এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রাজ্য সরকারের চাপ বাড়িয়ে বঞ্চনার প্রতিবাদে কলকাতায় প্রাথমিক শিক্ষকদের মহামিছিল

রাজ্য সরকারের চাপ বাড়িয়ে বঞ্চনার প্রতিবাদে কলকাতায় প্রাথমিক শিক্ষকদের মহামিছিল

আজ কলকাতার রাজপথে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের মহামিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হল। রাজ্য সরকারের ‘বঞ্চনার’ প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন ইউইউপিটিএ-র তরফে দাবি করা হয়েছে। কলকাতার এই সমাবেশে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকেই প্রাথমিক শিক্ষকরা এসেছিলেন। কেন্দ্রীয়হারে বেতন না পাওয়াতেই এই প্রতিবাদ মিছিল বলে জানা গেছে।

সংগঠনের অন্যতম শীর্ষনেতা ও আজেকের সমাবেশের অন্যতম আয়োজক এক নেতার কথায়, বঞ্চিত প্রাথমিক শিক্ষকদের মহামিছিল দেখল আজ তিলোত্তমা কলকাতা। দীর্ঘদিন পদদলিত করে রাখার চেষ্টার অবসান হতে আর বেশি পথ বাকি নেই। শিক্ষকদের কাজ পড়ানো – কিন্তু, সরকারের নীতির ফলে আজ শিক্ষকরা রাস্তায়। প্রায় ৪০,০০০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা আজকের মহামিছিলে পা মেলালেন।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে।

তিনি আরো জানান, ছিলেন বুদ্ধিজীবী মহলেরও একটা বড় অংশ। মন্দক্রান্তা সেনকে আজ এই মঞ্চে দেখা গেল। তিনি পিআরটি স্কেলের দাবীকে সমর্থন করলেন এবং বললেন পশ্চিমবঙ্গ যদি দেশের বাইরে না হয়, তবে অবিলম্বে সর্বভারতীয় স্কেল আমাদের রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদেরও প্রাপ্য।

 আরো পড়ুন :  ডিএ মামলার পর প্রাথমিক শিক্ষকদের থেকে কি রাজ্য সরকারের কাছে আরো বড় ধাক্কা আসতে চলেছে?

সংগঠনের তরফে রানী রাসমণি রোডের আজকের সমাবেশে দাবি করা হল, ভারতবর্ষের প্রতিটি রাজ্যে প্রাথমিকে নিয়োগ হয় এনসিটিই নিয়ম মেনে, উচ্চমাধ্যমিকে ন্যূনতম ৫০% নম্বর ও ২ বছরের ডিএলএড কোর্স। বেতনও দেওয়া হয় সেই যোগ্যতা অনুযায়ী – সারা ভারতবর্ষেই পিআরটি স্কেল মেনে বেতন দেওয়া হয়, ব্যতিক্রম শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ। নিয়োগ এনসিটিই নিয়ম মেনে হলেও বেতন দেওয়া হয় মাধ্যমিক যোগ্যতার।

সংগঠনের আরো অভিযোগ, বর্তমানে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘পে ইন দ্য পে ব্যান্ড’ ৫৪০০ – ২৫,২০০ টাকা ও ‘গ্রেড পে’ ২,৬০০ টাকা। যেখানে কেন্দ্রের ষষ্ঠ বেতন কমিশনের বেতন কাঠামো অনুযায়ী ‘পে ইন দ্য পে ব্যান্ড’ ৯,৩০০ – ৩৪,৮০০ টাকা ও ‘গ্রেড পে’ ৪,২০০ টাকা। সংগঠনটির বিস্ফোরক দাবি, সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হল – ভারতীয় রেলের একজন সাফাইকর্মীর বেতন যেখানে ২৯,৩৯০ টাকা, সেখানে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের একজন প্রাথমিক শিক্ষকের বেতন মাত্র ১৯,৩০৬ টাকা!

আজকের সমাবেশ থেকে আরো বলা হয়, কেন্দ্রীয় ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বাংলার একজন নবনিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষক প্রতিমাসে ১০,০১৯ টাকা কম পান। সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সেই পার্থক্য বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০,০০০ টাকার কাছাকাছি। এই ক্ষোভেরই আঁচ পড়তে চলেছে কলকাতার রাজপথে। ইতিপূর্বে রাজ্যের শিক্ষাসচিব, শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিটি জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শককে ডেপুটেশন, স্মারকলিপি প্রদান করেও বেতন বৈষম্যের কোন সুরাহা না হওয়ায় এই মহামিছিল ও মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে ইউইউপিটিএ।

আজকের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউইউপিটিএ-র সভাপতি সন্দীপ ঘোষ, সম্পাদিকা পৃথা বিশ্বাস সহ জেলা থেকে আগত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সকলেরই এক দাবি, “এক দেশ এক আইন, এক বেতন ও পিআরটি স্কেল”। আজকের সমাবেশের শেষে সংগঠনের শীর্ষনেতৃত্ত্বের তরফে দাবি করা হয়, সরকারের ঘুম ভাঙাতে আজকের জমায়েত কতটা সফল হয় সময়ই তা বলবে। তবে দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, প্রয়োজনে অনশনের কথাও ভাবা হচ্ছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!