এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > পুজো মিটতেই আবারও বোমা-গুলির শব্দে কাঁপছে কোচবিহার! রাজনৈতিক সংঘর্ষে আতঙ্কিত স্থানীয়রা

পুজো মিটতেই আবারও বোমা-গুলির শব্দে কাঁপছে কোচবিহার! রাজনৈতিক সংঘর্ষে আতঙ্কিত স্থানীয়রা

উত্তরবঙ্গের মাটি শান্ত মাটি বলে পরিচিত থাকলেও লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই অশান্ত হয়ে শুরু করেছিল উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার এবং সীমান্তবর্তী জেলা বলে পরিচিত কোচবিহার জেলা। উত্তরবঙ্গের নানা মানুষের কাছে কোচবিহার রাজবাড়ির মন্দির অত্যন্ত দর্শনীয় স্থান হলেও লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই এলাকার রাজনৈতিক সন্ত্রাস উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলা এবং দক্ষিণবঙ্গকেও ভাবিয়ে তুলেছিল।

তৃণমূল বনাম বিজেপির রাজনৈতিক সংঘর্ষ যেন এখানকার নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। দক্ষিণবঙ্গের নানুর, নন্দীগ্রামে একসময় যে বোমা, গুলি দেখা যেত, সেই একই রেওয়াজ দেখা যায় কোচবিহারে। যা নিঃসন্দেহে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল জেলার রাজনৈতিক মহলে। তবে মাঝে শারদোৎসবের সময়গুলোতে সেইভাবে অশান্তির ঘটনা আর না ঘটায় অনেকেই আশ্বস্ত হয়েছিল যে, এবার হয়ত আর কোচবিহারে সেরকম কোনো অশান্তির ঘটনা ঘটবে না।

কিন্তু সম্প্রতি পাতলাখাওয়াতে যুব তৃণমূল কর্মীকে পিটিয়ে মেরে ফেলার যে অভিযোগ বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে উঠেছে, সেই ঘটনা আবারও কোচবিহারের রাজনৈতিক সংঘর্ষের ছবিকেই তুলে ধরল। এদিকে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা প্রবল চিন্তার ভাঁজ ফেলতে শুরু করেছে বিশ্লেষকদের কপালে।

সূত্রের খবর, শনিবার রাতে দেওচড়াই মোড়ে তৃণমূলের পার্টি অফিসে বোমা ছোড়ার ঘটনায় প্রতিবাদে রবিবার সকালে এলাকায় পথ অবরোধ করা হয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

এদিন সেই পার্টি অফিস পরিদর্শন করতে গিয়ে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ গোটা ঘটনায় বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। তিনি বলেন, “আমাদের পার্টি অফিসে বোমা মারা হয়েছে। অন্য জায়গায় আমাদের এক কর্মী ভোজালির আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সম্প্রতি এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আমরা পুলিশকে বলেছি, যারা এসব খুন, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে যুক্ত, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। না হলে আমরা আন্দোলনে নামব।”

অন্যদিকে এই ব্যাপারে একইভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে কোচবিহার জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “পুজোর আগে এবং পরে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস কায়েম করার চেষ্টা করছে। গান্ধী সংকল্প যাত্রার অহিংস কর্মসূচির নামে ওরা সহিংস কর্মসূচি পালন করছে। আমাদের কর্মীরা সংযত রয়েছেন। কিন্তু বিজেপির নেতৃত্বের কোনো লাগাম নেই।”

তবে পার্থবাবু বা রবিবাবু এই ব্যাপারে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুললেও তা সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন কোচবিহার জেলা বিজেপির সভানেত্রী মালতী রাভা রায়। তিনি বলেন, “আমরা এই সময়ে গান্ধী সংকল্প যাত্রা করে শান্তির বার্তা দিচ্ছি। তৃণমূলই বোমা মারছে। ওরা আমাদের জনসমর্থন দেখে ভয় পেয়েছে।”

তবে তৃণমূল-বিজেপি কোচবিহার জেলায় এই রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেও যেভাবে এই জেলাতে দিনকে দিন এই ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে নিঃসন্দেহে চিন্তা বাড়ছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!