এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > কোথায় আছেন রাজীব কুমার? সিবিআই এর গেরো থেকে মুক্তি পেতেই কি এই কাজ করছেন

কোথায় আছেন রাজীব কুমার? সিবিআই এর গেরো থেকে মুক্তি পেতেই কি এই কাজ করছেন

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক নাম হয়ে উঠেছিলেন এক পুলিশকর্তা আইপিএস অফিসার। স্বভাবতই কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য না হলেও তাকে নিয়ে রাজনীতির শেষ ছিল না। কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার রাজ্যের বর্তমান এডিজি সিআইডি পদের দায়িত্বভার সামলাচ্ছেন রাজীব কুমার। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই রাজীব কুমারকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চেয়েছিল সিবিআই। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টের তরফ থেকে রক্ষাকবচ থাকায় তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।

পরবর্তীতে সর্বোচ্চ আদালত সেই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিলে সিবিআইয়ের তরফ থেকে রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করার জন্য জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। যার জেরে কার্যত কিছুদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান রাজীব কুমার। বহু খোঁজ চালিয়েও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের দুদে দুদে আধিকারিকরা কার্যত হিমশিম খান। সূত্রের খবর, গত 9 সেপ্টেম্বর শেষ ভবানী ভবনে এসেছিলেন রাজীব কুমার। লোক চক্ষুর অন্তরালে থেকেই নিজের অগ্রিম জামিনের জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান তিনি। পরবর্তীতে হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করলে গত তিন তারিখে সর্বসম্মুখে দেখা যায় রাজীব কুমারকে।

প্রক্রিয়া মেনে আলিপুর আদালতে জামিন গ্রহণ করেন রাজীব কুমার। জানা যায়, এরপর থেকেই সকলের পরিচিত রাজীব কুমার আমূল পরিবর্তিত হতে থাকে। 3 তারিখে তাকে দেখা গেলেও তিনি কাজে যোগ দেন দুর্গাপুজোর ছুটির পরে। শুধুমাত্র কাজে দেরি করে যোগ দেওয়া নয়, ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের চিরপরিচিত রাজীববাবু কাজ পাগল মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কলকাতা পুলিশের কমিশনার থাকা থেকে শুরু করে এডিশনাল ডিরেক্টর, জেনারেল সিআইডি পর্যন্ত যখন যে দায়িত্বভার তিনি সামলেছেন, তা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সামলে এসেছেন।

জানা যায়, কখনও কখনও সকাল দশটার সময় বাড়িতে এসে রাত্রি একটার সময় বাড়ি ফিরেছেন রাজীববাবু। কিন্তু বর্তমানে রাজীববাবুর সেই কর্মচঞ্চল রুপ আর যেন দেখাই যায় না ভবানী ভবনের এডিজি সিআইডি রুমে। ব্ল্যাকবোর্ড, গণিত শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের অংক গণিতের ছাত্র, এইসব বর্তমানে রাজীববাবুর দৈনন্দিন সঙ্গী। জানা যায়, প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বর্তমানে অংক বিদ্যাচর্চার গভীর মনোযোগী হয়ে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, সিআইডির হাতে থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে তেমন ভাবে আলোচনা করতেই দেখা যায় না রাজীববাবুকে।

যদিও বা কোনো দরকারী বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তার সময়সীমাও খুব কম। নিজের বেশিরভাগ সময়টাই গণিত চর্চা এবং গণিতজ্ঞের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত থাকেন তিনি। এদিন এই বিষয়ে তার একজন ঘনিষ্ঠ কর্তা জানিয়েছেন, “স্যার অংক নিয়ে পিএইচডি করছেন। বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পেপার জমা দেবেন বলে শুনেছি।” রাজীব ঘনিষ্ঠ আর এক অফিসারের কাছ থেকে জানা যায়, সিবিআইয়ের তরফ থেকে যখন হন্যে হয়ে খোজা হচ্ছিল রাজীববাবুকে, তখন দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে কার্যত অস্তাচলে চলে গিয়েছিলেন রাজীব কুমার। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে তার সহধর্মিণীর উপরে। স্বামীর এইভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়াকে মানসিকভাবে মেনে নিতে পারেননি রাজীববাবুর স্ত্রী।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সেপ্টেম্বর মাস ধরেই রাজীববাবু লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন। তাই তার স্ত্রী এমন পরিমাণ মানসিক আঘাত পেয়েছেন। যার জেরে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হতে পারেননি তিনি বলে দাবি একাংশের। তাই দীর্ঘক্ষন ভবানী ভবনকে সময় না দেওয়া এবং মামলার ব্যাপারে কার্যত নৈবচ নৈবচ মনোভাব অসুস্থ স্ত্রীকে সময় দেওয়ার জন্যই বলে জানাচ্ছেন রাজীববাবুর ঘনিষ্ঠ মহল। তার পুরাতন দিনের স্মৃতির কথা মনে করে একজন পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “কলকাতার পুলিশ কমিশনার সিআইডির ডিআইজি অপারেশন পদে আসীন থাকার সময় অবিরাম কর্মযোগী তার পরিচয় দিয়েছিলেন রাজীববাবু। বড় বড় তদন্তের কিনারা অত্যন্ত সহজেই করে ফেলে নিজের সাফল্যের একের পর এক কাহিনী রচনা করেছেন রাজীব কুমার।

কিন্তু বর্তমানে তার স্বাভাবিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটায় সমস্ত কাজ দেখাশোনা করছে আইজি 1 অজয় প্রসাদ এবং আইজি 2 বিশাল গড়গ, ডিআইজি সিআইডি প্রণব কুমার, ডিআইজি স্পেশাল মিতেশ জৈন। ওই পুলিশ আধিকারিক আরও জানান, “সিআইডির বিভিন্ন মামলার তদন্তের অগ্রগতির ফাইল স্যারকে পাঠানো হয় ঠিকই। কিন্তু অধিকাংশ ফাইলই তিনি শুধু চোখ বুলিয়ে ছেড়ে দেন। খুব গুরুত্বপূর্ণ হলে ঘন্টাখানেক আলোচনা করেন। এর বেশি কিছু নয়।”

এখন রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের নাগপাশে জড়িয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক রাজীব কুমার। নিজে একটি রাজ্যের সিআইডির মত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্বে থাকা সত্বেও সিবিআইয়ের হাত থেকে নিজেকে আড়াল করতে কার্যত অস্তাচলে চলে গিয়েছিলেন তিনি। তাই তার উপরে যে এই ঘটনার সামরিক প্রভাব পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। তারপরে আবার বাড়িতে স্ত্রী অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। যার কারণে কিছুটা ভগ্ন মনোরথ হয়ে পড়েছেন রাজীব বাবু।

এখন কালের নিয়মে রাজীববাবু আবার স্বাভাবিক সচ্ছন্দে ফিরে আসবেন কিনা, অথবা অংক গণিতের থেকে বাইরের দিকে উঁকি দিয়ে নিজের চিরাচরিত রূপ ধারণ করবেন কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তর একমাত্র সময় দিতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!