এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > কর্ণাটকের বিদার নাকি পুরোনো কেন্দ্র আমেঠি? ২০১৯-এ কোন কেন্দ্র থেকে প্রার্থী রাহুল গান্ধী? সামনে এল বড় তথ্য

কর্ণাটকের বিদার নাকি পুরোনো কেন্দ্র আমেঠি? ২০১৯-এ কোন কেন্দ্র থেকে প্রার্থী রাহুল গান্ধী? সামনে এল বড় তথ্য

সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কর্ণাটকের কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া জানিয়ে দিলেন, কর্নাটকের বিদার নয়, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের আমেঠি কেন্দ্র থেকেই লড়বেন রাহুল গান্ধী। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ১৯’এর লোকসভা ভোটে কর্নাটকের বিদার থেকে কংগ্রেস সুপ্রিমো লড়তে পারেন এমনটাই দাবী করেছিল বিজেপি নেতা ইয়েদুরাপ্পা।

কিন্তু কংগ্রেসের বক্তব্য, রাহুল গান্ধীকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর খবর রটিয়েছিলেন বিজেপি নেতা। তাই বিজেপির দাবী উড়িয়ে দিয়ে, এদিন সিদ্দারামাইয়া প্রকাশ্যে জানিয়ে দিলেন, ”আসন্ন লোকসভা ভোটে কর্ণাটক থেকে রাহুল গান্ধী ভোটে লড়বেন, এমন কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। উনি আমেঠি থেকেই লড়বেন”। প্রসঙ্গত, কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বরও কিন্তু জল্পনা উড়িয়ে বলেছিলেন, “বিদারে রাহুল গান্ধী জনসভা করছেন মানেই এই নয় যে, সেখান থেকেই লোকসভা ভোটের প্রার্থী হবেন তিনি”। আর আজ সেই জল্পনার সম্পূর্ণ অবসান হয়ে গেল সিদ্দারামাইয়ার কথায় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে কংগ্রেসের সংগঠন বরাবরই মজবুত। এই কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে একটানা তিন বার ভোটে জিতেছেন রাহুল গান্ধী। শুধু তাই নয়, গান্ধী পরিবারের হয়ে প্রথম ওই আসন থেকে লোকসভা জেতেন ইন্দিরা গান্ধীর ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধীও। এমনকি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীও আমেঠি থেকে ভোটে লড়েছেন। প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও এই কেন্দ্র থেকেই ভোটে দাঁড়িয়ে রাজনীতির জগতে প্রবেশ করেছিলেন। এছাড়া ২০০৪ সালে সংসদে রাহুল গান্ধী প্রবেশ করেছেন এই কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়িয়েই।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সেই সময়, রাহুল গান্ধীর জন্য আমেঠি কেন্দ্র ছেড়ে সোনিয়া গান্ধী বেছে নেন রায়বেরেলি কেন্দ্রটিকে। এরপর থেকেই আমেঠি লোকসভা কেন্দ্র রাহুল গান্ধীর সঙ্গেই রয়েছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে – সারা দেশ যখন নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করছে, মোদী ঝরে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসকে দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হচ্ছে – তখনও কিন্তু, আমেঠি কংগ্রেসকে নিরাশ করেনি। আর আগামীদিনেও, কখনো করবে না – এই বিশ্বাস রেখেই এই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র থেকে লোকসভা ভোটের প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন জাতীয় কংগ্রেস সুপ্রিমো রাহুল গান্ধী বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে মোদী ঝড়ে দিশাহারা অবস্থা হয়েছিল কংগ্রেসের। সেই অবস্থা পাল্টাতে শুরু করে ২০১৮-এর কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচন থেকে। জেডিএসের সঙ্গে নির্বাচনোত্তর জোট করে দক্ষিণের এই রাজ্য নিজেদের দখলেই রাখতে সমর্থ হয় কংগ্রেস, একক বৃহত্তম দল হয়েও ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয় বিজেপিকে। যখন, সবাই ধরে নিয়েছিল দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্য, বিজেপি শাসিত হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা – তখনই থ্রিলারের উত্তেজনায় সেখানে ক্ষমতা দখল করায়, ভূয়সী প্রশংসা হয়েছিল রাহুল গান্ধীর।

তারপর সম্প্রতি পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের নজরকাড়া সাফল্যে, পুনরায় ম্যান অব ম্যাচের খেতাব পান রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সুপ্রিমোকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখার ইচ্ছেও প্রকাশ করতে থাকেন কংগ্রেসের অনেক প্রবীণ নেতাই। এমনকি, বিরোধী দলের নেতা – যাঁরা একসময়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবিত ফেডারেল ফ্রন্টের দিকে ঝুলেছিলেন, তাঁরাও মান্যতা দেন রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ত্বে। লোকসভা ভোটের আর বেশি দিন বাকি নেই – এই প্রেক্ষিতে রাহুল গান্ধী ১৯’এর নির্বাচনে কোন আসন থেকে লড়বেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল প্রবলভাবে। বিদার লোকসভা কেন্দ্র থেকে তাঁর ভোটে দাঁড়ানোর খবর বাতাসে ঘুরছিল – কিন্তু, তার যে কোন ভিত্তিই নেই স্পষ্ট করে দিলেন কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া।

আপনার মতামত জানান -
Top