এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > রাই-কেশব (লাভ স্টোরি ) কলমে – অপরাজিতা = পর্ব ৬

রাই-কেশব (লাভ স্টোরি ) কলমে – অপরাজিতা = পর্ব ৬

দোকানের বাইরে রাখা বেঞ্চে বসেই রইলো রনো। অদিতি আর রাহুল আসছিলো বাইকে করে। ওকে দেখে দাঁড়িয়ে গেলো।
ওকে উদ্ভ্রান্তের মতো লাগছিলো।

রনো কি হয়েছে ? এখানে বসে আছিস কেন? বললো রাহুল।

রনো – ভালো লাগছে না কিছু ? অদিতি তোর সঙ্গে নাতাশার কোনো যোগাযোগ আছে? জানিস কেমন আছে ও ?

রাহুল – এই তুই কি কনফিউসড ?একবার বলছিস শ্রী কে নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছিস, আবার নাতাশা ? প্রব্লেম কি তোর?

অদিতি -না আমার সাথে যোগাযোগ নেই।

রনো – যদি কোনো দিন দেখা হয় ওকে সরি বলে দিস, আমার হয়ে , অন্যায় করেছি ওর সাথে। আমার অনেক আগেই ওকে ফ্রি করে দেওয়া উচিত ছিল। বলা উচিত ছিল আমি ওকে ভালোবাসি না।

রাহুল -এই কি হয়েছে বল তো?

রনো – কিছু না – যাবার আগে যখন ও আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলো তখন কার কয়েকটা কথা মনে পড়ছে।

অদিতি – কি বলেছিলো।

রনো – সব মনে নেই, তবে বলেছিলো তোকে ফ্রি করে দিলাম, আমি তোকে জোর করে ধরে রাখতে চাইছিলাম, এইসব। শেষে বলেছিলো – যেদিন তুই কাউকে ভালোবাসবি, সেদিন আমাকে বুঝবি। কিন্তু আমি চাইবো তুই যাকে ভালোবাসিস তাকে যেন সারা জীবনের মতো পাস্, না পাওয়ার কষ্টটা যেন তোকে না পেতে হয়। এই সব।

অদিতি – আমার সাথে দেখা হয়েছিল ওর। ওর বিয়ের পর কলকাতায় একটা শপিং মলে ও আর ওর মা। আমার সাথে একা কিছুক্ষন কথা বলেছিলো। প্রথমেই তোর কথা জিজ্ঞাসা করেছিল , কেমন আছিস? কি করছিস? দেন বললো ও ওর হাসব্যান্ডের সাথে হ্যাপি।

রনো -হয়তো নাতাশাকে এত অবহেলা করেছি বলেই শ্রী আজ আমার থেকে এত দূরে।

রাহুল – দূর পাগো হয়েছিস নাকি? ও তোর পিছনে ঐভাবে পরে না থাকলে তুই কোনো দিনই হ্যাঁ বলতিস না। আর শ্রী যাবে কোথায়? আমরা আছি কি করতে। তেড়ে লিয়ে জান কুরবান মেরে ইয়ার। শ্রী তোর হবেই। তার জন্য তোর সঙ্গে সঙ্গে আমিও যা করার করবো। আর  কাউকে ভালোবাসলে তাকে ভুলতে সময় লাগে বাট নতুন করে শুরু করা যায়না কে বলেছে ?

অদিতি – একেবারেই তাই।

রনো – কিন্তু শ্রী তো ভুলতেই চায় না। আমার মধ্যেও অন্য কাউকে খোঁজে। শ্রী কাকে খোঁজে আমার মধ্যে? কে অরণ্য?
শ্রী কে? আমি তো চিনি না। মাথায় কিছু ঢুকছে না।

অদিতি – অরে আন্টির ছেলেকে তোর মতো দেখতে আবার কি

রনো – না , আমি দেখেছি আন্টির ছেলের ফটো,আর শ্রী আন্টির ছেলের বৌ নয়। আন্টির সাথে কথা হয়েছে।

রাহুল , অদিতি – কি?

রনো – আমার ওই ডাইরিটা চাই , অদিতি তুই রাত্রে আমাকে জোগাড় করে দিবি।

অদিতি – আমি ,

রনো – হ্যাঁ তুই.

