এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > রাই-কেশব (লাভ স্টোরি ) কলমে – অপরাজিতা = পর্ব ১২

রাই-কেশব (লাভ স্টোরি ) কলমে – অপরাজিতা = পর্ব ১২


সারাটা রাত শ্রীর ফটোটা বার বার দেখে আর বুকে চেপে ধরেই কেটেছে রনোর। সকালে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে আজ যেতেই হবে ইমার্জেন্সি আছে। তৈরী হয়ে খেতে এলো রনো আর রাহুল। মিসেস মুখার্জি জানালেন যে বিকেলে তাড়াতাড়ি আসতে হবে। অনিমেষের আজ জন্মদিন ,তাই রাত্রে ঘরোয়া একটা পার্টি হবে। মাটন বিরিয়ানি হবে। অন্যসময় হলে লাফাতো রনো, রাহুল, অদিতি আজ মন নেই।রনোর মনের মধ্যে অনেক কিছু চলছে, শ্রী তাকে বিশ্বাস করবে কিনা ? রাহুল ভাবছে রনো আর শ্রীকে কিভাবে এক করবে। সাথেই ভাবছে কি করে অদিতির মান ভাঙাবে রাহুল। অদিতি রেগে আছে রাহুল আর রনোর উপরে। রাহুল সকাল থেকে অনেকবার ফোন করেছে কিন্তু অদিতি ফোন ধরেনি। খেতে এসেছে তাতেও কথা বলেনি।

প্রিয়াঙ্কা বললো – মা, শ্রী বলেছে ও আজ স্কুলে যাবে না তোমাকে হেল্প করবে। অদিতি রাহুল, রনোর দিকে তাকিয়ে বললো এই শোনো যেন আজ তাড়াতাড়ি আসা হয় বুঝেছো।

প্রিয়াঙ্কা রনোকে ইশারা করে জানালো – আমি কথা বলবো শ্রীর সাথে।

 

এদিকে খাবার টেবলেও অদিতিকে অনেক করে ইশারাতে ক্ষমা চাইলো রাহুল। কাজ হলো না। খেয়ে উঠে গেলো রনোরা অদিতি অন্যদিন রাহুলের সাথে বাইকে যায়, আজ ওদের আগেই বেরিয়ে গেলো। রাহুল অদিতির পিছনে পিছনেই দৌড়  দিলো। রনো তারপর নিজের মতো বের হলো।

অদিতি বাস স্ট্যান্ডে বসে আছে, বাসে যাবে বলে। রাহুল বাইক দাঁড় করলো। অদিতি মুখ ঘুরিয়ে নিলো।

অদিতির পাশে বসে রাহুল বললো – এবারের মতো ক্ষমা করে দে প্লিজ,আর হবে না।
অদিতি- আমি একা যেতে পারবো তুই যা।
রাহুল – দেখ আমি করতাম না, বাট রনোর পসিশনটা তুই ভাব। ওকে আমি না সাহায্য করলে কে করবে বল। বেচারা ব্যাপক ফেঁসে গেছে। তুই জানিস না কাল কি হয়েছে।

অদিতি – চমকে – কি হয়েছে ?

রাহুল – কাল আমাদের প্রিয়াঙ্কা দি দেখে ফেলেছে।

অদিতি – কি ? বলেছে তো বেরিয়ে যাবে। ঠিক করেছে

রাহুল – আরে নারে বাবা , শোন্ না।

অদিতি -কিচ্ছু শোনার নেই। এবার প্রিয়াঙ্কা দি আন্টিকে বলবে, আন্টি আমাকে কথা শোনাবে, তোদের জন্য আমাকে এইরকম একটা। ………………

রাহুল – উফফ, কিছু হবে না , পুরোটা শোন্ তো।

অদিতি- চুপ কর , নাহলে এখুনি মেরে ফেলবো। কবে চলে যেতে বলেছে প্রিয়াঙ্কা দি।

রাহুল – যেতে বলেনি।

অদিতি – বলবে। আজকে বাড়ি গেলেই আন্টি বলবে ,উফফ তোদের জন্য।

রাহুল কিছু বলতে যাচ্ছিলো দেখলো রনো এসে দাঁড়ালো। বাইক রেখে অদিতির পশে বসে বললো – এখনো রাগ করে আছিস?

