এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > পুজো মিটতেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা! টালমাটাল শাসকদলের অন্দরমহল

পুজো মিটতেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা! টালমাটাল শাসকদলের অন্দরমহল


উত্তরবঙ্গে 2019 সালের লোকসভা ভোটের ফলাফল শুভকর হয়নি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে। উত্তরবঙ্গের আটটি লোকসভা সিটের মধ্যে একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি ঘাসফুল শিবির। মালদা জেলার চিত্রটিও একই। সেখানে দুটি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটিতে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী জয় যুক্ত হয়েছেন, অন্যটিতে জিতেছেন জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী। শূন্য হাতেই থাকতে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে।

বস্তুত, এবারের লোকসভা নির্বাচনের পরে সমগ্র রাজ্যজুড়ে যে ফলাফল সামনে এসেছে, তাতে রীতিমত বেকায়দায় পড়েছে শাসক দল। ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর সর্বভারতীয় তৃণমূল সভানেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক স্তরে পরিবর্তন আনেন। সেই মোতাবেক মালদা জেলার সভাপতি হিসাবে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মৌসম বেনাজির নুরকে জেলা সভাপতি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কংগ্রেস থেকে নতুন নতুন তৃণমূলে আসা মৌসমের পক্ষে মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের হাল ফেরানো ক্রমেই মুশকিল থেকে মুশকিলতর হয়ে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

সম্প্রতি ইংরেজবাজার পৌরসভায় নিজের দলের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ব্যাপারে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় রাজ্যের শাসক দলকে। জেলা থেকে শুরু করে রাজ্য সকল নেতৃত্ব এই বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এছাড়াও ব্লক কমিটি গঠন থেকে শুরু করে অঞ্চল কমিটি, গঠন সর্বত্রই জেলায় বাড়তে থাকা অভ্যন্তরীণ গোষ্টি কোন্দলের ছবি সামনে আসতে থাকে। আর এবার তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের প্রতি কার্যত জেহাদ ঘোষণা করতে দেখা গেল মালদা জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল সরকার ওরফে বাবলাকে। যেখানে বাবলাবাবুর নিশানায় রয়েছেন স্বয়ং জেলা সভানেত্রী মৌসম বেনাজির নূর।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

অতীতে জেলার অনেক নেতাই মৌসম নূরের সাংগঠনিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু এবারে বাবলা বাবু যে প্রশ্ন তুললেন, তা মালদা জেলা রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বাবলা বাবু বলেন, ” দল সঠিক পথে চালিত হচ্ছে না। দলের রাজ্য নেতৃত্বের উপর আমার ভরসা রয়েছে। কিন্তু জেলা নেতৃত্বের ভূমিকায় আমি বীতশ্রদ্ধ। সাংগঠনিক মজবুতের কারনে জেলা নেতৃত্ব কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সর্বত্র খেয়োখেয়ি এবং গোষ্ঠী বাজি চলছে। নিজের লোকেদের ঠিকাদারী পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কাছে তদবির করতেই ব্যস্ত সিংহভাগ নেতা-নেত্রী।”

এদিন জেলা সভানেত্রীকে এক হাত নিয়ে বাবলা বাবু মন্তব্য করেন, মৌসম নূর সভানেত্রী হওয়ার পর আমরা আশায় ছিলাম, তিনি রাজনৈতিক ঘরানায় বড় হয়েছেন। বরকত সাহেবকে কাছ থেকে কাজ করতে দেখেছেন। কিন্তু তিনি গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়েছেন। বাবলাবাবু দলকে সতর্ক করে বলেন, “অবিলম্বে দলের হাল না ফেরালে বিরোধীরা সুযোগ পাবে।”

গোটা ব্যাপার নিয়ে ওনার দলবদলে জল্পনায় জল ঢেলে ইংরেজবাজার পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি স্পষ্টই জানিয়ে দেন, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে বিশ্বাসী। সারা জীবন তার আদর্শ নিয়েই মানুষের জন্য কাজ করব। অন্য কোনো দলে যাওয়ার প্রশ্ন নেই। তবে এইভাবে দল চললে কতদিন সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকব তা জানি না। আর এখানেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, তাহলে কি এবার পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বাবলা বাবু!

এই বিষয়ে তিনি বলেন, “2020 সালের পুর নির্বাচনে আমি প্রতিদ্বন্দিতা করব না। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। আমি 1995 সাল থেকে ইংরেজবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর রয়েছি। পাঁচবারের ভাইস-চেয়ারম্যান। 2017 সালে কিছুদিনের জন্য দল আমাকে চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব দিয়েছিল। শহরের প্রতি আমার একটা দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই শহরে যখন আবর্জনা ও জঞ্জালে ভরে যেতে দেখেও কোনো কাজ করতে পারি না তখন কষ্ট হয়। বারবার বলা সত্ত্বেও এই ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমি কাউন্সিলর হতে চাই না।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবলা বাবু তৃণমূল কংগ্রেসের একেবারে প্রথম দিনের সৈনিক। 2006 সালে দলের জেলা সভাপতি পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একটানা তিন বছর এই দায়িত্ব সামলেছেন। বাবলাবাবু পারিবারিক দিক থেকেও বাবলা বাবুর স্ত্রী চৈতালি ঘোষ সরকার মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের মালদা জেলার সভানেত্রী হিসেবে কাজ করছেন। জেলা সংগঠনে তাদের অবদানের কথা অস্বীকার করতে পারেন না কেউই। দলের মঙ্গলের জন্য বাবলাবাবু একাধিকবার সাংগঠনিক ব্যক্তিদেরকে দলে যোগদান করেছেন।

স্বাভাবিকভাবেই এমন একজন নেতা দলের থেকে কার্যত সন্ন্যাসের পথে এগিয়ে গেলে মালদা জেলায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে যথেষ্ট বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিন এই ব্যাপারে মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মৌসম বেনজির নূর বলেন, “জেলার সাংগঠনিক পরিস্থিতিতে আমরা নিরন্তন কাজ করছি। দল পরিচালনার ক্ষেত্রে সকলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাবলাবাবুর সঙ্গে আমি কথা বলে তার ক্ষোভ নিরসনের চেষ্টা করব। তিনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। ভবিষ্যতে পৌরসভা সহ সংগঠনের কাজকর্মে তার অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগবে।”

কিন্তু জেলা সভানেত্রী যাই বলুন না কেন, বিগত দিনে পুরাতন মালদা পৌরসভা অনাস্থা ভোট থেকে শুরু করে অঞ্চল ব্লক সর্বত্র যে সাংগঠনিক দুর্বলতা ছবি সামনে আসছে, তা আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের স্বাস্থ্যের পক্ষে হিতকর নয় বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!