অদিতি – এত সোজা নয়,ওকে। ওটা ও বুকের মধ্যে আগলে রাখে। ডাইরিটা একটা বাক্সের মধ্যে, বাক্সটা দেখতে খানিকটা কাঠের গয়নার বাক্সের মতো। মে বি গয়নার বাক্সই ওটা। তাতে ওই ডাইরিটা রাখা থাকে, আর সেই বাক্সে চাবি থাকে। শুধু সেটা নয় যে আলমারিতে থাকে বাক্সটা থাকে সেই আলমারিতেও চাবি দেওয়া থাকে।

রনো – হুম , চাবি নিয়ে খুলবি।

অদিতি – চাবি নিয়ে খুলবি মানে? আমি চাইবো আর ও দিয়ে দেবে।

রাহুল – আরে শ্রী যখন বাইরে যাবে তখন তুই ওর ঘরে গিয়ে বের করে নিবি।

অদিতি – তোরা কি পাগল হয়ে গেছিস ? পারবো না , আমি তোদের মতো ডাকাত নয়।

রনো – দেখ আমিই এটা করতে পারি। কিন্তু তুই ওখানেই থাকিস তোর পক্ষে কাজটা সহজ। আমাদের পক্ষে একটু শক্ত।

রাহুল – সেটাই ,তাছাড়া আন্টি রয়েছে ।

অদিতি – শোন্, এত সোজা নয়, হ্যাঁ, ও না থাকলে ঘরে চাবি দিয়ে রাখে। ওর আলমারির চাবি থাকে ওর ব্যাগে, যেটা নিয়ে ও ইস্কুলে যায়, আর ওই বাক্সের চাবি ও গলায় যে হারটা পরে থাকে তাতে ঝোলানো থাকে।

রনো – এত খবর যখন জানিস তখন বাকি কাজটাও করতে পারবি।

অদিতি – অরে আমি ওর সাথে কয়েকদিন ছিলাম তাই জানি। ও সবসময় সাবধানে রাখে বাক্সটা , যাতে কেউ দেখতেপায় বা কারুর হাতে না যায়।

রাহুল – কি ? আমি ভুল কিছু বলিনি , ও সাইকো , রনোর দিকে তাকিয়ে সরি

রনো – সরি বলার কিছু নেই, কিছু তো প্রব্লেম আছেই, আর সেটাই ঠিক করবো এবার।ওই সাদা জামা পড়বে, কথা বলবে না একটা মেন্টাল পেসেন্টর মতো – হয় ও ঠিক হবে নাহলে আমি মেন্টাল পেসেন্ট হয়ে যাবো। অনেক হয়েছে। আমিও জানতে চাই কিসের এত দুঃখ ওর? কিন্তু ওই ডাইরিটা আমার চাই। রনো রাহুলের দিকে তাকিয়ে একটু ইশারা করলো।সোজা রাস্তায় না হলে আঙ্গুল বেঁকাতে হবে।

রাহুল – হ্যাঁ হ্যাঁ তুই এগিয়ে চল। আমরা পাশে আছি।

অদিতি – আমি নেই। সোজা রাস্তা ধরে যদি কথা হয় দেন আমি আছি।

রাহুল – চুপ কর তো, প্যার মে সবকুছ জায়েজ হয় মেরে দোস্ত। তুই যা ভাবছিস একদম ঠিক।

অদিতি – দেখ, শোন্ আমি বলি কি ,রনো তুই,একবার কথা বল শ্রীর সাথে, তুই বল তুই ওকে ভালোবেসে ফেলেছিস। নতুন করে ও শুরু করুক।

রনো – হ্যাঁ, ফের আমাকে একটা চড় মারুক।তরপর বাড়ি ছেড়েই চলে যাক।

রাহুল – মারবে, ছোঁওয়া তো পাবি। ভেবে দেখতে পারিস কিন্তু।

রনো এবার হেসে ফেললো। রাহুল – এই তো ছেলের মুখে হাসি ফুটেছে।

অদিতি – আমি কিন্তু মজা করছি না।

রনো – আমরাও না।

রাহুল – মানে আমি যা ভাবছি সেটাই ?

রনো – ইয়েস,

অদিতি – এই দাঁড়া দাঁড়া – দেখ ঝামেলা করবি না , কি ভাবছিস তোরা?

রাহুল – আমরা ভাবছি তোকে একটা সোপ স্ট্যাম্প দেব। রনো,ওটাকে সোপ স্ট্যাম্পই তো বলে। ভুলে গেছি। অনেক দিনের কথা।

রনো – আমার ও ঠিক মনে নেই, ঐরকম ই কিছু একটা।

অদিতি -সেটা কি ?

