এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রাজীব কুমারের চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল আদালত! আত্মসমর্পণ ছাড়া পথ নেই?

রাজীব কুমারের চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল আদালত! আত্মসমর্পণ ছাড়া পথ নেই?

রাজীব কুমারের হদিস এখনো পর্যন্ত মেলেনি। পুরো ভোজবাজির মতোনই তিনি উধাও হয়ে গেছেন শহরের বুক থেকে। সারদা মামলায় তথ্য বিকৃতির অভিযোগে সিবিআই এর তরফ থেকে রাজীব কুমারকে জেরা করার জন্য সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়। এই হাজিরা এড়াতেই রাজীব কুমার সিবিআই এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যান। হাইকোর্ট থেকে রাজীব কুমারকে কোনরকম সাহায্য করা হয় না। রাজীব কুমার এবার হাজিরা এড়াতে রাতারাতি উধাও হয়ে যান।

সিবিআই এর তরফ থেকে রাজীব কুমার এর বাড়িতে গেলেও তাঁর দেখা মেলে না। আড়ালে থেকেই রাজীব কুমার সিবিআই এর কাছে ই-মেইল এর মাধ্যমে স্ত্রীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক মাসের জন্য জেরা থেকে অব্যাহতি চান। সিবিআই তা দিতে নারাজ বলে জানানো হয়।

এবার নিজেকে বাঁচাতে আড়াল থেকে রাজীব কুমার বারাসাত কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। সেখানেও রাজীব কুমার একই অস্বস্তিতে ভুগতে থাকেন। জামিনের আবেদন খারিজ করে বারাসাত কোর্ট পুরো বিষয়টি আলিপুর আদালতে পাঠিয়ে দেয় এবং সেখানেও স্বস্তির নিঃশ্বাস মেলেনা। উপরন্তু সারা শহর জুড়ে চলছে রাজীব কুমারের জন্য খানাতল্লাশি। সিবিআই আশা করছে, রাজীব কুমার কে খুব শীঘ্রই তাঁরা গ্রেফতার করতে পারবেন।

আলিপুর আদালতের পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রাজীব কুমার আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে। রাজীব কুমারের আবেদনের মামলাটির বুধবার শুনানির দিন হিসেবে ধার্য হয়। অন্যদিকে, রাজীব কুমার কে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি শুভাশিস দাসগুপ্ত স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিলেন রাজিব কুমারের আইনজীবিদের, ‘মক্কেলকে বলুন আত্মসমর্পণ করতে।’ এই ঘটনা নিঃসন্দেহে রাজীব কুমারের অস্বস্তি যে আরও বাড়ালো সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

এদিকে শুনানির দিন পিছিয়ে যাওয়ায় রাজিব কুমারের আইনজীবীরা বিচারপতির কাছে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সইদুল্লা মুন্সী রাজীব কুমার এর আইনজীবীদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, এত দ্রুত কেন শুনানির আর্জি জানানো হচ্ছে ?

উত্তরে রাজীব কুমার এর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রাজীব কুমার এর ছুটি শীঘ্রই শেষ হতে চলেছে এবং নিম্ন আদালতে একের পর এক আগাম জামিন খারিজ হয়ে গেছে তাই এই আবেদন। এই আবেদনের পরেই বিচারপতি শুভাশিস দাসগুপ্ত রাজীব কুমারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ‘তুমি আত্মসমর্পন করো।’ উল্লেখ্য এক মাস আগে হাইকোর্টে বিচারপতি মধুমন্তি মৈত্রর রায়েও প্রায় একই কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছিল। তিনিও বলেছিলেন, রাজীব কুমারকে গ্রেফতারে কোন বাধা নেই।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্স থেকে সিবিআইয়ের দল এদিন সাঁতরাগাছি থেকে মেচেদা পর্যন্ত চলে যান। বিভিন্ন তথ্যের মাধ‍্যমে রাজীব কুমারের খবর শুনে মেচেদা গিয়ে বিভিন্ন হোটেলে রাজকুমার সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। ‘অ্যাঞ্জেলাইন ইন’ নামক একটি হোটেলে রাজীব কুমার আছেন বলে সিবিআইয়ের কাছে খবর আসে সূত্র মারফত। সেই হোটেলের উদ্দেশ্যেই মেচেদা যান সিবিআই অফিসাররা। কিন্তু সেখানে পৌঁছেও রাজীব কুমার এর হদিস মেলে না। ঘন্টাখানেক মেচেদার বিভিন্ন এলাকায় খানা তল্লাশি চালিয়ে সিবিআইয়ের দলটি পুনরায় কলকাতার পথ ধরে।

রাজিব কুমারের হদিশ পেতে ইতিমধ্যেই সিবিআই তার স্ত্রী সঞ্চিতা কুমার, তার দুই দেহরক্ষী, তাঁর ট্রাভেল এজেন্ট সবাইকে জেরার পর জেরা করে চলেছে। কিন্তু কেউই কোন সুবিধাজনক উত্তর দিতে পারছে না। উপরন্তু, রাজ্য সরকার রাজীব কুমারের হদিস জানেনা বলে সিবিআই এর কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

বিরোধীদলের দাবি, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই রাজীব কুমারের হদিস সম্পর্কে সিবিআইকে কোনরকম সাহায্য করছে না। সিবিআই-এর এখন একটাই লক্ষ্য, রাজীব কুমার এর হদিস পাওয়া। এবং তা করতে সিবিআই রীতিমত আঁটঘাট বেধে ময়দানে নেমেছে বলে জানা যাচ্ছে সূত্র মারফত। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহল তাকিয়ে আছে, রাজীব কুমার এর ধরা পড়ার খবর এর দিকে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!