এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ঝাড়খণ্ড বিজেপির হাতছাড়া হতেই পুরুলিয়া গেরুয়া মুক্ত করতে উজ্জীবিত তৃণমূল শিবির

ঝাড়খণ্ড বিজেপির হাতছাড়া হতেই পুরুলিয়া গেরুয়া মুক্ত করতে উজ্জীবিত তৃণমূল শিবির

Priyo Bandhu Media


 

বিগত দিনে ঝাড়খণ্ডের সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের জেলা ঝাড়গ্রাম থেকে শুরু করে পুরুলিয়া, সবখানেই পাশের রাজ্য ঝাড়খন্ডে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে অ্যাডভান্টেজ পেয়েছে বিজেপি বলে মত প্রকাশ করতে দেখা গেছে স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অনেকবারই দলীয় নেতা নেত্রীরা হুংকার দিয়েছেন, ঝাড়খণ্ডের বর্ডার থেকে প্রতিবেশী রাজ্যের লোক ঢুকিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি নিজেদের সংগঠন বাংলার মাটিতে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এবার ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা

পার্টি পরাস্ত হয়ে কংগ্রেস এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা জোট সরকার ক্ষমতায় আসার ফলে অনেক বেশি উজ্জীবিত হয়েছে পুরুলিয়ার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থক থেকে শুরু করে নেতৃত্বরা। বস্তুত, বিগত দিনে ঝাড়খন্ডে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার থাকার কারণে অনেক সুযোগ সুবিধা পেত দেখা গেছে পুরুলিয়া থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী জেলার ভারতীয় জনতা পার্টি কর্মী-সমর্থকরা।

শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে একাধিকবার এলাকায় প্রচার করতে দেখা গেছে ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রিসভার বিভিন্ন মন্ত্রীদের। যার জেরে শক্তিশালী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি বলে মতপ্রকাশ করেছেন একাধিক বিশেষজ্ঞরা। ডিগত 2018 সালের পঞ্চায়েত ভোট থেকে শুরু করে 2019 সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত একাধিকবার পুরুলিয়া জেলা থেকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে দিয়ে এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টিকে।

আর এর পিছনে ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকারের প্রত্যক্ষ সমর্থন বলে অভিযোগ করতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূল নেতাকর্মীদের। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে পুরুলিয়া জেলার থানার মধ্যে 13 টি থানা ঝাড়খন্ড সীমান্তবর্তী এলাকার মধ্যে পড়ে। এই জেলার অনেক বাসিন্দাদের আত্মীয়-স্বজন ঝাড়খন্ড রাজ্যে বসবাস করে। তাই সেখানকার সরকারি দল ভারতীয় জনতা পার্টি হওয়ার সুবাদে সরাসরি প্রভাব পড়ে পুরুলিয়া জেলাতে। কিন্তু এবার ঝাড়খন্ডে ভারতীয় জনতা পার্টি পরাজিত হওয়াতে নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

শুধু তাই নয়, সোমবার যখন টিভির পর্দায় ঝাড়খণ্ডের ভোট গণনার লাইভ আপডেট আসছিল, সেই সময় অধীর আগ্রহে তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সমর্থকদেরকে টিভির পর্দায় চোখ রাখতে দেখা যায়। এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পরাজিত হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি, তখন একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে এমনকি কোনো কোনো জায়গায় রঙ মাখিয়ে আনন্দ উদযাপন করতে দেখা গেছে তৃণমূল নেতৃত্বকে।

বিজয়ী কংগ্রেস এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার বিধায়কদেরকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করে শুভকামনাও জানিয়েছে একাধিক তৃণমূল নেতা। এদিন এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সহ-সভাপতি এবং পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঝাড়খন্ডে এই ফলাফল আমাদের দল পুরুলিয়ায় অবশ্যই লাভবান হয়েছে। কারণ বিজেপির পরাজয় হওয়ায় ওদের মানি পাওয়ার এবং মাসল পাওয়ার সরবরাহ অনেকটাই কমবে।”

পাশাপাশি ঝাড়খন্ড থেকে লোক পাঠানোর ক্ষমতাও ওদের আর থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদের সভাধিপতি। আবার তৃণমূল কংগ্রেসের বন্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন অভিযোগ করে বলেন, “বন্দোয়ানের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝাড়খণ্ড সীমান্তে রয়েছে। এমনকি পুরুলিয়া জেলার বরাবাজারের দিক থেকে বন্দোয়ানে আসতে গেলে ঝাড়খণ্ডের খানিকটা রাস্তা পেরিয়ে আসতে হয়। ঝাড়খন্ড থেকে যেভাবে পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোটে বিজেপির নানাস্তরের নেতারা বাংলা তথা এই জেলায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করেছিল, তা আর থাকবে না।রাজ্যের অন্যান্য জেলার তুলনায় এই ভোটের প্রভাব পুরুলিয়া জেলায় বেশি পড়বে।”

অনেক বিজেপি নেতা বলতেন, পুরুলিয়ায় যাই হোক ঝাড়খন্ডে প্রতিশোধ তোলা হবে। সেই হুমকি বিজেপি নেতারা আর দিতে পারবে না বলে মনে করছে তৃণমূলের একাংশ। তবে তৃণমূলের তরফ থেকে আবার অভিযোগ করা হচ্ছে, অনেকেই পুরুলিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদেরকে আক্রমণ করে ঝাড়খন্ডে পালিয়ে যেত। কিন্তু এক্ষেত্রে তৃণমূলর কোনো অভিযোগ মানতে রাজি নয় পুরুলিয়ার ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্ব।

এদিন এই বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, “পুরুলিয়া জেলায় বিজেপি এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। তাছাড়া ঝাড়খণ্ডে বিজেপির ভালো ফলাফলের সময় কি পুরুলিয়ায় বিজেপির ভালো হয়েছিল! তাহলে খারাপ হলে প্রভাব কেন করবে! পশ্চিমবঙ্গের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ক্ষেত্রে পুরুলিয়া জেলা বিজেপি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”

অন্যদিকে এই ব্যাপারে তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলার সভাপতি তথা রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি জেলায় অশান্তি করে ভয় দেখিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তবে বিজেপির আগ্রাসী মনোভাবকে সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাছাড়া পাশের রাজ্যে বিজেপির নৌকাডুবি সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের লাভ রয়েছে।” আগামী দিনে সংগঠনকে ঢেলে সাজিয়ে কাজ করতে হবে বলে বার্তা দেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী।

তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতীয় জনতা পার্টির স্বীকার না করলেও, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ঝাড়খণ্ডের ফলাফলের প্রভাব পুরুলিয়া জেলাতে পড়বে। তবে ভারতীয় জনতা পার্টি যদি রাজনৈতিকভাবে জেলাভিত্তিক সংগঠনের মাধ্যমে এলাকায় শক্তিশালী হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে প্রভাব পড়লেও সেই প্রভাব কতটা কার্যকরী হবে! তা বলা যাচ্ছে না। এখন আগামী দিনে পরিস্থিতি কোনদিকে গড়ায়! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!