রাহুল – সাবানের মতো একটা জিনিস দেব।সাবান ভেবে আবার গায়ে মাখিস না। যাই হোক শ্রী যখন চান করতে কি রান্না করতে যাবে তুই সুযোগ বুঝে তাতে দরজার চাবি, আর আলমারির চাবির ছাপ নিয়ে আমাদের দিবি , বাকি আমরা বুঝবো। রনো ?

রনো – হুম, অদিতির দিকে তাকিয়ে বললো বুঝেছিস এবার ?

অদিতি – না, পারবো না। তার পর দেখে ফেললে।

রনো – বলবি ওকে খুঁজতে গেছিস ঘরে।

অদিতি -তোদের মতো আমি কথায় কথায় মিথ্যে কথা বলতে পারি না। যেমন তোরা সুন্দর করে লোকের ব্রেন ওয়াস করিস তেমনটা পারি না আমি। হয়েছে।

রাহুল- আরে ইয়ার চান করতে তো টাইম লাগে তখন যাবি ওর ঘরে।

অদিতি – আচ্ছা বুঝলাম না হয় আলমারির চাবি খুলে বাক্সটা পেলিও তাতে কি হবে ? বাক্সের চাবি তো ওর গলায়।

রাহুল – ন্যাকা ,ন্যাকা কথা বলিস কেন?

রনো – চাবিটা ভেঙে ফেলবো।

অদিতি – তাহলে ঘরের ,আলমারির ভেঙে ও বাক্স বের কর। আমি পারবো না।

রনো – এই শোন্ আন্টি আসছে তাই বলছি. আলমারিটা তো আর নিয়ে যেতে পারবো না সেই জন্য। আর যদি তুই একান্তই না করিস দেন অন্য রাস্তা দেখতে হবে।

অদিতি একটু সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বললো – কি রাস্তা?

রনো – ক্লোরোফর্ম।

রাহুল- একদম

অদিতি –  কি? আঁতকে উঠলো অদিতি , এই শোন্, একটা লিমিট পর্যন্ত ঠিক আছে হ্যাঁ, অত্যাধিক বাড়াবাড়ি করছিস, এটা হোস্টেল নয়, মনে রাখবি। তুই যদি এইসব ভাবিস আমি আগে গিয়ে বলে দেব শ্রীকে যে তুই ওর ডাইরি হাতাবার প্ল্যান করছিস। ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করে ইসসস , তোদের মাথা থেকেই এইসব উল্টোপাল্টা আইডিয়া বের হয়।

অদিতি -শোন্ তোরা প্লিজ কেউ এসব করিস না।

রনো – তাহলে তুই হেল্প কর।

অদিতি -চেষ্টা করছি।

রনো – চেষ্টা নয় ,কথা দে।

অদিতি – ওকে। আচ্ছা অনেক দেরি হয়ে গেছে এবার যাওয়া যাক। বাট ক্লোরোফর্মের আইডিয়াটা খুব খারাপ।

রনো -তুই এতে ভয় পাচ্ছিস। এর থেকেও আরো বড় কিছু ভেবে রেখেছি।

অদিতি – কি ?

রনো – সত্যিটা আমি জানবোই, তার জন্য ডাইরি আমার চাই, যদি কিছু তাতে পাই ভালো নাহলে শ্রীকে কিডন্যাপ করে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে ওর মুখ থাকে বের করবো সত্যিটা।

অদিতি – কি বলছিস এসব।পাগল হয়ে গেছিস নাকি?

রনো – হুম।

রাহুল – রনো স্টপ। এবার অদিতি অজ্ঞান হয়ে যাবে। বাড়ি নিয়ে যেতে অসুবিধা হবে।

অদিতি – চুপ কর তুই। রনো আমি তোর মাকে কল করবো কিন্তু।

রাহুল – আরে, রনো তোকে ভয় দেখেচ্ছে। কিডন্যাপ করা এত সোজা। চল।

রাহুল রনোর পায়ে হালকা করে মেরে ইশারা করলো। বললো হুম অদিতি ঠিক বলেছে , অন্য কিছু ভাবতে হবে।

