এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > পুরসভার টিকিট পেতে এখন থেকেই আদি ও নব্য বিজেপির তীব্র রেষারেষি শুরু! বাড়ছে জল্পনা

পুরসভার টিকিট পেতে এখন থেকেই আদি ও নব্য বিজেপির তীব্র রেষারেষি শুরু! বাড়ছে জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আগেই বনাম নব্য তৃণমূলের লড়াই নতুন কিছু নয়। তবে রাজ্যে নিজেদের ব্যাপক উত্থানের পরেই এই লড়াই চোখে পড়ছে বিজেপির মধ্যেও। শিলিগুড়ি পৌরসভা নির্বাচনে টিকিট পাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন-পুরনো বিজেপির লড়াই এখন চর্চার বিষয় রাজনৈতিক মহলের কাছে। নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ে গেলেও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে রীতিমতো ধন্দে রয়েছে পদ্মফুল শিবির।

বিজেপি সূত্রের খবর, দলের একাধিক পুরোনো এবং নতুন নেতারা টিকিট পাওয়ার উদ্দেশ্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আবার পদ্মফুলের চিহ্ন পেতে হলে অন্য দল থেকে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে তারা। যে কারণে এবার পৌরসভা নির্বাচনের টিকিট বিতরণ বড় বালাই হয়ে দাঁড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরের কাছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গের 8 জেলার দলীয় সভাপতিদেরকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসবেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির নেতারা।

আর বিশেষ সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এই বৈঠকে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি নির্বাচনী রণনীতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আর এই বিষয়কে কেন্দ্র করে এখন জোর চর্চা চলছে বিজেপির অন্দরে। শিলিগুড়ি পৌরসভার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে আর কয়েকদিন পরেই। যার কারণে আসন্ন পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে সাজো সাজো রব উঠেছে শাসক-বিরোধী সব দলের মধ্যেই।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

পদ্মফুল শিবির ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নাগরিকদের সমস্যা নথীভুক্ত করে নির্বাচনের আগে শাসকদলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। আর এর মধ্যেই দলের ভিতরে নতুন বনাম পুরনোর লড়াইয়ে রীতিমতো বিরক্ত পদ্মফুল শিবিরের নেতারা। নতুন বা পুরনো সন্ধানে নেতারাই নাকি জেলা নেতৃত্ব তথা বড় নেতৃত্বদের সঙ্গে নিজের টিকিট পাওয়ার ব্যাপারটা নিশ্চিত করতে তলে তলে যোগাযোগ রাখছেন।

এই বিষয়ে নিজেদের বায়োডাটাকে সুন্দর করে পরিবেশন করা, সাংগঠনিক দক্ষতার কথা দলীয় নেতাদের কাছে তুলে ধরা, আবার অন্য দল থেকেও কিছু নেতা মুখিয়ে রয়েছে শেষ বাজারে দৌড়ে এসে পদ্মফুলের টিকিট নিয়ে পৌরসভা নির্বাচন লড়ার জন্য। তাই এমন টালমাটাল পরিস্থিতি হওয়াতে রীতিমত চিন্তিত রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।

তাদের বক্তব্য, নির্বাচনের দিন ঘোষণা হলেই টিকিটের চাহিদা আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর সেরকম পরিস্থিতিতে দলকে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়তে হতে পারে। এদিন এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ির বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অভিজিৎ রায় বলেন, “বিজেপি পুরভোট নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করলেও প্রার্থী নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা হয়নি। নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর রাজ্য কমিটির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হবে। তাছাড়া আমাদের দলের শৃঙ্খলা রয়েছে, দল যাকে চাইবে সেই প্রার্থী হবেন। তবে শেষ কথা কাজেই। কারা প্রার্থী পদের দৌড়ে নেমেছে তা আমি বলতে পারব না।_ যদিও পৌরসভা ভোট নিয়ে যে কোনো রকমের বিশৃঙ্খলা এড়াতে রীতিমতো তৎপর হয়েছে পদ্মফুল শিবির।”

দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, উদ্বৃত্ত সংগঠন করে দলের ভিতকে রীতিমতো মজবুত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির তরফ থেকে। শিলিগুড়ির 47 টি ওয়ার্ডের মধ্যে 316 টি বুথ রয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের পরে প্রবল বিজেপি হাওয়াতে দলের সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় লক্ষ। তাই দলকে যদি এখন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে হয়, তাহলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার দরকার আছে। আর সেই কথা মাথায় রেখেই কমিটির বুথ সম্মেলন সূচনা করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই শহরের 30 থেকে 35 টি বুথ কমিটির সম্মেলন করা হয়। পৌরনীতি অনুযায়ী, নাগরিকদের সমস্যার কথা শোনা, সদাসর্বদা এলাকাবাসীর পাশে থাকা অহেতুক যে কোন ঝামেলা থেকে নিজেদেরকে এড়িয়ে রাখা, এলাকার গ্রহণযোগ্যতা সম্পন্ন বাসিন্দাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বুথ সম্মেলনগুলোতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কিছু কিছু বুথ কমিটির মধ্যে নেতৃত্বের পরিবর্তন করার কথাও আলোচনা থেকে উঠে এসেছে।

জানা যাচ্ছে, আগামী 30 সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় সমস্ত বুথ সম্মেলন সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। গোটা বিষয়ে জেলার সাংগঠনিক সভাপতি অভিজিতবাবু জানান, দলকে ভেতর থেকে শক্তপোক্ত করার উদ্দেশ্যেই রাজ্য কমিটির নির্দেশ মোতাবেক এই সম্মেলনগুলো করা হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাংগঠনিক শক্তির পাশাপাশি শুরু থেকেই যদি গোষ্ঠী কোন্দলকে শক্ত হাতে না রুখে দেওয়া যায়, অথবা নব্য পুরাতনী দ্বন্দ্বের যদি কোনো স্থায়ী সমাধান সূত্র ভারতীয় জনতা পার্টি বের করতে না পারে, তাহলে অচিরেই অন্তর্ঘাতের জেরে সাংগঠনিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে পদ্মফুল শিবিরকে।

Top
error: Content is protected !!