অদিতি – কেন রাগ না করার মতো আর কিছু হয়েছে।

রনো – হয়েছে, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো , আর কদিন পর তো চলেই যাচ্ছি, তারপরেও রাগ করে থাকবি।

অদিতি – রাস্তায় একদম নাটক করবি না।

রাহুল- নাটক নয়, যদি শ্রী ভুল বুঝেই থাকে, চলে যায় দিল্লি ,ও এখানে থাকবে না।

অদিতি – ভুল বোঝে মানে ?

রনো – চল রাস্তায় যেতে যেতে সব বলছি।

প্রিয়াঙ্কা দির সব কথা অদিতিকে বললো রনো। অদিতির রাগ কমেছে। সাথে খুব খারাপ লাগছে চিন্তা হচ্ছে, যদি শ্রী সত্যিই না বোঝে, রনোকে না বিশ্বাস করে তাহলে।



WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।




আপনার মতামত জানান -

 

সন্ধেবেলায় ওরা এলো। বাইরের লনে একটা ছোটোখাটো পার্টির ব্যাবস্থা হয়েছে। বাইরের কেউ নয়, রনো অদিতি রাহুল, ওদিকে শ্রী, আন্টি, প্রিয়াঙ্কা আর অনিমেষ। সবাই রেডি হয়ে এলো। প্রিয়াঙ্কা ডাকলো রনোকে।

বললো শ্রীর সাথে কথা বলার সময় হয়নি। ওরা বেরিয়েছিল আর তাছাড়া শ্রী মাকে রান্নার কাজে হেল্প করেছে সো কথা বলতে পারেনি পরে কথা বলবে। সারাদিন ধরেই রনো খুব টেনশনে কাটিয়েছে, ভেবেছে কি বললো প্রিয়াঙ্কাদিকে শ্রী, বিশ্বাস করেছে শ্রী রনোকে।

কেক কাটা হলো। এবার অন্তাক্ষরী খেলা হবে। শ্রী আর রনো আনমনে দুজনেই বসে আছে। বাকিরা নিজেদের মতো আনন্দ করছে। হঠাৎ প্রিয়াঙ্কা বললো – আচ্ছা রনো আমি যতদূর জানি তুমি গান গাও। তাই তো ? প্রিয়াঙ্কা শুনেছিলো শ্রী থেকে।

রনো- আগে গাইতাম।

অনিমেষ – তাই তাহলে আজকে হয়ে যাক।

রনো – আরে দাদাভাই তেমন কিছু নয়।

অদিতি – না গো ও ভালো গান গায়।

রাহুল – এই আমার কথা কেউ বলো আমিও ভালো গান গাই।

অনিমেষ- ব্যাস তাহলে রাহুল, রনো আর শ্রী গান করবে।

শ্রী- দাদাভাই আমাকে বাদ দিন।

অনিমেষ – না, এটা আমার জন্মদিনের গিফট।

রনো জানে শ্রী গান গাইতো , দাদুকে ওদের বাড়ি গিয়ে –

“তুমি, নির্মল কর, মঙ্গল করে, মলিন মর্ম মুছায়ে ।।”

গেয়েছিল। দাদু অনেকবার বলেছে – আহা, ওই গান শুনে আমার মন ভোরে গেলো কেশব। তুমি শিখে আমাকে শুনিও তো।রনোর আর ওই গানটা শেখ হয়নি,আর দাদুকে শোনানোও হয়নি। কারুর কাছেই শেখেনি।ওই শুনে শুনে যেটুকু। গিটার শেখার শখ ছিল গিটার শিখেছিল।

রাহুল রনোর ঘর থেকে গিটারটা নিয়ে এলো। ও এখনো গিটার বজায়, গানটা আর গায় না তেমন।

রাহুল গিটার বাজাচ্ছে, শ্রী সবাইকে চা দিচ্ছে। রনোকেও দিলো। রনো গান ধরলো

” ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে
আমার নামটি লিখো-তোমার
মনের মন্দিরে।”