রনো রাহুলের ইশারা বুঝেছে আর কিছু বললো না। রাহুল রনো এমন অনেক কিছু করেছে হোস্টেলে থাকাকালীন। ওদের হোস্টেল সুপারকে টাইট দেবার জন্য চুপচাপ সুপারের ঘরে চিকেন বিরিয়ানি রেখে দিয়েছিলো।সুপার নিজে ছিল ব্রাম্ভন, নিরামিষাশী, সেই কারণে মাছ মাংস রান্নায় ঘোর আপত্তি। অনেক করে বলেও কাজ হতো না, খুব ঝামেলা করলে তবে রান্না হতো। সাথেই কেন কি? কোথায়, দেরি হলে নানা প্রশ্ন, রাতে বাইরে গেলে প্রশ্ন, হাজারটা হ্যাপা। রনো আর রাহুল চিকেন বিরিয়ানি এনে ওর ঘরে রেখে দিয়ে বাইরে লুকিয়ে ছিল। সে বেচারা কি আছে প্যাকেটে খুলে যখনি দেখতে গেছে রনো আর রাহুল গিয়ে ধরেছে – চিকেন বিরিয়ানি , স্যার, আপনি চিকেন বিরিয়ানি খান। কিন্তু আমরা জানতাম আপনি নিরামিষাশী , লুকিয়ে এইসব ছি ছি। বাইরে ব্যাপারটা গেলে কি হবে বলুন তো? তবে আমরা কেন লুকাবো?

সে প্রায় পায়ে পরে বোঝতে চেয়েছে যে এই সব কেউ রেখে গেছে সে জানে না। কিন্তু রনোরা বিশ্বাস করে নি। শেষে শর্ত হয়েছে যে রনোরা খুলে বলবে না এই কথাটা আর সুপারও ওদের ব্যাপারে নাক গলাবে না।
এটা একটা ট্রেলর ,এমন অনেক কান্ড করেছে দুজনে। ভূতের ভয় দেখিয়ে ঘর খালি করিয়েছে, মারপিট করেছে। মেরে নাক ফাটিয়ে দিয়েছে। বিয়েবাড়ি থেকে কনেকে ভাগিয়ে এনে বন্ধুর সাথে বিয়ে দিয়েছে। কখনো আবার অভ্র, প্রতিম ও জুটেছে ওদের সাথে। সে সব গল্প জানে অদিতি। আর সেখানেই ভয়, এরা করতে পারে না এমন কোনো কাজ নেই।

অদিতি বললো – দেখ পুলিশ কেস হয়ে যাবে, রেজিস্ট্রেশন বাতিল হতে পারে। ইয়ার্কি নয় সবটা। শুনছিস।

রাহুল – আমরা মজা করছি রে।

অদিতি – তোদের পক্ষে কিছু অসম্ভব নয়, এসব কিছু করলে রাহুল আমি কিন্তু তোর সাথে ব্রেক আপ করে নেবো বলে দিচ্ছি .

রনো – ঠিক আছে  শ্রীর সাথে তোকেও কিডন্যাপ করে নেবো।

অদিতি – রনো, মেরে ফেলবো

রাহুল – রনো এখানেই স্টপ কর , অদিতি যা জোরে কিডন্যাপ কিডন্যাপ করে চেচাচ্ছে , এখানেই পুলিশ চলে আসবে। চল এবার।


 

রাতে খেতে এলো রনো আর রাহুল। খেতে বসে অদিতিকে রনো জিজ্ঞাসা করলো সে কোথায়? অদিতি চুপি চুপি বললো মাথা ব্যাথা করছে খাবে না বললো। একটা নিসিপ দিয়েছি। একটু পরে খাবার নিয়ে যাবো। দেখি কি করে।

রনো বললো – ঐভাবে ভিজলে অনেক কিছুই হবে। খেয়াল রাখবি। আমার মনে হচ্ছে জ্বর আসবে।

অদিতি – কি ?

রনো – আজকের ওই বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বাড়ি এসেছে. আমি দেখছি রাস্তায়। খা।

রাহুল খেতে খেতে জিজ্ঞাসা করলো – আচ্ছা আন্টি আপনি কি কি ওষুধ খান?

অদিতি চেঁচিয়ে বললো – তোর কি দরকার? ওর ধারণা ওরা ক্লোরোফর্ম এর জন্য জানতে চাইছে। কি ওষুধ খায় কোনো সাইড ইফেক্ট হবে কিনা এই সব।

রনো – আমরা হাসপাতাল থেকে অনেক ফেসিলিটি পাই সেই জন্য।

মিসেস মুখার্জী বললেন কি ওষুধ খান।

ওরা খেয়ে চলে গেলো। অদিতি বার বার মানা করেছে। কিন্তু ভয়ে ভয়ে আছে কাজ হবে কি ?

