এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > রাজকুমার রায়ের মৃত্যুতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে তীব্র ধিক্কার কর্মচারীদের

রাজকুমার রায়ের মৃত্যুতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে তীব্র ধিক্কার কর্মচারীদের

পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট পরিচালনা করতে গিয়ে প্রিসাইডিং অফিসার রাজকুমার রায়ের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুর প্রতিবাদে আজ কলকাতার রাজপথে মুখে কালো কাপড় বেঁধে দলমত নির্বিশেষে মৌন বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন, কলকাতা পৌরনিগম কর্মচারী ইউনিয়ন, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার এমপ্লয়ীজ ফেডারেশন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদ সহ বিভিন্ন সরকারী কর্মচারী ও শিক্ষক সংগঠনসমূহ। দুপুর ৩ টে থেকে এস্প্লানেডের ওয়াই-চ্যানেলে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন রাত্রি ৮ টা নাগাদ বাড়িতে ফোন করে রাজকুমারবাবু জানান, ভোটের কাজ এখনো শেষ হয় নি, বাড়ি ফিরতে মধ্যরাত পেরিয়ে যাবে। আর এরপরেই বুথের বাইরে বেরোলে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান রাজকুমারবাবু, সুইচ অফ হয়ে যায় তাঁর মোবাইল ফোনটিও। এরপরে রাজকুমারবাবুর ছিন্নভিন্ন দেহ ঘটনাস্থল থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে রেললাইনের উপর পাওয়া যায়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ট্রেন দুর্ঘটনাতে প্রাণ গিয়েছিল রাজকুমার রায়ের, কিন্তু নির্বাচনের কাজে অংশগ্রহণকারী সরকারি কর্মচারীদের এক বৃহদাংশ সেকথা মানতে নারাজ। তাঁরা এই ঘটনার পিছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখতে পাচ্ছেন।

আর তাই আজ এস্প্লানেডের ওয়াই-চ্যানেলে দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার রাজকুমার রায়ের নৃশংস ‘হত্যা’ ও অন্যান্য ভোটকর্মীদের উপর আক্রমনের ঘটনায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে ধিক্কার জানাতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে এক ‘প্রতীকী’ মৌন বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করলেন। বিপুল রায়, প্রদীপ মিত্র, সুবীর সাহা, মন্মথ বিশ্বাস সহ অন্যান্য শীর্ষনেতাদের উপস্থিতিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির অন্যতম আয়োজক সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীল জানান, আমরা আগেই বলেছিলাম রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভয়ানক। ভোটকর্মীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে নির্বাচনী দায়িত্ত্ব পালনে পাঠালে তাঁদের প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আর বাস্তবে রাজকুমার রায়কে নিজের প্রাণ দিয়ে প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রমান দিতে হলো। আরো কতজন সরকারি কর্মচারী যে সেদিন রাজকুমার রায় হতে হতে বেঁচে গেলেন সে শুধু তাঁরাই জানেন। পঞ্চায়েত নির্বাচন অনেক রাত পর্যন্ত চলে, সকাল থেকে রাজকুমার রায় সেদিন অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করছিল। সুতরাং তাঁর এই মৃত্যু দুর্ঘটনা বা অন্য কিছু হতে পারে না, এটি একটি রাজনৈতিক ‘হত্যা’। রাজকুমার রায়ের মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল তার সত্যতা জানতে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব এবং আগামী দিনে অন্যরাজ্য থেকে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী বা কেন্দ্রীয়বাহিনীর নিরাপত্তা না পেলে আমরা সরকারি কর্মীরা ও শিক্ষকরা নির্বাচনের কাজে অংশগ্রহণ করব না।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!