শ্রী বসে পড়লো। রনো তখনও গাইছে। না বাক্সর কথা কিছুই জানে না ও। আন্টিকে ও অনেক হেল্প করেছে, সময় পায়নি।

প্রিয়াঙ্কা -শ্রী গা, এটা তো তোর খুব ফেভারিট গান ছিল।

শ্রীর দমবন্ধ হয়ে আসছে , কি করে জন্য ও, কে বলেছে প্রিয়াঙ্কা দি।

অনিমেষ – এটা কিন্তু আমার জন্মদিনের গিফট শ্রী। প্লিজ।

গান শুরু করলো। খুব মিষ্টি গলা ওর, রনোর গলায় খুব মিষ্টি। রনোর মনে হলো দাদু ভুল কিছু বলেনি।

অদিতি, রাহুল অবাক শ্রী এত ভালো গান গায়।

চার পাঁচ লাইন গেয়ে আর পারলো না শ্রী, গলা বুঝে এলো। অনেক কিছু মনে পড়ছে। উঠে, ছুটে ঘরে চলে গেলো। প্রিয়াঙ্কা রনোকে ইশারা করে যেতে বললো শ্রীর কাছে।
রনো ছুটলো।

মিসেস মুখার্জী কিছুই বুঝলেন না , বললেন কি হলো , শ্রী এমন করে ছুটলো কেন আবার? রনো  বা ছুটলো কেন?

তিনিও যাচ্ছিলেন। প্রিয়াঙ্কা বললো – তুমি বোসো। রনো ওকে সামলাতে পারবে।

মিসেস মুখার্জী – রনো।

প্রিয়াঙ্কা – হুম। তুমি বরঞ্চ দেখো , বিরিয়ানি কতদূর।

মিসেস মুখার্জী- কিন্তু রনো কি করে,

প্রিয়াঙ্কা – রনো ডাক্তার মা।

মিসেস মুখার্জী এবার নিজের মতো বুঝলেন, সেদিন রনোরা বলেছিলো শ্রীকে ওরা স্বাভাবিক করবেই। সেই নিয়েই কিছু।

এদিকে অর্ধেক হওয়া গান শেষ করতে মাঠে নেমেছে রাহুল। রনোর শ্রীর মতো ভালো না হলেও বেশ ভালোই গাইছে গানটা।

————————————————————————————————————————–

 

শ্রী ঘরে দরজা ঠেসিয়ে দিয়ে আলমারি খুলে হন্যে হয়ে খুঁজছে ওর বাক্সটা , কোথাও নেই। রনো ঘরে ঢুকলো – বললো – তুমি যা খুঁজছো সেটা আমার কাছে আছে শ্রী।

 

শ্রী মাটিতে বসে পড়লো ,কাঁদছে ও। রনো ওর পাশে বসলো। রনোর কষ্টগুলোও আজ বেরিয়ে আসতে চাইছে ওর গলা দিয়ে। ধরা গলায় বললো – শ্রী আমাকে এতটুকুও বিশ্বাস করো না আর ? আমি সত্যি তোমার ঠাকুমাকে আমার মাকে তোমার সম্পর্কে ঐসব নোংরা কথা বলিনি, বিশ্বাস করো। আমি ঐসব ঘটনা কিছুই জানতাম না। আমার দাদু আমাকে সেই শিক্ষা দেয়নি। মা আমাকে বলেছিলো তোমার বিয়ে হয়ে গেছে। জানিনা কবে থেকে হয়তো তোমার মতো করে নয়, কিন্তু তুমি আমার মনে কোথাও ছিলে তাই আমি তোমার জায়গাটা আজ পর্যন্ত কাউকে দিতে পারিনি।

এবার শ্রী র হাতটা ধরে বললো – আমি মরে যাবো শ্রী,প্লিজ আর না বোলো না। তুমি তো দাদুর কথা বিশ্বাস করতে বলো ,দাদু তো বলতো তোমার সাথে আমার যোগ অনেক দিনের। তুমি তো বিশ্বাস করতে।যদি তাই না হবে তাহলে কেন এতদিন পর আমি এখন এসব, হোলির দিন কেন তোমার সাথে আমার দেখা হবে। শ্রী প্লিজ।

শ্রী কাঁদছে , খুব কাঁদছে।

রনো ওকে চেপে জড়িয়ে ধরলো। তোমাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি শ্রী। তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না , আমি কিছুতেই বাঁচবো না। তুমি আমার রাই , আমি তোমার কেশব।

শ্রী রনোকে ছাড়িয়ে দিয়ে বললো – আমি নষ্ট। ভুল তো কিছু বলোনি বলো, প্রবীর আমার সাথে যা। ……………….