—————————————————————————————————————-

একটু রাতের দিকে অদিতি কল করলো রাহুলকে বললো রনোর কথা ঠিক শ্রীর খুব জ্বর এসেছে যেন রণকে নিয়ে এখানে আসে। অদিতি খুব ভালো করে জানে কি মেডিসিন লাগবে। কিন্তু এটা একটা সুযোগ যদি ডাইরি এখন বের করে নিতে পারে তাহলে আর ক্লোরোফর্মের কোনো ঝামেলা থাকবে না।

মিসেস মুখার্জীকে অদিতি বলেছে – আসলে নিজের লোক তো তাই ভয় করছে।  মিসেস মুখার্জীও চিন্তা করছেন। কি এমন হয়ে গেলো শ্রীর।মেডিসিন দিয়েছে তবুও জ্বর বাড়ছে। কিন্তু অদিতি একাই তো পারতো। দোলের আগেই তো রিমিতার জ্বর হয়েছিল, জ্বর বেড়েছিল খুব,  ভুল বকছিল, অদিতি রাহুলকে কল করে কি একটা মেডিসিন আনালো। ভালো হয়ে গিয়ে সে বাড়িও চলে গেলো। তবে শ্রীর কি এমন হলো ? যার জন্য তিনটে ডাক্তার লাগবে চিকিৎসা করতে। অদিতি কিছু লোকাচ্ছেনা তো? শ্রীর বাড়াবাড়ি কিছু হলো না তো। তবে কি ভিজে ভিজে এসেছে বলেই ঠান্ডা লেগে জ্বর হয়নি? বড় কিছু হলো। কৃষ্ণ তুমি সহায়, রক্ষা করো, রক্ষা করো ঠাকুর।

রনো,রাহুল এলো। মিসেস মুখার্জী শ্রীর ঘরেই বসেছিলেন।বাইরের দরজা খুললো অদিতি। ওদের চুপি চুপি বললো এই সুযোগ ডাইরি নিয়ে যা।

ঘরে এলো ওরা। রাহুল আন্টির পাশে এসে দাঁড়াতেই আন্টি বললো – কি হয়েছে শ্রীর? সত্যি করে বলো তোমরা। আমার কাছে কিছু লুকাবে না।
রাহুল – আরে কিছু হয়নি। আগে দেখতে দিন। রনো আমাদের থেকেও বড় ডাক্তার। ও যখন আছে শ্রী সুস্থ হয়ে যাবে। রনো, অদিতি বুঝলো রাহুলের কথাটা, মিসেস মুখার্জী তার মতো বুঝলেন।

রনো শ্রীর কাছে গিয়ে দেখলো। একটা ক্লান্ত মুখ, জ্বরের কষ্ট মুখে ফুটলেও,শান্ত। শ্রীর কপালে হাত দিয়ে দেখলো রনো গা পুড়ে যাচ্ছে।কখন মেডিসিন দিয়েছিস ?

অদিতি – তোদেরকে কল করার আগেই।

রনো – হুম, তাহলে একটু টাইম লাগবে।

আন্টি কিছু ভাবেন না কিছু হয়নি। ঠান্ডা লেগেই শুধু জ্বর এসেছে কিছু হবে না।
মিসেস মুখার্জী- সত্যি বলছো তো।

রনো – হ্যাঁ আন্টি, সত্যি

অদিতি -দেখলেন তো আন্টি,আমি বললাম তো আপনাকে কিছু নয়, শুধু একটু জ্বর। কিন্তু আমার খুব কাছের লোক বলে আমার ভয় করছে।

এইসময় রাহুল হঠাৎ অদিতিকে জড়িয়ে ধরে বললো – তুই ভয় পেয়েছিস? কেন রে ?তুই না ডাক্তার, দুদিন পর বিয়ে করবি বরের সারির খারাপ হলে কি করে সামাল দিবি।

অদিতি দাঁতে দাঁত চেপে বললো – ছাড়বি ?

