্যকে ঘিরেই এবার তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। একজন ভোট কর্মীর মৃত্যু হলে সেই সময় তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য না করা হলেও সেই ভোটকর্মীর মৃত্যুর এক বছর পূর্তির পরে যখন এই ঘটনায় সঠিক তদন্ত চেয়ে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হচ্ছে একাংশ, ঠিক তখনই এই ঘটনাটিকে অন্য রূপ দেওয়া এবং এই গোটা ঘটনায় সিপিএমের চক্রান্ত খুঁজে পাওয়া জেলা তৃণমূল সভাপতির বক্তব্যকে ঘিরে এবার রাজনৈতিক মহলের অন্দরে তুমুল সমালোচনার ঝড় বয়ে যেতে শুরু করেছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!