রনো -আমি বলিনি শ্রী, প্লিজ বিশ্বাস করো। শ্রী, আমি তোমার সম্পর্কে এসব বলা তো দূর ভাবতেও পারি না।

শ্রী – আমি দিদিভাইদের সাথে দিল্লি যাচ্ছি, ভালো থেকো।

রনো – প্লিজ শ্রী, আমি মরে যাবো, প্লিজ এমন করো না।

শ্রী – তুমি চলে যাও।আমি একটু একা থাকতে চাই। অনেকে বুঝিয়েও কাজ হলো না।

শ্রী রনোকে বিশ্বাস করে না। রনো ওকে বলে এলো – কাল লেকে দেখা করো তোমার বাক্সটা আমি ফেরত দিয়ে দেব। ঘর থেকে চোখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে গেলো রনো। শ্রী তখনও কাঁদছে।

যেদিন শ্রী শুনেছিলো ওর কেশব বলেছে ও নষ্ট হয়ে গেছে, বিয়ে করতে পারবে না। খনিকের জন্য বিশ্বাস করেছিল। মনে হয়েছিল ওর চারপাশটা অন্ধকার হয়ে গেছে। কেউ নেই সেখানে। পরে কোথাও মনে হয়েছিল ওর কেশব এটা বলতে পারে না। দাদু কেশবের সম্পর্কে যা বলেছিলো তাতে কেশব এমন কথা বলতে পারে না। এখন বিশ্বাস করে কেশব এটা বলেনি।

মায়ের ভালোবাসা না থাকলে কি হয় জানে শ্রী, সারাটা জীবন কেঁদেছে মায়ের ভালোবাসা পাবার জন্য। কিন্তু মা শুধু সরিয়ে দিয়েছে। সেই কষ্টটা কি করে ও কেশবকে দেবে। ওর মা শ্রীকে নষ্ট মেয়ে মনে করেন। তিনি কোনো মতে মানবেন না, আলাদা হয়ে যাবে কেশব ওর মায়ের থেকে। জেনে বুঝে ও কিছুতেই কেশবকে ওর মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আর নতুন করে কি হারাবে শ্রী। কিছুই তো ছিল না ওর। শুধু বাক্স ভরা স্মৃতি ছাড়া। সেটা নিয়েই কাটিয়ে দেবে। ও তো ভাবেই নি  কেশবকে কোনোদিন সামনে থেকে দেখতে পাবে। কেশব জানবে ওকে রাই কতটা ভালোবাসে। কেশব ওকে ভালোবেসে ফেলবে সেটাই কম কি।

 

 

———————————————————————————————————————

রনো বাইরে গেলেও আর দাঁড়ালো না। আউট হাউসে চলে গেলো। ওর পিছু পিছু রাহুল গেলো। অদিতি অনিমেষ আর আন্টি গল্প করছিলো। প্রিয়াঙ্কা কিছু আন্দাজ করেছে। সে দেখেছে রনো চোখ মুছতে মুছতে চলে গেলো -প্রিয়াঙ্কা শ্রীর ঘরে গেলো।

শ্রী তখনও মেঝেতে বসে কাঁদছে।

প্রিয়াঙ্কা – কি হয়েছে শ্রী।

শ্রী – ও আমাকে খুব ভালোবাসে দিদিভাই, আমি ওর চোখ দেখেছি দিদিভাই। ও আমার জন্য সব করতে পারে।

প্রিয়াঙ্কা – তুই রাজি ,

শ্রী- না , আমি ওকে ফিরিয়ে দিয়েছি

প্রিয়াঙ্কা চেঁচিয়ে বললো – কেন? তোকে বলা হয়নি কাল রাতে ওর সাথে আমার কথা হয়েছে। ও তোকে নষ্ট মেয়ে বলেনি, ওর মা চাইনা তোর সাথে ওর বিয়ে হোক তাই ওর নাম নিয়ে মিথ্যা বলেছিলো।

শ্রী – জানি।

প্রিয়াঙ্কা -তাহলে ফেরালি কেন?

