এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > পূজামন্ডপে আজান বাজানোয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ আইনজীবীর

পূজামন্ডপে আজান বাজানোয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ আইনজীবীর

কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারে বারেই হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান ঐক্যবদ্ধ বলে সর্বধর্ম সমন্বয়ের প্রতীক হিসেবে একমাত্র বাংলা আছে, এই দাবিও তুলে ধরতে দেখা গেছে তৃণমূল নেত্রীকে। আর এবার সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি খণ্ডচিত্র শারদউৎসবে বেলেঘাটা 33 পল্লী অধিবাসীবৃন্দ তাদের পুজোমণ্ডপে তুলে ধরলে যেন সেটাই তাদের ক্ষেত্রে কাল হয়ে দাঁড়াল।

সূত্রের খবর, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হয়েছে এই অভিযোগ তুলে এবার সেই ক্লাবের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন শান্তনু সিং নামে এক আইনজীবী। জানা গেছে, এই বেলেঘাটা 33 পল্লী ক্লাবের পূজো কমিটির সম্পাদক সহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন সেই আইনজীবী।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শিল্পী রিন্টু দাস এবার এই পুজো মণ্ডপ সাজিয়ে তুলেছেন। যেখানে দেখা গেছে, গোটা দূর্গামন্ডপ জুড়েই হিন্দু, মুসলমান এবং খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক ঝুলছে।মাঝে মাঝে হিন্দু ধর্মের প্রতীক হিসেবে চণ্ডীপাঠ, খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক হিসেবে চার্চবেল এবং মুসলমান ধর্মের প্রতীক হিসেবে আজানের সুরও শোনা যাচ্ছে। আর এটাতেই তৈরি হয়েছে বিপত্তি। পুজো শুরু হওয়ার সাথে সাথেই হিন্দু মণ্ডপে কেন আজানের সুর বাজবে! তা নিয়ে এই বেলেঘাটা 33 পল্লী ক্লাবের বিরুদ্ধে সরব হয় একাংশ। আর এবার মহানবমীতে সেই ক্লাবের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন এক আইনজীবী।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

কিন্তু যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছবি তুলে ধরা হচ্ছে, সেখানে কেন তিনি এই ক্লাব কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন! এদিন এই প্রসঙ্গে আইনজীবী শান্তনু সিং বলেন, “মন্ডপে আজান বাজিয়ে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। আমি কোনো ধর্মকে অশ্রদ্ধা করছি না। কিন্তু কখনো শুনেছেন মসজিদে গীতাপাঠ হচ্ছে, বা চার্চে চণ্ডীপাঠ হচ্ছে! পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পুজো কমিটির অধিকাংশ সদস্য শাসকদলের ছাতার নিচে থাকা লোকজন বলেই এই পুজো নিয়ে ছেলেখেলা করা হচ্ছে।”

এদিকে এই প্রসঙ্গে বেলেঘাটা 33 পল্লী পুজো কমিটির পক্ষ থেকে সেই আইনজীবী শান্তনু সিংয়ের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে সুশান্ত সাহা বলেন, “কোনো ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়নি। অভিযোগকারী কেন আজানটাই শুনতে পেলেন! উনি দুর্গাস্তোত্র শুনতে পাননি! আমরা শীঘ্রই সাংবাদিক সম্মেলন করে এর জবাব দেব।” তবে যে পক্ষ দাবিই করুন না কেন, যেভাবে বেলেঘাটা 33 পল্লী ক্লাবকে নিয়ে প্রথম থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তাতে দশমী মেটার পর সেই বিতর্ক যে থানা এবং আদালতের দরজায় গড়িয়ে যাবে, তা আঁচ করতে পারেননি কেউই। তবে এবার শেষ পর্যন্ত এই গোটা ঘটনা ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!