এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > প্রাথমিক শিক্ষকদের পিআরটি স্কেলের দাবিতে এখনও পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপ সমূহ – এরপরেও সরকার নিশ্চল!

প্রাথমিক শিক্ষকদের পিআরটি স্কেলের দাবিতে এখনও পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপ সমূহ – এরপরেও সরকার নিশ্চল!

দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছিল – কিন্তু এবারে একেবারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকরা। দলমত নির্বিশেষে শিক্ষকদের মধ্যে আওয়াজ উঠে গেছে – অনেক হয়েছে, এবার যেকোন মূল্যে পিআরটি স্কেল চাই। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয়ভাবে আন্দোলন করে কলকাতার শহীদ মিনারের পাদদেশে গত ২৯ ও ৩০ শে অক্টোবর ঝড় তুলে দেয় প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বা ইউইউপিটিডব্লুএ।

আর তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘অযোগ্য’ বলে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যে ঘটনায় আরও তীব্র হয়ে ওঠে প্রাথমিক শিক্ষকদের সেই আন্দোলন। যাকে স্তব্ধ করতে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয় – পৃথা বিশ্বাস, সন্দীপ ঘোষ, মইদুল ইসলাম, বেলা সাহা, শাশ্বত ঘোষ, চন্দন চ্যাটার্জি সহ শতাধিক শিক্ষক নেতাকে। যদিও এরপরেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকরা অনশন শুরু করতেই নতি স্বীকার করে গ্রেপ্তার করা শিক্ষকদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কিন্তু এখানেই থিম থাকেননি প্রাথমিক শিক্ষকরা – নিজেদের দাবিতে অবিচল শিক্ষকদের পরবর্তী পদক্ষেপ হল –

১. গত ১৪ ই নভেম্বর মাননীয় রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাছে নিজেদের দাবিপত্র জমা দেওয়া, যেখানে রাজ্যপাল শিক্ষকদের কথা দেন তাঁদের বেতন বৈষম্য নিয়ে রাজ্য সরকারের সাথে কথা বলবেন বলে
২. গত ১৯ শে নভেম্বর শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষকদের বিধানসভায় ডেকে পাঠান বিধানসভায় এবং সেখানে শিক্ষকদের দাবিগুলি শুনে পে কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অর্থমন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন বলে জানান
৩. গত ২০ শে নভেম্বর শিক্ষকরা পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত, মোট ২৯৪ জন বিধায়ককে নিজেদের দাবির কথা জানান
৪. গত ২১ শে নভেম্বর শিক্ষকরা পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত, মোট ৪২ জন সাংসদকে নিজেদের দাবির কথা জানান
৫. গত ২৩ শে নভেম্বর শিক্ষকদের দাবীর স্বপক্ষে মহামিছিল হয় এবং কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের শিক্ষকদের দাবীর পক্ষে প্রমান দেওয়া হয়

এর পরিপ্রেক্ষিতে উস্থির শীর্ষনেতৃত্ত্বের বক্তব্য, আমরা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি শীর্ষ জনপ্রতিনিধিদের আমাদের দাবির কথা জানিয়েছি। কিছুদিন আগেই বাম এবং কংগ্রেস বিধায়করা বিধানসভায় প্রাথমিক শিক্ষকদের বঞ্চনার বিষয়টি উল্লেখ করেন। কিন্তু, সরকার পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলতেই বাধা দেওয়া হয়। আর এই কারনেই বিরোধী বিধায়কেরা বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট পর্যন্ত করেন। ডিসেম্বর মাস আগত, রাজ্যের প্রতিটি শিক্ষক ব্যস্ত থাকবেন স্পোর্টস, বাৎসরিক পরীক্ষা ও তার রেজাল্ট তৈরি নিয়ে।

তাঁদের আরও বক্তব্য, আমরা শিক্ষক সমাজ – দায়িত্ত্ববান ও সংবেদনশীল, কোনমতেই এমন পদক্ষেপ কোনোদিন নিই নি যাতে সমাজের ক্ষতি হয় এবং আগামী দিনেও এরকম কোন হঠকারী পদক্ষেপ নেব না। তাই, আমরা ডিসেম্বর মাসে কোন কর্মসূচি নিচ্ছি না। কিন্তু জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকেও যদি সরকার পক্ষ বেতন বৈষম্য নিয়ে কোন রকম উচ্চবাচ্য না করেন – আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে রাস্তায় নামতে বাধ্য হব। আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আমরা এই রাজ্যের শাসক এবং বিরোধী সব প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনকে অনুরোধ করব – আপনারাও প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যায্য বেতনের দাবিতে এই বৃহত্তর আন্দোলনে শামিল হয়ে সরকারের উপরে চাপ সৃষ্টি করুন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!