এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > বিমানের মতো এবার রেলেই যাত্রীদের মালপত্র নিয়ে কড়া মনোভাব,বাড়ছে পেনাল্টি চার্জ

বিমানের মতো এবার রেলেই যাত্রীদের মালপত্র নিয়ে কড়া মনোভাব,বাড়ছে পেনাল্টি চার্জ

রেলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় রেল দপ্তর আইআরসিটিসি। যাত্রীর মালপত্র এবং খাবার বাবাদ বাড়তি ওজন কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নিল রেল আধিকারিকরা। আসুন জেনে নেওয়া পরিবর্তনের রূপরেখা। পূর্বের সমীকরণ অনুযায়ী বর্তমানে স্লিপার ক্লাসে ৪০ কেজি ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩৫ কেজি মালপত্র নেওয়ার নিয়ম আছে। তার বেশি নিতে গেলে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হয় করতে আগে বুকিং। আর এই পদ্ধতি অবলম্বন না করলে ওই অতিরিক্ত বোঝার জন্য ভরতে হয় মূল্যের দেড় গুণ বেশি জরিমানা। তবে এবারের নিয়ম অনুযায়ী ওই দেড় গুণ জরিমানাই বেড়ে হবে ছয় গুন। সংখ্যার হিসাব দাঁড়াচ্ছে এরকম। স্লিপার ক্লাসে ৪০ কেজির বেশি অর্থাৎ কেউ যদি ৮০ কিলো মাল নিয়ে ৫০০ কিমি যাওয়ার প্ল্যান করে তাহলে বাড়তি ওজনের জন্য তাকে ১০৯ টাকা দিতে হবে। আর আর বুকিং না করে ধরা পড়লে গুনতে হবে ৬৫৪ টাকা। বিমানের মতো রেলে ওজন করে মাল পরিবহন করা প্রায় অসম্ভব একরকম। তবে রেলের খাতে ক্ষতি কমাতে কড়া পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় রেল দপ্তর।  

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

অন্যদিকে,কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে খাবারের দিকটাতেও। নতুন খাদ্য তালিকা আনা হয়েছে যার থেকে বাদ পড়বে স্যান্ডুইচ,মাখন,স্যুপ বা ব্রেডস্টিকের মতো জনপ্রিয় ডিসগুলো। মান বাড়াতেই কমেছে খাবারের পরিমান। ওজন হিসাবে প্রতি প্লেটে ১৫০ গ্রাম করে খাবার কমতে চলেছে। আবার দামও বাড়ছে  প্রতি প্লেট হিসাবে ৩৮ টাকা। কারণ বরাবরই রেলের খাবার গুনগত মান এবং পরিমানগত মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। বাসি,পচা বা মেয়াদ ফুরানো খাবার দেওয়া হল রেলে,এমনটাই অভিযোগ করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। গতবছরউ রেলের খাবার নিয়ে তীব্র নিন্দা করতে দেখা গেছিলো কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল(সিএজি) কে। তাঁরা জানিয়েছিলেন টাকা হিসাবে রেলের খাবারের দাম অনেক বেশি। জলও মুখে নেওয়া যায় না। এসব অভিযোগের কারণেই বদনাম হচ্ছে রেলদপ্তরের। তাই রেলব্যবস্থার কলঙ্ক ঘোচাতে ১১ মে একদফা সংস্কারের কথা ঘোষণা করেছিলো রেল দপ্তর। তাতে জানানো হয়েছিলো আমিষ-নিরামিষ রান্নার জন্য ৩৫ টি ‘বেস-কিচেন’ রাখা হবে। মেনু থেকে বাদ যাবে অতিরিক্ত পদ। তার পরিবর্তে বাড়ানো হবে ভাত বা রুটির সঙ্গে সব্জি,মাছ,ডিমের ঝোল বা রাজমার মতো একটি পদের পরিমান।

তবে খাবার মোট পরিমান কমানোর ব্যাপারে রেলকর্তাদের জিজ্ঞেস করা হলে তাঁরা জানান,  সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে ভারতীয়রা এক বেলায় গড়ে ৭৫০ গ্রাম খাবার খান। কিন্তু রেলে প্রতি মিলে থাকে ৯০০ গ্রাম করে খাবার। আর খরচ পড়ে যায় ১৫০ টাকা। অথচ প্লেট প্রতি বরাদ্দ থাকে ১১২ টাকা। এতে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে রেলদপ্তরকে। আর এই ক্ষতির বোঝায় হিমসিম খেয়েই খাবারেরর গুনগত মান খারাপ হচ্ছে। তাই নতুন নিয়মে, এবার থেকে রকমারি খাবারের পরিবর্তে মিলবে আমিষ-নিরামিষ কম্বো মিল। পুষ্টিগুন ঠিক রাখতে ডালের পরিমান ১৫০ গ্রাম থেকপ কমিয়ে ১০০ গ্রাম করা হবে প্লেট প্রতি। এছাড়া থাকবে ঝোলহীন তরকারি এবং ১২০ গ্রাম ঝোলের সঙ্গে দেওয়া হবে হাড়হীন মুরগির মাংস। যাত্রীদের স্বাস্থ্যের বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য চালু করা হবে ‘ডিসপোজেবল’ প্লেট। প্রসঙ্গত জানা যাচ্ছে যে, আপাতত রাজধানী,শতাব্দীর মতো দেশপর ২৭ টি ট্রেনে চালু হতে চলেছে এই নতুন নিয়ম।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!