এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রাজ্যপাল বনাম সরকারের সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে নতুন কৌশল বিজেপির, জোর শোরগোল

রাজ্যপাল বনাম সরকারের সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে নতুন কৌশল বিজেপির, জোর শোরগোল

 

কথায় আছে, বোবার কোনো শত্রু নেই। আর এবার রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সম্পর্কের তিক্ততায় সেই নীরবের ভূমিকাতেই অবতীর্ণ হতে দেখা যাবে ভারতীয় জনতা পার্টিকে। বস্তুত, রাজ্যের সাংবিধানিক পদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকারের সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে রাজ্য সরকারের।

জিয়াগঞ্জ কান্ড থেকে শুরু করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা, বিভিন্ন ইস্যুতেই সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে দেখা যায় রাজ্যপালকে। যা নিয়ে পাল্টা রাজ্য সরকারের তরফে কখনও পার্থ চট্টোপাধ্যায়, আবার কখনও বা সুব্রত মুখোপাধ্যায়, নজিরবিহীন ভাবে সেই সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। শাসকদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এই রাজ্যপাল রাজ্যপাল নন, তিনি পদ্মপাল। অর্থাৎ তিনি বিজেপির ঘনিষ্ঠ হিসেবেই রাজ্য পরিচালনা করার কাজ করছেন।

সম্প্রতি এই ব্যাপারে শীতকালীন অধিবেশনের সর্বদলীয় বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গোটা বিষয়টি তুলে ধরেছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে এতদিন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকে নানা মন্তব্য করা হলেও এবার এই ব্যাপারে মুখে কুলুপ আঁটার সিদ্ধান্ত নিল গেরুয়া শিবির।

সূত্রের খবর, সোমবার বিজেপির তরফে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়, রাজ্য- রাজ্যপাল বিতর্ক নিয়ে দলের কোনো নেতা কোনো মন্তব্য করবেন না। এমনকি টেলিভিশন চ্যানেলেও আর তারা এই ব্যাপারে কোনো বিতর্কে অংশগ্রহণ করবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছে বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব। তবে যদি নিতান্তই এই রাজ্য এবং রাজ্যপালের সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে কোনো মন্তব্য করার প্রয়োজন হয়, তাহলে তা দলের সভাপতি দিলীপ ঘোষ করবেন বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বিজেপির তরফ রাজ্যের এই জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে নীরবতার কথা শুনতে পাওয়ায় এখন রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে জল্পনা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

 

অনেকে বলছেন, প্রথম থেকেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকারের বিজেপি ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অভিযোগ তুলতে দেখা যায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে। আর অনেক ক্ষেত্রে রাজ্যপালের অতিসক্রিয়তায় বিজেপির যোগ রয়েছে বলেও নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আর এই পরিস্থিতিতে গেরুয়া শিবির যদি রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সম্পর্কের অবনতি ক্ষেত্রে কোনো মন্তব্য করে, তা তাদের ক্ষেত্রে গোদের ওপর বিষফোঁড়া হতে পারে বলেই অনুধাবন করেছে বাংলার বিজেপি নেতারা।

তাইতো বোবার যেমন শত্রু থাকে না, ঠিক তেমনই এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করে নিজেদের শত্রু বাড়াতে চাইছে না গেরুয়া শিবির বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। একাংশ বলছেন, বিজেপি বেশ ভালো মতই অনুধাবন করেছে যে, রাজ্যের মানুষ এই রাজ্য এবং রাজ্যপালের সম্পর্কের যে তিক্ততা হয়েছে এবং তার জেরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা ভালোমতো গ্রহণ করছেন না।

তাই এক্ষেত্রে বিজেপি যদি এই ঘটনায় কোনো মন্তব্য করে, তাহলে তা সাধারণ মানুষের কাছে ঠিকমত গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। আর এই সমস্ত কিছুকে উপলব্ধি করেই নিজেদের ভোট রাজনীতি স্বার্থে বিজেপির এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। তবে গেরুয়া শিবির সাবধানী ভূমিকা পালন করলেও তৃণমূল রাজ্যপালকে পদ্মপাল বলে বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলে, নাকি নিজেদের অস্বস্তি বাড়িয়ে নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!