শ্রী – ওর মা চায় না দিদিভাই, ও আমার জন্য সব করতে পারে আমি জানি। হয়তো মাকে ছেড়ে দেবে আমার জন্য। সব সম্পর্ক শেষ করে দেবে মায়ের সঙ্গে  ও আমার জন্য। আমি কি করে ওকে ওর মায়ের থেকে আলাদা করবো বলো। মায়ের ভালোবাসা কি আমি জানিনা। আমার মা থাকতেও নেই। কোনোদিন সেই ভালোবাসা পাইনি আমি। ওকে কি করে সেই কষ্টটা দিই বলো।

প্রিয়াঙ্কা – এটা ঠিক হয়নি শ্রী, ঠিক করিস নি তুই।

শ্রী – আমাকে একটু একা থাকতে দেবে প্লিজ।

 


 

রনো রাহুলকে সব বলেছে। সাথে ও বলেছে যে ও আর এখানে থাকবে না।

এদিকে মিসেস মুখার্জী সবাইকে ডাকছে খেতে ডাকছেন। প্রিয়াঙ্কা বললো আমি রাহুল আর রানোকে ডেকে আনছি।

রনো কাঁদছিলো ওর কথা শুনে বোঝাই যাচ্ছে। ধরা ধরা গলায় রাহুলকে বললো – ও আমাকে বিশ্বাস করে না রাহুল, ভাবে আমি সত্যি সেদিন ওই নোংরা কথাগুলো ওর ঠাকুমাকে বলেছি। আমাকে ভালোবাসে না। চলে যেতে চায় দিল্লি।

প্রিয়াঙ্কা দরজায় দাঁড়িয়ে সব শুনেছে। বললো – না সেটা কারণ নয়, ও তোমাকে বিশ্বাস করে। কিন্তু আসল কারণ তোমাকে আর তোর মাকে আলাদা করতে চায় না। তোমাকে তোমার মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

রনো – কি ?

রাহুল – এটা কোনো কথা হলো ?

প্রিয়াঙ্কা – ওর ধারণা রনোর মা শ্রীকে মানবে না। আর রনো ওর জন্যরনো ওর মায়ের সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ করে দেবে। সো ও রণকে ওর মায়ের ভালোবাসা থেকে কিছুতেই বঞ্চিত হতে দেবে না। তাই আমার সাথে দিল্লি যাবে বলছে।

রনো – দিদিভাই আমি কি করে বোঝাবো ওকে। আমি কথা বলছি। দরজার দিকে এগোতেই প্রিয়াঙ্কা মানা করলো বললো কাজ হবে না। ও কিছু শুনবে না। এখন তো কোনো কথাই শুনবে না।

রাহুল – ওকে, সোজা কথায় কাজ না হলে তাহলে আঙ্গুল বেঁকাতে হবে। রনো মনে আছে তোর, অদিতি কিছুতে প্রথমে রাজি হচ্ছিলো না ,তুই আইডিয়া দিয়েছিলি সেটাই ক্র্যাক করে যায়। এবারে তুই সেই রকম কিছু কর।

রনো তাকালো রাহুলের দিকে। রনো – তুই এত সহজে হাল ছেড়ে দিবি, এত সহজে ছাড়িস না ।

রনো – কিন্তু

রাহুল – কোনো কিন্তু নেই

রনো – ওকে, হয় এবার নয় নেভার।

প্রিয়াঙ্কা – কি করবে তোমরা?

———————————————————————————————————————————————-

আগের পর্ব – রাই-কেশব (লাভ স্টোরি ) কলমে – অপরাজিতা = পর্ব ১১

পরের পর্ব – রাই-কেশব (লাভ স্টোরি ) কলমে – অপরাজিতা = পর্ব ১৩

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!