এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দেখা নেই পুরভোটের – শাসকদলের বিরুদ্ধে ঝড় তুলতে চলেছে বিরোধীরা

মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দেখা নেই পুরভোটের – শাসকদলের বিরুদ্ধে ঝড় তুলতে চলেছে বিরোধীরা

তৃণমূল কংগ্রেসের আয়ত্ত্বাধীন উত্তরবঙ্গের পাঁচটি পুরসভার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবারের মধ্যেই। অথচ এখনো পুরভোট নিয়ে কোনোরকম মাথাব্যাথা নেই প্রশাসনের। ভোটের দিনক্ষণ ঠিক করা তো দূরের কথা,এখনো ভোট হবে সেই ঘোষণাটাই করল না প্রশাসন। এ নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত পুরসভার শাসকদল। তাই সমস্যা এড়াতে অগ্যতা পাঁচটি পুরসভাতেই প্রশাসন বসতে চলেছে। রাজ্যসরকারের এ হেন গয়ংগচ্ছ মনোভাব দেখে সমালোচনায় সরব বিরোধীরা। পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাঘাত ঘটবে,এমন দাবী তুলেই দফায় দফায় শাসকদলকে আক্রমণ শানাচ্ছে বাম-বিজেপি-কংগ্রেসরা। তবে বিরোধীদের সমালোচনা নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নয় তৃণমূল।

জেলা সূত্রের খবর থেকে জানা গিয়েছে,গতকাল উত্তরবঙ্গের পাঁচটি পুরসভার মধ্যে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারের হলদিবাড়ি ও মেখলিগঞ্জ পুরসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। আজ এই তিনটি পুরসভায় প্রশাসক বসতে চলেছে। আলিপুরদুয়ার পুরসভায় প্রশাসকের দায়িত্বে আসছেন মহাকুমা শাসক কৃষ্ণাভ ঘোষ। মেখলিগঞ্জ পুরসভাতেও প্রশাসক হিসাবে বসছেন মহকুমা শাসক দিব্যনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়, হলদিবাড়ি পুরসভায় প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব নেবেন বিডিও সঞ্জয় পাণ্ডে। আজ,সোমবার
উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলা পুরসভা ও আগামীকাল মঙ্গলবার বালুরঘাট পুরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বালুরঘাট পুরসভায় প্রশাসক হিসাবে বসছেন সদর মহকুমা শাসক ঈশা মুখোপাধ্যায়। পুরসভা ভোটের এখনো কোনো নির্দেশিকা আসেনি বলেই জানালেন আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব আসা কৃষ্ণাভ ঘোষ।

তবে এভাবে পুরভোট নিয়ে রাজ্যসরকারের গা ঢিলেমি ভাব দেখে বিজেপি’র আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলায় বিজেপির ভালো হওয়ায় তৃণমূল আতঙ্কে রয়েছে। তাঁরা বুঝতে পেরেছে আবার ভোট হলে তৃণমূল হারবে তাই, পুরসভার ভোট সময়ে করতে চাইছে না। অন্যদিকে,পুরভোট না হওয়ার কারণ হিসাবে তৃণমূলের দুর্নীতি এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই ইস্যু হিসাবে তুলে ধরলেন পুরসভার বিরোধী দলনেতা সিপিএমের অনিন্দ্য ভৌমিক। সময়ে ভোট করা হয়নি বলে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের ছাত্র এবং যুবরা আন্দোলনে পথে নেমেছে,এমনটাই জানালেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বরঞ্জন সরকার। বিজেপির শক্তিবৃদ্ধির পাশাপাশি মূলত তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলকেই পুরভোট সময়ে না হওয়ার কারণ হিসাবে তুলে ধরেছে বিরোধীরা। অভিযোগ, এখন ভোট করলে পরাজয় অবধারিত বুঝতে পেরেই তৃণমূল কৌশলগত মাস্টারস্ট্রোক দিতে চাইছে ভোট না করি প্রশাসক বসিয়ে।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো  করুন এই লিঙ্কেখবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক

তবে বিরোধীদের এসব অভিযোগকে তেমন পাত্তা দিচ্ছে না শাসক দল। এ প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা তৃণমূলের সভাপতি উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘বিরোধীরা মামলা করার জন্য পঞ্চায়েত ভোট সামাল দিতে বেগ পেতে হয়েছে। তাই পুরসভার ভোট সময়ে করা যাচ্ছে না। তবে পুরসভায় প্রশাসক বসলেও উন্নয়ন ব্যাহত হবে না।’ একই সুরে কথা বলতে দেখা গেল পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান আশিস দত্তকে। তাঁর বক্তব্য,আগেও একবার পুরসভায় ভোট হয়েছিল প্রশাসক বসিয়ে। তাতে উন্নয়নমূলক কাজে কোনোরকম ব্যাঘাত ঘটেনি। এ প্রসঙ্গে বালুরঘাট পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান বেবী বর্মন জানান, বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কারণেই বালুরঘাট পুরসভায় প্রশাসক বসছে। বালুরঘাট পুরসভার ভোটের জন্য এখনও সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়নি। আপাতত পুরসভা গুলোতে প্রশাসক বসানো নিয়ে কর্মতৎপরতা তুঙ্গে রয়েছে শাসকদলের মধ্যে৷ বিরোধীরা যতোই শাসকদলের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় তুলুক না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনোরকম প্রতিক্রিয়া না দিয়ে দলীয় কাজ নিয়েই ব্যস্ততা জাহির করতে বেশি স্বচ্ছন্দ্য বোধ করছে তাঁরা। যোগ্য জবাব দেওয়া হবে লোকসভা ভোটের ময়দানে, এমনটাই মনে করছেন উওরবঙ্গের শাসকদলের হেভিওয়েটরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!