রাহুল – এই সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে রে।

মিসেস মুখার্জী- এই ছাড়ো ওকে, একটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরছো এমন করে।

রাহুল – আন্টি আমরা তিনজনে বন্ধু

মিসেস মুখার্জী- জানি , কিন্তু ও একটা যথেষ্ট বড় মেয়ে , তুমি এইভাবে ওকে জড়িয়ে ধরবে একটা ছেলে হয়ে।

রাহুল – আন্টি, সরি,

মিসেস মুখার্জী – মনে থাকে যেন।

রনো – আন্টি, একটু চা খাওয়াবেন। আসলে ঘুমাচ্ছিলাম তো কল পেয়ে উঠে এসেছি, মাথাটা খুব ধরে গেছে।

রাহুল – আমিও খাবো।

মিসেস মুখার্জী- অদিতি একটু চা করে নিয়ে এস। আমি আর উঠতে পারছি না।

রানোর ইচ্ছা ছিল আন্টি বাইরে গেলেই ডাইরিটা হাতাবে। কিন্তু হলো না।

অদিতি চা করতে গেলো। রাহুল আর রনো বসে রইলো ঘরের মেঝেতে।

শ্রী জ্বরের  ঘোরে ভুল বকতে শুরু করেছে এবার। রনো ওর খাটের নিচে মেঝেতে বসেছিল। এবার ওর দিকে ঝুকে ডাকলো শ্রী ?শ্রী?

চোখ খুললো শ্রী। ওকে দেখেই চেচাতে শুরু করলো – চলে যাও, ছেড়ে দাও , আমাকে ছেড়ে দাও, বাঁচাও, প্রানপনে ডাকছে কাকিমা, মা, বাবা, ঠাম্মা, আমি সবাইকে বলে দেব বলে দিচ্ছি। কেশবকে বলে দেব, কেশব মেরে ফেলবে তোমাকে।

রনো বললো – শ্রী আমি রনো ? কি হয়েছে ? উঠে বসে রণকে ঠেলে সরিয়ে এককোনে জড়োসড়ো হয়ে বসে কাঁদছে, ভয়ে সিঁটিয়ে গেছে ও শুধু চেঁচাচ্ছে। শুধু একই কথা, ছেড়ে দাও। আমাকে যেতে দাও।
রাহুল – রনো সর।

রাহুল শ্রীকে বললো – শ্রী আমি রাহুল , না ওকে দেখেও একই করছে।

মিসেস মুখার্জী বললেন সরো, তোমরা বাইরে যাও। শ্রী আমি আন্টি, মা কি হয়েছে , কেউ নেই, দেখো আমি আছি শুধু।

আস্তে আস্তে আন্টি ওকে শান্ত করলো। অদিতি ও এসেছে ঘরে।

রাহুল – রনো তাহলে?

রনো – আমার ও তো তাই মনে হলো। কেউ ওকে ? সেই কারণে — কিন্তু আমার মুখে কাকে খোঁজে? যে ওকে।– তাকে দেখতে আমার মতো।

রাহুল – সেটা হলে তোকে এমনি সময়ে দেখলেই ভয়ে চেঁচাতো।

রনো – আন্টি সব জানে, আন্টিকে বলতেই হবে।

রাহুল – হুম।

ঘরে গেলো ওরা। শ্রী শুয়ে আছে। হুশ নেই ওর। অদিতি বললো ওকে ফের মেডিসিন দিয়েছে।

মিসেস মুখার্জী – অদিতি ওদেরকে চা দাও।

রনো – না, আন্টি প্লিজ বলুন, ওর কি হয়েছিল? প্লিজ বলুন, আমরা ডাক্তার, আমরা তো পারবো ওকে হেল্প করতে, ওকে এর থেকে বের করতে।

মিসেস মুখার্জী – কি বলবো, শ্রী চায় না যে ওর অতীতের ব্যাপারে কেউ জানুক।
রনো – আমরা কাউকে বলবো না। শ্রী কেও না। আপনি বলুন। প্লিজ আন্টি।

রাহুল – অদিতি বাইরে চল।

রনো – না , তোরাও থাকবি। আন্টি প্লিজ বলুন।

মিসেস মুখার্জী বললেন – শ্রী কে বোলো না। আমিও চাই ও আমাদের মতো সাভাবিক হোক। কিন্তু ও চাই না যে।

রনো – আমি কথা দিচ্ছি আন্টি, আমি ওকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনবই, কিন্তু তার জন্য আমার ওর অতীতটা জানা দরকার।

রাহুল – হুম , আর আমাদের অনেক সাইক্রিয়াটিস বন্ধু আছে তাদের সবার হেল্প নিয়ে আমরা ওকে স্বাভাবিক করবো। আপনি শুধু বলুন সবটা।

মিসেস মুখার্জী বলতে শুরু করলেন।

আগের পর্ব – রাই-কেশব (লাভ স্টোরি ) কলমে – অপরাজিতা = পর্ব ৫

 

পরের পর্ব –রাই-কেশব (লাভ স্টোরি ) কলমে – অপরাজিতা = পর্ব ৭

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!